শিলংয়ের আদালতে সালাউদ্দিনের রায় নিয়ে যা হয়েছিল……..

সুরমা টাইমস ডেস্ক:: ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে করা মামলায় শিলংয়ের আদালতে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদের রায়ের দিন পিছিয়ে আগামী ১৫ই অক্টোবর ধার্য করা হয়েছে।

আর এ রায় পেছানোর নিয়ে ঘটে নানা নাটক। শুক্রবার (২৮শে সেপ্টেম্বর) রায় দেয়ার তারিখ থাকার কারনে সকালেই আদালতে হাজির হন সালাউদ্দিন আহমদ, কিন্ত জানা যায় সরকার পক্ষের আইনজীবী রাজিব নাথ অসুস্থ তাকার কারণে তিনি আদালতে আসতে পারেন নি। সাংবাদিকরা তার সাথে দেখা করার অনেক চেষ্টা করলেও দেখা করতে পারেন নি।
এ নিয়ে প্রতিবেদবকের সাথে কথা বলেন বাংলাদেশ থেকে আসা সাংবাদিক আব্দুল মুকিত অপি- আমরা এ মামলার রায়ের বিষয়ে কথা বলার জন্য সরকার পক্ষের আইজীবীর সাথে দেখা করার অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু, তিনি জানান তিনি অসুস্থ এবং এ বিষয়ে তিনি কথা বলতে রাজি নন।

অন্যদিকে শুক্রবার থাকার কারণে সালাউদ্দিন আহমদ নামাজের সময় নামাজে চলে যান। দুপুরের দিকে শিলংয়ে আদালতের অফিসিয়াল eCourt সাইটে জানানো হয় রায়ের তারিখ পিছিয়ে করা হয়েছে ১৫ই নভেম্বর। এ খবর পাওয়ার পর সাংবাদিকরা কথা বলতে চান সালাউদ্দিন আহমদের আইনজীবী এস পি মোহন্তর সাথে, তবে এখানেও সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হননি তিনি।

অনেক চেষ্টার প্রতিবেদকের সাথে কথা বলতে রাজি হন। তবে তিনি বেশি কিছু বলতে রাজি হননি। শুধু বলেন বিচারক না থাকায় নতুন তারিখ পরেছে। এ পরে আর বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আদালতে ফিরেন নি।

বিকাল ৪টার পর ঘটে নাটকীয় ঘটনা। আবারও আদলাতের অফিসিয়াল eCourt সাইটে জানানো হয় রায়ের নতুন তারিখ তারিখ ১৫ নভেম্বর নয়, ১৫ অক্টোবর।

শুক্রবার বিচারক হাকিম ডিজি খার সিংয়ের আদালতে এ মামলার রায় ঘোষণার কথা ছিল। এরআগে আরেক দফা রায়ের তারিখ পেছানো হয়েছিল। গত ২৫ জুন উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ১৩ আগস্ট রায়ের তারিখ ঘোষণা করেন। কিন্তু পরে তা পিছিয়ে ২৮ সেপ্টেম্বের দিন ধার্য করা হয়।

১৯৪৬ সালের ১৪ ধারা অনুযায়ী, অবৈধ অনুপ্রবেশ আইনে করা মামলায় ২০১৫ সালের ২২ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দেয় শিলং পুলিশ। এতে বলা হয়, বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদের শিলংয়ে আকস্মিক উপস্থিতি উদ্দেশ্য প্রণোদিত। বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি অভিযোগের বিচার এড়াতে তিনি ভারতে এসেছেন।

এ মামলায় আদালত সালাউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য রেকর্ড করেন। এ ছাড়া তাকে শিলংয়ে পাওয়ার পর যে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়, সেই হাসপাতালের দুই চিকিৎসকসহ ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে পাঁচ বছরের সাজা হতে পারে সালাহউদ্দিন আহমেদের।

আদালতের সরকারী কৌসুলি আইসি ঝাঁ জানান, সালাউদ্দিন আহমেদ অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছেন। এবিষয়ে সব তথ্যপ্রমাণ আদালতের কাছে হাজির করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, তারা প্রমাণ করতে পেরেছেন, সালাউদ্দিন আহমেদ অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছেন। তাই সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন তারা।

এদিকে, সালাউদ্দিন আহমেদের আইনজীবী মনে করছেন তারা ন্যয়-বিচার পাবেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open