ক্ষমা চাইলেন তুষার,


সুরমা টাইমস ডেস্ক :: গত রবিবার সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করার পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম তুষারকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এ নির্দেশের পর সোমবার রাতে নেতাকর্মীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে এবং বহিষ্কারের ব্যাখ্যা দিয়ে ব্যাক্তিগত ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন আব্দুল আলীম তুষার।

পাঠদের জন্য স্ট্যাটাসটি হুবুহু তুলে ধরা হল-

প্রিয় ছাত্রলীগের ভাইয়েরা ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থেকে মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমার ছাত্ররাজনীতির সমাপ্তি ইতোমধ্যে হয়েছে। মাঝে সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের বর্ধিত কমিটিতে কৃষি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছি। ছাত্রলীগের সাথে আমার দীর্ঘ এক দশকের পথচলা। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন কর্মী হতে পেরে আমি গর্বিত। প্রিয় সহযোদ্ধা, অগ্রজ ও অণুজেরা আমার সব সফলতার পেছনে আপনাদের অবদানই মূখ্য ছিল। আপনাদের ভালোবাসা আছে বলেই আমি এতদূর আসতে পেরেছি। আপনাদের সাথে আমার দীর্ঘ এই পথচলায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হয়তো অনেক ভূল-ত্রুটি হয়েছে, সংগঠনকে গতিশীল ও শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখতে গিয়ে অনেকের সাথে মনোমালিন্য হয়েছে, অনেককে ধমক দিয়েছি, শাসন করেছি, দয়া করে আপনারা আমাকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আমার রন্দ্রে রন্দ্রে মিশে থাকা এক সংগঠনের নাম। আমি চাইলেও বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে ভূলে থাকতে পারবো না। কারণ আমার শৈশব, কৈশোর আর যৌবনের আবেগ আর ভালোবাসার সংগঠনটি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এই সংগঠনের যে কোন কর্মীর দুঃখ আমাকে ব্যথিত করে, তাকে সাহায্য করতে না পারলে আমার মন কাঁদে, যার কারণে আমি অনেকের কাছেই রগচটা হিসেবেও পরিচিত। প্রিয় ভাইয়েরা, দলের দুঃসময় ও জামাত, বি এন পির ডাকা প্রত্যেক হরতাল, অবরোধে আমি সামনে থেকে লড়াই করেছি যার দরুন আমি মূল্যায়িত হয়েছি। একে একে ওয়ার্ড থেকে মহানগরের সম্পাদক এবং সর্বশেষ সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি।
কিন্তু আমার শেষটা এভাবে চাইনি! একটি সুন্দর সমাপ্তি চেয়েছিলাম। আমাকে যে অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে আমি তাতে বিষ্মিত হয়েছি! কারণ আমি ছাত্রলীগের সেই তুষার যে ছাত্রদলের হাতে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম দীর্ঘ দিন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাহিরে গিয়েছিলাম। আমাকে যে জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ বহিষ্কার করেছে সে বিষয়টি আমি পরিষ্কার করতে চাই, চন্দনটুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে স্বাধীনতার পরে এই প্রথম আমার নেতৃত্বে নৌকা প্রতিক জয় লাভ করেছে। যে কেন্দ্রটি বিএনপির ঘাটি হিসেবে পরিচিত, সেই কেন্দ্রে আমি নৌকাকে ৫৫০ ভোটের ব্যবধানে পাশ করিয়ে এনেছি। এজন্য জামাত, বিএনপির নেতা, কর্মীদের হুমকির সম্মুখীন হতে হয়েছে আমাকে অনেকবার। আমি জামাত, বিএনপির সাথে আতাতের রাজনীতি করি না, এটাই কি তাহলে আমার ভূল?

আমার বিরুদ্ধে ভূল তথ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে বিভ্রান্ত করেছেন স্বার্থান্বেষী একটি মহল। আমি শত চেষ্টার পরও মহানগর ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারিনি অদৃশ্য একটি সিন্ডিকেটের কারণে। সিসিক নির্বাচনের কাজকে বেগবান করার লক্ষ্যে অনেক বাঁধার পরেও আমি ওয়ার্ড ছাত্রলীগের কমিটিগুলো গঠন করেছিলাম। যার ফলটা সবাই পেয়েছেন। আমি মাই ম্যনের রাজনীতি করিনি বলেই দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের পছন্দমত সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগ ও মদনমোহন কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করেছিলাম, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে যে মদন মোহন কলেজ ছাত্রলীগের ইউনিটটি কমিটি বিহীন ছিল।

আমার দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রে ঝামেলা করায় আমাকে শাসিয়েছিলেন, আমি মাথা পেতে নিয়েছি কারণ তারা আমার নেতা, তারা অনেক কিছু বলতে পারেন। আমি দলের ভালোর জন্য করেছি, তাদের দৃষ্টিতে হয়তো এটি খারাপ লেগেছে। কিন্তু এই কেন্দ্রে নৌকা ফেল করলে আমাকে দায়ি করতে পারতেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কোন নির্দিষ্ট প্রমান ছাড়া আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যাই হোক সংগঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।

আমি বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগ করি, শেখ হাসিনার ছাত্রলীগ করি। রাজপথ থেকেই আমার উত্থান, রাজপথই আমার ঠিকানা। আপনাদের সাথে আমাকে পাবেন সকল ক্রান্তিকালে। আগামী সংসদ নির্বাচনেও আমি দলের জন্য সামনে থেকে জামাত, বিএনপির দেশবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে যাবো। ছাত্রলীগের শেষ আশ্রয়স্থল, আমাদের স্বপ্ন সারথি দেশরত্ন শেখ হাসিনার জন্য বুকের তাজা রক্ত দিতে আমি সর্বদা প্রস্তুত। পরিশেষে সবার কাছে আমি আবার ও ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। দেখা হবে রাজপথে।

Sharing is caring!

Loading...
Open