পরিবর্তন আসছে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগে…….!

স্টাফ রিপোর্টারঃঃ           সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থীর পরাজয়ের পর নতুন মেরুকরণের আভাস মিলছে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। নির্বাচনে পরাজয়ের নেপথ্যে স্থানীয় পর্যায়ে ‘সাংগঠনিক দুর্বলতা’র কথা বলেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের এমন মন্তব্যের পর সিলেট আওয়ামী লীগে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে বলে মনে করছেন সবাই। আগামী ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যে সিলেট আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। গুঞ্জন উঠেছে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। তবে এ ধরনের কোনো খবর তারা জানেন না বলে দাবি করেছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও মহানগরের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ।এ দু’জন যথাক্রমে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষপদে স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছেন। এ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান চৌধুরী জানিয়েছেন, কমিটির ব্যাপারে কিছুই জানি না। একইভাবে আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, দলীয়ভাবে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানি না। কোনো কিছু হলে তো সবাই জানতে পারবেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ স্বীকার না করলেও জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেতে মাঠে নেমেছেন অনেকেই। জেলার বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীর পাশাপাশি সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন সহসভাপতি আশফাক আহমদ (সদর উপজেলা চেয়ারম্যান) ও মাসুক উদ্দিন আহমদ। অন্যদিকে আসাদ উদ্দিন আহমদের নাম আলোচনায় এলেও মহানগরে সভাপতি পদে বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের আরেক দফা থেকে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলেছেন তার অনুসারীরা।

তবে বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে- সম্ভাব্য সভাপতি হিসেবে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরী ও সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নবনির্বাচত সদস্য এডভোকেট এ.এফ.এম রুহুল আনাম চৌধুরী মিন্টুকে দেয়া হতে পারে।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ তাদের অতীত রাজনৈতিক অবস্থানকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে এ ধরণের কমিটি দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে।

আপাদমস্তক দলের প্রতি আনুগত্যশীল বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরের সাবেক এমপি আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরীর রাজনৈতিক অনেক কৃতিত্ব রয়েছে।

তিনি দলকে সুসংগঠিত করার জন্য সিলেট আওয়ামী লীগ পরিবারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দলের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে বিগত নির্বাচনে বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরের এই নিশ্চিত আসনটি অন্যকে উপহার দিতে কুন্ঠাবোধ করেননি।

অপরদিকে, গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের কৃতি সন্তান সাবেক ছাত্রনেতা এডভোকেট এ.এফ.এম রুহুল আনাম চৌধুরী মিন্টু আশির দশকে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক, পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদক ও ২০১৪-১৫ সালে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করছেন।

সম্প্রতি সমাপ্ত বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচনে সম্মিলিত আইনজীবী সমম্বয় পরিষদ মনোনীত গ্রুপ-ডি আসন থেকে সদস্য নির্বাচিত হন। এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন,কমিটির ব্যাপারে বর্তমানে কিছু জানি না, তবে কোনো কিছু হলে তো সবাই জানতে পারবেন।জননেত্রী শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত নেবেন তাই হবে। এব্যাপারে এডভোকেট এ.এফ.এম রুহুল আনাম চৌধুরী মিন্টু বলেন,আমি বিষয়টি স্পষ্ট জানি না, আমি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করি,এবং মৃত্যুর পূর্বেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে নিয়েই রাজনীতি করবো,তবে আমাদের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্তই নেবেন তাই আমি মাথাপেতে নেব।যদি আমার উপর কোন দায়িত্ব অর্পন করা হয়,তবে আমি তা আমার সম্পূর্ণ রাজনৈতিক আদর্শ দিয়ে পালন করে যাবো। প্রসঙ্গত ২০১১ সালের ২২শে নভেম্বর সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ৭১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সেই সময় আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ানকে সভাপতি ও শফিকুর রহমান চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে ঘোষণা করা হয় জেলা কমিটি। ২০১৫ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর আবু জহির চৌধুরী সুফিয়ান মারা গেলে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান। পাশাপাশি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। সে সময় মহানগরে বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে সভাপতি ও আসাদ উদ্দিন আহমদকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিন বছর মেয়াদি এ দুটি কমিটির মেয়াদ শেষে অতিবাহিত হয়েছে আরও প্রায় চার বছর।

Sharing is caring!

Loading...
Open