গোলাপগঞ্জে তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীর সাথে নৌকা প্রার্থীর লড়াই……..

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি :: সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে ৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী ভোটযুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন। নির্বাচনকে ঘিরে পৌর এলাকা এখন পোস্টার, ব্যানার আর ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। গ্রামের অলিগলি, হাটবাজার ও দোকানপাটে চলছে নির্বাচন নিয়ে কথাবার্তা। প্রার্থীর পক্ষে মাইকিংয়ে মুখরিত হয়ে উঠছে গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকা।

নির্বাচনে জিততে ভোট চেয়ে প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন আর দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। শুধু প্রার্থীরাই নয় ভোটারদের কাছে টানতে মাঠে নেমেছেন প্রার্থীদের সমর্থক ও কর্মীরাও। প্রচণ্ড রোদের তাপ উপেক্ষা করে তারা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিরামহীন প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছেন।

উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জাকারিয়া আহমদ পাপলু (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আমিনুল ইসলাম রাবেল (জগ), স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সহসভাপতি মহিউসুন্নাহ চৌধুরী নার্জিস (নারিকেল গাছ), পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহিন (মোবাইল) প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী নিয়ে শুরু থেকে নানা নাটকীয়তা হয়। বিএনপির দলীয় প্রতীকে এখানে কোন প্রার্থী নেই। বিএনপি থেকে রাজু আহমদ চৌধুরী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও তার জমা দেওয়া হলফনামায় তথ্যগত ভুল থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে উপজেলা নির্বাচন অফিস। এরপর আর তিনি মনোনয়নপত্র ফিরে পাওয়ার জন্য আবেদনও করেননি।

সর্বশেষ পৌর নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহিন উপনির্বাচনে অংশ নিলেও এবার তিনি বিএনপির প্রার্থী হননি। বিএনপির আরেক নেতা সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি মহিউস-সুন্নাহ চৌধুরী নার্জিসও বিএনপির প্রার্থী হননি।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জাকারিয়া আহমদ পাপলু এ প্রতিবেদককে জানান, বিগত সময়ে সি গ্রেডের পৌরসভাকে আমি আমার কর্মদক্ষতার মাধ্যমে এ গ্রেডে উন্নীত করেছি। আমার বিগত দিনের উন্নয়নের কথা বিবেচনা করা পৌরবাসী উন্নয়নের প্রতীক নৌকাকে বিজয়ী করবে।

স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আমিনুল ইসলাম রাবেল বলেন, গোলাপগঞ্জ পৌরসভাকে মডেল পৌরসভায় রূপান্তর ও দুর্নীতিমুক্ত করতে পৌরবাসী তাদের রায় ‘জগ’ প্রতীকের পক্ষ দিবে। আমি নির্বাচিত হলে পৌরসভা সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহিন জানান, পৌরবাসী অনেক প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। তাদের এসব প্রত্যাশার পূরণে আমি পৌরবাসীর পাশে থাকতে চাই। আমি আমার বাকি জীবন পৌরবাসীর খেদমত করে কাটিয়ে দিতে চাই। আশা করি পৌরবাসী যোগ্যতার বিচারে আমার মোবাইল প্রতীকের পক্ষে রায় দিয়ে আমায় বিজয়ী করবে।

পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে সাড়ে ১৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা গঠিত হয়। এ পৌরসভা প্রতিষ্ঠাকালে তৃতীয় শ্রেণীর পৌরসভা (২০০১) ছিল। এটি ২০০৯ সালের ১১ নভেম্বর তৃতীয় শ্রেণী থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীর পৌরসভা এবং ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হিসেবে গোলাপগঞ্জ পৌরসভাই হচ্ছে সিলেট জেলার মধ্যে সর্বপ্রথম পৌরসভা। গোলাপগঞ্জ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার ২১ হাজার ৬শ ৩২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ হাজার ৯৫৮ জন এবং মহিলা ভোটার ১০ হাজার ৬৭৪ জন।

গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছে আওয়ামী লীগ। প্রথম দুটি নির্বাচনে মেয়র হয়েছিলেন ছাত্রলীগের তরুণ নেতা জাকারিয়া আহমদ পাপলু। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল জব্বার চৌধুরী। তার মৃত্যুর পর এই পৌরসভায় উপনির্বাচন হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে আগামী ৩ অক্টোবর ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দমতো প্রার্থীদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন এ প্রত্যাশা করেছেন গোলাপগঞ্জ পৌরবাসী।

এদিকে গোলাপগঞ্জ পৌর নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশন সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। কোন প্রার্থী যাতে আচরণবিধি লঙ্ঘন করতে না পারে সেদিকে নির্বাচন কমিশনের লক্ষ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

Sharing is caring!

Loading...
Open