পরকীয়ার বলি রথীশ চন্দ্র হত্যায় স্ত্রী ও প্রেমিকসহ দুইজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

সুরমা টাইমস ডেস্ক:: রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের এসপিপি আইনজীবি রথীশ চন্দ্র ভৌমিক ওরফে বাবুসোনা হত্যা মামলায় স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার ওরফে দীপা ভৌমিক এবং তার প্রেমিক কামরুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে রংপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট এর আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

এই মামলায় অভিযুক্ত চারজনের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত মিলনসহ অপর ৪ আসামিকে মামলার চার্জশিট থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর রংপুরে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করার পর সোমবার দুপুরে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান পিপিএম নিজ কার্যালয়ে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য দেন।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ‘এই মামলায় ৮০০ পৃষ্ঠার বেশি নথিপত্র আদালতে জমা দেয়া হয়েছে। ৫ মাস ১২ দিনের মাথায় চার্জশিট জমা দিয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘দু’সপ্তাহ আগে নিহত বাবুসোনার ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। হত্যার দু সপ্তাহের মধ্যেই আমরা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হতে পেয়েছি। এই মামলায় মোট ৪০জন সাক্ষী রয়েছে। বাবুসোনার বিশাল অর্থ-বিত্ত ও পরকীয়ার কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।’

‘হত্যাকাণ্ডেরদায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বাবু সোনার স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার ওরফে দীপা ভৌমিক ও কামরুল ইসলাম।’

কামরুল জবানবন্দিতে জানিয়েছেন যে তিনি রংপুর নগরীর তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৫ বছর ধরে সহকারী ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করছেন। আইনজীবী বাবুসোনার স্ত্রী দীপা ভৌমিকও একই স্কুলে শিক্ষকতা করেন। হত্যাকাণ্ডের ৮ মাস আগে থেকে তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। হত্যার ৪ মাস আগে থেকে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু বাবু সোনা আইনজীবী ও প্রভাবশালী হওয়ায় বিয়েতে বাধা হতে পারে এমন মনে করে তারা তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন।

কামরুল তার জবানবন্দিতে আরও জানান, তার ধারণা ছিল বাবুসোনাকে হত্যার পর তারা দুজনে বিয়ে করার পর বাবুসোনার বিশাল সম্পদ তিনি ভোগ করতে পারবেন। হত্যার পর লাশ কোথায় পুঁতে রাখবেন, নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা কীভাবে প্রচার করবেন সব পরিকল্পনা করা হয়।

চলতি বছরের ২৯ মার্চ বৃহস্পতিবার রাতে বাবুসোনাকে ১০টি ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর তার লাশ তাজহাট মোল্লাপাড়ায় কামরুলের ভাইয়ের নির্মাণাধীন বাড়ির ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখা হয়।

৩ এপ্রিল রাতে বাবু সোনার স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার ওরফে দীপা ভৌমিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র্যাাব আটক করে। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন এবং লাশের অবস্থান সম্পর্কে তাদের জানান। সেই সূত্র ধরে ওই দিন রাতে মোল্লাপাড়ার একটি বাড়ির মেঝে খুঁড়ে নিহত আইনজীবি বাবুসোনার গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ বাবুসোনার স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার ওরফে দিপা ভৌমিক, প্রেমিক কামরুল ইসলাম, মিলন মোহন্ত, ছাত্র মোল্লাপাড়া এলাকার সবুজ ইসলাম ও রোকনুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে।

গত ৫ এপ্রিল কামরুল বাদে অপর ৪ আসামিকে রংপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আরিফা ইয়াসমিন মুক্তা এজলাসে হাজির করা হয়।

আদালতে মিলন মোহন্তসহ আসামিরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে তাদের রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। কারা হেফাজতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিলন মোহন্ত মারা যান। এই মামলার অপর তিন আসামি সবুজ ইসলাম, রোকনুজ্জামান খড় বিক্রেতা স্বপন রায়কে অভিযোগ থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে।

মামলার বাদি নিহত রথীশ চন্দ্র ভৌমিকের ছোটভাই সুশান্ত ভৌমিক বলেন, চার্জশিটে আমরা সন্তুষ্ট।

Sharing is caring!

Loading...
Open