বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরে চলছে রমরমা কোচিং বাণিজ্য

ওসমানীনগর প্রতিনিধি::
শিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্টদের নজরদারী না থাকায় বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরের অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চালিয়ে যাচ্ছেন রমরমা কোচিং বাণিজ্য। সরকারী ছুটি নির্দেশ মোতাবেক দীর্ঘ সময় বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও বসে থাকেন না কোচিং বাণিজ্যের হোতা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা। শিক্ষার্থীদের প্রায় জিম্মি করে বন্ধের দিনগুলোতে চালিয়ে যাচ্ছেন কোচিং ক্লাস। বিদ্যালয়ের দূর্বল ছাত্রদের বিশেষ পাঠদানের অযুহাত দেখিয়ে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষর্থীদের দূর্বল শিক্ষার্থী তালিকায় নিয়ে বিদ্যালয়গুলোতে চলছে রমরমা কোচিং বাণিজ্য। উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর পাশাপাশি কোচিং বাণিজ্যে বসে নেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও।

গত এক সপ্তাহে উপজেলার বেশ কয়েকটি উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে- কোচিং বাণিজ্যের এ দৃর্শ্য। কোচিং বানিজ্যে পরিচালনাকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দাবী অভিভাবকদের চাপের কারণে তারা কোচিং করাতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে অভিভাকদের অভিযোগ- সরকার কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করলেও শিক্ষক-শিক্ষিরা তা আমলে না নিয়ে উল্টো বিভিন্ন মাধ্যমে শিক্ষর্থীদের কোচিং এ আসার জন্য বাধ্য করেন। তাদের কথামতো কোনো শিক্ষার্থী কোচিং না করলে পরীক্ষায় পাশ করার পর গণিত ও ইংরেজী বিষয়ে ফেল দেখিয়ে আটকিয়ে দেয়া হয়। একটি নির্ভরশীল সূত্রে জানা যায়-পূর্বে সংশ্লিষ্ট কথিপয় শিক্ষা কর্মকর্তারা বিভিন্ন সুবিধা আদায়ের মাধ্যমে প্রায় প্রতিটি বিদ্যালয়ের নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেয়ায় অবৈধ কোচিং বাণিজ্যে বন্ধের ব্যাপারে ক্ষোদ শিক্ষা কর্মকর্তারা পদক্ষেপ নিতে পারছেন না।

সূত্র জানায়- গণিত ও ইংরেজীসহ বিভিন্ন বিষয়ে চুকুরীতে যোগদানের পর দূর্বল ছাত্রদের বিশেষ পাঠদানের অযুহাতে কোচিং বাণিজ্যের নামে লক্ষ-লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন শিক্ষকরাও। উপজেলার কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত একাধিক মাধ্যমিক শিক্ষকরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান- চাকুরীতে যোগ দিতে সংশ্লিষ্টদের টাকা দিতে হয়েছে। এখন সামান্য প্রাইভেট পড়িয়ে কোনো রকম কিছু টাকা বাড়তি আয়ের চেষ্টা করছি।

জানা যায়- উপজেলায় অধিকাংশ বিদ্যালয়গুলোতে ছুটির দিনে কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কোনো-কোনো বিদ্যালয়ের পাশে ভবন ভাড়া করে বিভিন্ন নামে গড়ে তুলা হয়েছে কোচিং সেন্টার। কোচিং পড়াতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাই প্রতি নিছু শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন এসব কোচিং সেন্টারে। প্রতিষ্ঠানের দেয়ালে পোস্টার আর ফেস্টুন এমনকি রং দিয়ে বিশাল আকৃতির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে কোচিং সেন্টারের। এসব বিজ্ঞাপনের কারণে একদিকে যেমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্য হানি হচ্ছে তেমনি শিক্ষার্থীরা ঝুঁকছে কোচিং সেন্টারের দিকে। বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরাই দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন কোচিং সেন্টারে গিয়ে বিস্তারিত জেনে নিতে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পার্শ্ববর্তী ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা এসব কোচিং সেন্টারে বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন দিয়ে শতভাগ পাসসহ ‘এ’ প্লাস প্রাপ্তির নিশ্চয়তা শিক্ষার্থীদের বছরের শুরুতে ভর্তি করিয়ে থাকেন শিক্ষকরা। বিশেষ করে গণিত ও ইংরেজীসহ গুরুত্বপূর্র্ণ বিষয়ের শিক্ষকরা এ কাজে নিয়োজিত। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সমমানের শিক্ষাব্যবস্থার চিত্র আরও ভয়াবহ। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি শিক্ষক পদে চাকরি করেও অতি গোপনে কোচিং সেন্টারের শিক্ষক তালিকায় রেখে অবাধে চালিয়ে যাচ্ছেন বাণিজ্য।

অভিযোগে আরও জানা গেছে- অনেক শিক্ষক তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তেমন সময় না দিয়ে অধিকাংশ সময় ব্যয় করেন কোচিং সেন্টারে। নামসর্বস্ব কোচিং সেন্টারগুলোতে নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধার আশ্বাস দেওয়াতে বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। অভিভাবকদের অভিযোগ বিদ্যালয়ে মাসিক বেতনের পাশাপাশি একজন শিক্ষার্থীর জন্য শুধু কোচিংয়ের জন্য আমাদের খরচ করতে হচ্ছে দুই থেকে তিন হাজার টাকা।

সরকার কোচিং বন্ধে নানা নীতিমালা করলেও বাস্তবতা হচ্ছে তাদের কোনো তৎপরতা নেই। অন্যদিকে কোচিংয়ে পড়তে না গেলে আমাদের ছেলে মেয়েদের নানা বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়। তাই ঝামেলা এড়াতে অভিভাবকরা বাধ্য হয়ে কোচিং সেন্টারে ছেলে মেয়েদের পড়াতে হয়।

ওসমানীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার চক্রবর্তী বলেন-আমি এখানে নতুন এসেছি। ওসমানীনগরের বিদ্যালয়গুলোর কোনো শিক্ষক যদি কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত থাকেন তাহলে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বালাগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন- কোচিংয়ের বিষয়ে আমাদের নজরদারী অব্যাহত আছে। আমার জানা মতে কোনো শিক্ষক কোচিংয়ের সাথে জড়িত নয়। তবে কোনো শিক্ষক যদি এতে জড়িত থাকার সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open