‘সব দুর্নীতিবাজ এখন এক হয়েছে’

সুরমা টাইমস ডেস্ক:: বিএনপির সঙ্গে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের ঐক্যপ্রক্রিয়া নিয়ে মোটেও বিচলিত নন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ কথা জানিয়ে তিনি ড. কামাল হোসেন, এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ ঐক্যপ্রক্রিয়ায় যোগ দেওয়া কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তাঁদের কঠোর সমালোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব দুর্নীতিবাজ এখন এক হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি সাধুবাদ জানাই, তারা এক হতে পেরেছে। জনগণ ভোট দিলে তারা ক্ষমতায় আসবে। আর তারা ক্ষমতায় এলে আবারও লুটপাট শুরু হয়ে যাবে।’

নিউ ইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। স্থানীয় সময় রবিবার সন্ধ্যায় ম্যানহাটানের হিলটন হোটেলে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ক্ষমতা তাঁর কাছে ভোগের নয়। জনগণের জন্য কাজ করতেই তিনি এসেছেন। তাঁর সময়ে নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তিনি আবারও নৌকায় ভোট দিতে দেশের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের মানুষের দিনবদলের কথা বলেছিলাম। আজকে বাংলাদেশের মানুষের দিনবদল হয়েছে।’

বিএনপির ক্ষমতায় থাকার সময়ের বিভিন্ন দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মা ও ছেলে দুজনই দুর্নীতি করেছে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তো আমি মামলা দিইনি। মামলা দিয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। তারই আপনজন। দশ বছর তদন্ত চলেছে। সেই মামলায় শাস্তি হয়েছে তার।’

সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আর মানুষ শান্তিতে থাকলে বিএনপি অশান্তিতে থাকে।’ তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘এখন সরকার উত্খাত করতে হবে কেন? কী কাজটা করি নাই দেশের জন্য?’ তিনি বলেন, ‘দেশে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১২৩ ভাগ বাড়িয়েছি। পৃথিবীর কোন দেশে এমন আছে? প্রত্যেকের মাথাপিছু আয় বেড়েছে।’ গ্রামীণ উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন চাইলে আওয়ামী লীগকে ভোট দিতে হবে।’ প্রবাসীদের বিভিন্ন সময়ের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে তাদেরও ভূমিকা রাখতে হবে। বক্তব্যের একপর্যায়ে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাঁর অনুরোধে পদ্মা সেতু নিয়ে আমাদেরকে দুর্নীতিবাজ বানানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।’

শেখ হাসিনা জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে পাকিস্তান সরকার ও তাদের গোয়েন্দা সংস্থা যত রিপোর্ট দিত, সেগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে। ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত সেসব গুরুত্বপূর্ণ দলিলের ওপর কাজ চলছে। এরই মধ্যে এক খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে বাকিগুলো করা হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কেউ আর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসকে বিকৃত করতে পারবে না।’

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী।

জাতিসংঘের ৭৩তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে লন্ডন হয়ে রবিবারই যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছান শেখ হাসিনা। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দুপুরে নিউ জার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি বিমানবন্দরে নামলে তাঁকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন। বিমানবন্দরের বাইরে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিল আওয়ামী লীগের প্রবাসী নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে বিক্ষোভ দেখাতে উপস্থিত ছিল বিএনপির নেতাকর্মীরা। দুই পক্ষের উপস্থিতিতে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ তাদের দুই দিকে সরিয়ে দেয়।

এই সফরে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতেও যোগ দেবেন। রোহিঙ্গা সংকটের কার্যকর সমাধানের উপায় খোঁজার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী চলমান গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো নিয়েও কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে বরাবরের মতো বাংলায় বক্তব্য দেবেন তিনি। ২৯ সেপ্টেম্বর তাঁর দেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর তিন প্রস্তাব

মিয়ানমারে সব রোহিঙ্গার সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শরণার্থীবিষয়ক বৈশ্বিক কম্প্যাক্টের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিন দফা প্রস্তাব দেন। এগুলো হলো—১. মিয়ানমারকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো প্রকৃত ও সময়োপযোগী সমাধানের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক সব আইন, নীতি ও চর্চা বিলোপ করতে হবে। ২. সব রোহিঙ্গার সুরক্ষা, অধিকারের নিশ্চয়তা ও নাগরিকত্বের রূপরেখার মাধ্যমে আস্থা ফেরাতে মিয়ানমারকে অবশ্যই অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। প্রয়োজনে মিয়ানমারের ভেতর সব বেসামরিক নাগরিকের সুরক্ষায় ‘সেফ জোন’ (নিরাপদ অঞ্চল) প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ৩. জবাবদিহি ও বিচারের মাধ্যমে, বিশেষ করে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের সত্যানুসন্ধানী দলের সুপারিশ অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা প্রতিরোধ করতে হবে।

এর আগে স্থানীয় সময় সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের ৭৩তম সাধারণ পরিষদে তাঁর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেন। সকালে যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজনে মাদকের চ্যালেজ্ঞসংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের সভায় যোগ দেন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি যোগ দেন। বাংলাদেশসহ ২৯টি দেশ এই অনুষ্ঠানের সহ আয়োজক।

Sharing is caring!

Loading...
Open