সিলেট-তামাবিল-জাফলং মহাসড়কের সংস্কারের জন্য মন্ত্রীদের দ্বারস্থ হলেন ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক::           দেশের মোট কয়লার চাহিদার প্রায় ৮০ ভাগ সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি করা হয়ে থাকে। এই স্থলবন্দর দিয়ে পাথর ও চুনাপাথর আমদানি করা হয়। একইসাথে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের কনজ্যুমার প্রোডাক্ট, খাদ্যপণ্য এই স্থলবন্দর ব্যবহার করে ভারতে রফতানি করা হয়। প্রতিদিন এই স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে যাওয়া-আসা করেন বাংলাদেশী পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই স্থলবন্দরে যাতায়াতের সড়কটি বেহাল। একইসাথে দেশের পর্যটনের অন্যতম তীর্থস্থান ও পাথর কোয়ারি জাফলংয়ে যাওয়ার সড়কেরও করুণ অবস্থা।

সিলেট-তামাবিল-জাফলং মহাসড়ক ব্যবহার করে পর্যটনকেন্দ্র লালাখাল, শ্রীপুরেও যাতায়াত করেন পর্যটকরা। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক মহাসড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারবিহীন অবস্থায় পড়ে আছে। এতে একদিকে যাতায়াতকারী মানুষ যেমন চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন, অন্যদিকে মহাবিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। মহাসড়কটি সংস্কারে এবার অর্থমন্ত্রী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের দ্বারস্থ হয়েছেন তারা।

জানা গেছে, সিলেট-তামাবিল-জাফলং মহাসড়কটি জরুরিভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করতে গত রবিবার মন্ত্রী ও মুখ্য সচিব বরাবরে চিঠি পাঠিয়েছে সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংগঠনের সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ।

সিলেটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত-বাংলাদেশ আমদানি-রফতানি, জাফলংয়ের পাথর সারাদেশে নিয়ে যাওয়া, একইসাথে পর্যটনের বিষয়টি মিলিয়ে সিলেট-তামাবিল-জাফলং মহাসড়ক দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়কটি সরকারের শত কোটি টাকা রাজস্ব আহরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির অবস্থা বেহাল। একাধিবার সংস্কারের আশ্বাস দিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে কাক্সিক্ষত সংস্কার হয়নি। কিছুদিন আগে এ সড়কটিকে চার লেনে উন্নিত করার সিদ্ধান্ত হলেও সেই কাজ এখন পর্যন্ত শুরু হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিলেট-তামাবিল-জাফলং মহাসড়কের সিংহভাগ এলাকারই করুণ অবস্থা। সড়কটির স্থানে স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, অনেক স্থানে পিচ ওঠে গেছে, সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় খানাখন্দের। সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো সড়কের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে পড়ে। বিশেষ করে সিলেটের জৈন্তাপুর থেকে তামাবিল পর্যন্ত সড়ক একেবারেই বেহাল।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সড়কটি বর্তমানে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এই সড়কে পণ্য বা পাথর বহনের জন্য ট্রাকচালকের রাজি করানো দুরূহ হয়ে পড়ছে। কোন কোন ট্রাকচালক এ সড়ক দিয়ে যেতে রাজি হলেও তারা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করে। তাছাড়া সড়কটি বেহাল হওয়ায় যান চলাচলে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে।

সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ বলেন, ‘সিলেট-তামাবিল-জাফলং মহাসড়ক সংস্কারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে সিলেটের সর্বস্তরের ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের কাছে আমরা চিঠি পাঠিয়েছি। আমরা মহাবিপাকে রয়েছি। সড়কটি জরুরিভত্তিতে সংস্কার করা না হলে অচিরেই আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। একইসাথে ক্ষতিগ্রস্থ হবে পর্যটন খাত।’

Sharing is caring!

Loading...
Open