সিলেটে আগের তুলনায় হ্রাস পাচ্ছে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা

নিজস্ব প্রতিবেদক::   সিলেটে প্রায় আড়াই বছরে বিবাহবিচ্ছেদের (তালাক) ৪৭৯টি আবেদন জমা পড়েছে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট শাখায়। ২০১৬ সাল থেকে ২০১৮ সালের মার্চ পর্যন্ত এসব আবেদন জমা পড়ে। এসব আবেদনের মধ্যে ৪৫টির ক্ষেত্রে বিচ্ছেদ কার্যকর হয়েছে। সিটি করপোরেশনের নিবন্ধন শাখা থেকে এমন তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিলেটে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা আশঙ্কাজনক নয়। বরঞ্চ বিবাহবিচ্ছেদ আগের তুলনায় হ্রাস পাচ্ছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত নিবন্ধন শাখার তথ্যানুসারে, ২০১৬ সালে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য ৩৪৪টি আবেদন জমা পড়েছিল। পরে সিটি মেয়র উভয় পক্ষকে নোটিশ পাঠিয়ে সমঝোতায় বসেন। কিন্তু সমঝোতা না হওয়ায় আবেদনগুলোর মধ্যে ১০টি বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে।

২০১৭ সালে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন অনেকটাই কমে আসে। এ বছরে আবেদন পড়ে ৯৪টি। তন্মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় ২৩টি বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে।

সিটি করপোরেশনের তথ্যানুসারে, চলতি বছরের ১২ মার্চ পর্যন্ত বিবাহবিচ্ছেদের জন্য ৪১টি আবেদন জমা পড়ে। তন্মধ্যে ৩০ জন নারী, ১১ জন পুরুষ। সমঝোতা না হওয়ায় ১২টি বিবাহবিচ্ছেদ কার্যকর হয়েছে। বাকিগুলোর ক্ষেত্রে সিটি মেয়রের মধ্যস্থতায় বৈঠকে বসার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

সবমিলিয়ে, ২০১৬ সাল থেকে ২০১৮ সালের ১২ মার্চ পর্যন্ত সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় বিবাহবিচ্ছেদের ৪৭৯টি আবেদন জমা পড়ে। এ হিসেবে প্রতি দেড় দিনে একটি করে আবেদন জমা পড়েছে।

সিলেটে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদনের পেছনে কতিপয় কারণ কাজ করছে। এসব কারণের মধ্যে রয়েছে মতের অমিল, যৌতুক দাবি, নির্যাতন, পরকীয়া, মনোমালিন্য, প্রবাসে গিয়ে স্ত্রীর খোঁজ না রাখা প্রভৃতি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিলেটে বিবাহবিচ্ছেদের এই হার ইতিবাচক। পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ সিলেটে বিবাহবিচ্ছেদের এই হার এখনও শঙ্কার কারণ নয়।

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক সৈয়দ শিরিন আক্তার বলেন, ‘একসময় সিলেটে প্রচুর তালাকের ঘটনা ঘটলেও এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে। যৌতুক প্রবণতা কমেছে, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বদল হয়েছে, নারী শিক্ষার হার বেড়েছে এবং সর্বোপরি মানুষ সচেতন হয়েছে।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ বলছেন, ‘যৌথ পরিবার হচ্ছে সিলেট অঞ্চলের সৌন্দর্য। এখানে বাবা, মা, ভাই, বোন, ভাবি সবাই মিলেমিশে থাকেন। এসব পরিবারের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো কারণে দূরত্ব বাড়লে পরিবারের অন্য সদস্যরা তা সমাধানে এগিয়ে আসেন। এ বিষয়টি সমাজ ও পরিবারের জন্য ইতিবাচক।’

গত জুনে প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ‘দ্য সিচুয়েশন অব ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস’র তথ্য অনুসারে, গত সাত বছরে দেশে তালাকের প্রবণতা ৩৪ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে বেশি তালাকের ঘটনা ঘটে (দিনে ২ দশমিক ৭টি)। অন্যদিকে সবচেয়ে কম তালাকের ঘটনা ঘটে সিলেট ও চট্টগ্রামে (দিনে দশমিক ৬টি)।

Sharing is caring!

Loading...
Open