ভূমিখেকো চক্রের কবল থেকে জানমাল রক্ষার দাবি প্রবাসীর

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের ছনগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী হাজী মো. মতলিব মিয়া এলাকার একটি চিহ্নিত মামলাবাজ ও ভূমিখেকো চক্রের হাত থেকে নিজের ও পরিবার সদস্যদের জানমাল রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।

সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ছনগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী হাজী মো. মতলিব মিয়া বলেন, এলাকায় ভূমি দখল, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, লুটপাট, মিথ্যা মামলা দায়ের করে নিরীহ লোকজনদের হয়রানিসহ বিভিন্ন অপরাধ তৎপরতার সাথে জড়িত এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী মন্নান গং চক্রটি। এই সংঘবদ্ধ চক্রটি এলাকায় একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করলেও প্রাণের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। তাদের এই অপতৎপরতায় গোটা এলাকাবাসী এখন আতঙ্কগ্রস্ত।

তিনি বলেন, প্রায় ১০ বছর পূর্বে একই এলাকার প্রমোদ শর্ম্মা ও প্রণয় শর্ম্মার নিকট থেকে দূঘর মৌজার ৫২৪৬ নং এস,এ দাগের ৩২ শতক জমি কিনে যথারীতি ভোগ দখল করে বর্গাদারের মাধ্যমে চাষাবাদ করছি। প্রবাসে থাকায় যথাসময়ে দলিল রেজিস্ট্রি করতে পারি নাই। দেশে এসো চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তার ক্রয়কৃত ভূমির রেজিস্ট্রির কাজ সম্পাদন করি (দলিল নং ১৮৮)। এবং যথারীতি নিজ নামে ২৩৩৮ নং নামজারি খতিয়ান করে ১৪২৫ বাংলা সন পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করি।

মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী হাজী মো. মতলিব মিয়া বলেন, এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী মন্নান আমার বসতবাড়িতে এসে ১ লক্ষ টাকা আমার নিকট হাওলাদ চায়। এতে অপারগতা প্রকাশ করলে সে আমার ক্রয়কৃত ৩২ শতক জমি দখল করার হুমকি প্রদান করে। এ বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কাছে বিচার চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে সন্ত্রাসী মন্নান ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। আমাকে নানা প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করতে থাকে এবং এলাকায় প্রচার করতে থাকে যে, আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তি তারা ক্রয় করেছে।

তিনি বলেন, নিরুপায় হয়ে ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে ন্যায্য অধিকার রক্ষার্থে মন্নান গং এর বিরুদ্ধে ১০ মার্চ মৌলভীবাজার সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ৬০/২০১৮ নং স্বত্ব মামলা দায়ের করি। মামলা চলমান থাকা অবস্থায় ১২ আগস্ট রাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত বিশাল বাহিনী নিয়ে প্রবাসীর ক্রয়কৃত জমি জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যে জমিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে ট্রাক্টর দ্বারা হালচাষ শুরু করে। এতে বাঁধা প্রদান করলে মন্নান ও তার দলবলসহ আমার ভাই ও তার স্ত্রীর উপর হামলা চালিয়ে আহত করে।

প্রবাসী আরও বলেন, মামলাবাজ ও ভূমিখেকো সন্ত্রাসী মন্নান ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে কমলগঞ্জ থানায় আমিসহ ৩৩ জনকে আসামি করে একটি হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করে। পরদিন আমরা থানায় গিয়ে মন্নান গংদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। কিন্তু আমাদের দায়েরকৃত অভিযোগের কোন ব্যবস্থা না নিয়ে পুলিশ উল্টো প্রতিপক্ষের দায়েরকৃত মিথ্যা মামলায় আমাদেরকে গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা চালায়। ৩০ আগস্ট আদালতের মাধ্যমে জামিনপ্রাপ্ত হয়ে আমরা বাড়িতে ফিরে আসার পর থেকে সন্ত্রাসীরা আমাদেরকে নানা প্রকার হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী হাজী মো. মতলিব মিয়া আরও বলেন. অপরাধী চক্রটি আমি ও আমার পরিবারকে নানা প্রকার হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রাখায় আমরা চরম আতংকের মধ্যে দিনাতিপাত করছি। যে কোন মুহূর্তে সন্ত্রাসীরা আবারও আমাদের জানমালের ক্ষতি সাধন করতে পারে। মামলাবাজ ও অপরাধী চক্রকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও প্রবাসীর পরিবারের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা বিধানসহ এলাকায় শান্তিতে বসবাসের নিশ্চয়তা বিধানের জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানাই।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানার জন্য আব্দুল মন্নানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

কমলগঞ্জ থানার নবাগত ওসি মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, আমি কমলগঞ্জ থানায় সদ্য যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open