কমলগঞ্জে মস্তকবিহীন লাশের পরিচয় শনাক্ত,৭জন আটক

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ধলই চা-বাগানের একটি প্লান্টেশন এলাকা থেকে উদ্ধারকৃত মস্তকবিহীন নারীর পরিচয় মিলেছে। নিহত নারী শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালিঘাট চা-বাগানের বৈষ্ণবী ইরানী তাঁতী (২৫)।

গত রোববার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ জনকে আটক করে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ।

শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টায় ধলাই চা বাগানের ১নং প্লান্টেশন এলাকা থেকে মস্তকবিহীন অবস্থায় বৈষ্ণবী ইরানী তাঁতীর লাশ কমলগঞ্জ থানা পুলিশ উদ্ধার করেছিল। মৌলভীবাজারের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল সার্কেল) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

কমলগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক চম্পক ধাম জানান, ধলই চা-বাগান কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মস্তকবিহীন নারীর লাশের খবর পেয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল থেকে লাশের সুরতহাল তৈরির পর অজ্ঞাত পরিচয়ের হিসাবে মস্তকবিহীন নারীর লাশ উদ্ধার করেছিল। সে সময় নিহত নারীর পরনে সাদা রংয়ের শাড়ি ছিল। লাশের সুরতহাল ও ঘটনাস্থলের সংগৃহীত আলামতে ধারনা করা যায়, বৈষ্ণবীকে নির্যাতনের পর গলা কেটে মস্তকবিহীন অবস্থায় এখানে ফেলে যায় হত্যাকারীরা।

উপপরিদর্শক চম্পক ধাম আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে নিহত নারী শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালীঘাট চা-বাগানের দেব তাঁতী ও সেতু তাঁতীর মেয়ে। তিনি কালীঘাট চা-বাগানের ফাঁড়ি চা-বাগান ফুলছড়ার কৃষ্ণ মন্দিরে সেবায়েত হিসাবে কাজ করতেন। বৈষ্ণব হিসাবে তিনি প্রায়ই কমলগঞ্জের সীমান্তবর্তী ধলই চা-বাগানের শ্রমিক বস্তিতে এসে ভিক্ষা করত। বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) থেকে তিনি নিখোঁজ হন। বৃহস্পতিবার তিনি ধলই চা-বাগানের রামচন্দ্রের বাড়িতেও এসেছিলেন। শনিবার দুপুরে ধলই চা-বাগানের প্লান্টেশন মস্তকবিহীন অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়।

এদিকে পুলিশ ধলাই চা-বাগান থেকে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ জনকে আটক করছে। আটককৃতরা হলেন- মো. হাসান (৩৫), প্রেম সাধু (৫০), উত্তম সাধু (৩৫), দয়াল সাধু (৪৫), রাম চন্দ্র পাশী (৫০), রতন পাশী (৩৫) ও যাদু পাশী (২২)। তারা সকলই ধলই চা-বাগানের বাসিন্দা।

কমলগঞ্জ থানার এসআই চম্পক ধাম বলেন, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্থানীয় ধলই চা-বাগান থেকে ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে কমলগঞ্জ থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান মস্তকবিহীন নারীর পরিচয় পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু তথ্য বের হয়েছে। তবে আরও সঠিক তথ্য সংগ্রহে জোর পুলিশি তদন্ত চলছে। শীঘ্রই এ হত্যাকাণ্ডের আসল তথ্য বের হবে বলে তিনি মনে করেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open