কমলগঞ্জে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন……..

কমলগঞ্জ সংবাদদাতা::   কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের টিলাগড় গ্রামে হামিদ মিয়া যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। স্বামীর অকথ্য নির্যাতনে স্ত্রীর বাম চোখে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত প্রাপ্ত হলে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় হামিদ মিয়া তার নিজ বাড়িতে নির্যাতনের এ ঘটনা চালায়। এ ঘটনায় হামিদ মিয়ার শ্বাশুড়ী বাদি হয়ে কমলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টিলাগড় গ্রামের রইছ মিয়ার ছেলে হামিদ মিয়ার সাথে দুই বৎসব পূর্বে একই গ্রামের মন্নান মিয়ার কন্যা বাবলী আক্তার (২২) বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিবাহের পর হতে যৌতুক নিয়ে নানা সময়ে হামিদ মিয়া ও তার মা হাসনা বেগম বাবলী আক্তারকে নির্যাতন করে আসছে। নির্যাতিত বাবলীর মা রিমা বেগম বলেন, যৌতুকের জন্য মেয়ের জামাই নানা সময়ে নির্যাতন করেছে। তাই মেয়ের শান্তির কথা চিন্তা করে মেয়ের জামাইকে বিভিন্ন সময়ে দেড় লক্ষ টাকা প্রদান করেছি। এরপরও নির্যাতন থেমে থাকেনি। ঘটনার দিন হামিদ মিয়া ও তার মা হাসনা বেগম যৌতুকের বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বাবলী আক্তারকে অকথ্য নির্যাতন চালায়। তাদের নির্যাতনে বাবলীর বাম চোখ, হাত, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয়। খবর পেয়ে রিমা বেগম আশপাশ এলাকার লোকদের সহায়তায় মেয়েকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় শ্বাশুড়ী রিমা বেগম বাদি হয়ে হামিদ মিয়া সহ তিনজনকে অভিযুক্ত করে শুক্রবার রাতে কমলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ বিষয়ে যৌতুকের বিষয়টি অস্বীকার করে হামিদ মিয়া বলেন, আমি বিদেশ যাওয়ার জন্য কিছু টাকা সংগ্রহ করে রাখি। এই টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটির সময়ে পারিবারিক ঝগড়াঝাটি হয়। এ সময়ে বাবলী রাগাম্বিত হয়ে আমাকে মারতে চাইলে আমি বাধা প্রদান করি। তবে তাকে কোন নির্যাতন করা হয়নি।

অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা শমশেরনগর ফাঁড়ির এসআই আবু সায়েম এর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে শমশেরনগর ফাঁড়ির ইনচার্জ অরুপ কুমার চৌধুরী বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open