শিশু রাইফার মৃত্যু: জামিন পেয়েছেন চার চিকিৎসক

সুরমা টাইমস ডেস্ক::       বহুল আলোচিত শিশু রাইফার মৃত্যু মামলায় হাইকোর্টের নির্দেশে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চার চিকিৎসক।সোমবার সকালে চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আবু ছালেম মো.নোমান তাদের জামিনের আদেশ দিয়েছেন।

গত ৩০ জুলাই হাইকোর্টের দেয়া চার সপ্তাহের জামিনের মেয়াদ শেষে আজ সোমবার ওই চার চিকিৎসক নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে শুনানি শেষে আদালত তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকার বন্ডে জামিন দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী।

পূর্বে জামিন পাওয়ায় এবং মামলার এজাহারে যেসব ধারা উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো জামিনযোগ্য হওয়ায় আসামিরা জামিন পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।জামিনপ্রাপ্ত চার চিকিৎসক হলেন, শিশু বিশেষজ্ঞ বিধান রায় চৌধুরী, ম্যাক্স হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক দেবাশীষ সেনগুপ্ত ও শুভ্র দেব এবং একই হাসপাতালের পরিচালক ডা. লিয়াকত আলী।

মৃত রাইফা দৈনিক সমকালের চট্টগ্রাম ব্যুরো জেষ্ঠ্য প্রতিবেদক রুবেল খানের মেয়ে।গলায় ব্যথা হওয়ায় রাইফাকে গত ২৮ জুন বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ডা. বিধান রায়ের অধীনে চলছিল তার চিকিৎসা।কিন্তু ২৯ জুন রাতে তার মৃত্যু হলে সাংবাদিকদের তাৎক্ষণিক বিক্ষোভের মুখে কর্তব্যরত এক চিকিৎসক ও এক নার্সকে পুলিশ ধরে থানায় নিলেও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং মহানগর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. ফয়সাল ইকবাল থানায় গিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নেন।

এরপর সাংবাদিক ও চিকিৎসকদের পাল্টাপাল্টি আন্দোলনের মধ্যে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সিদ্ধান্তে গত ১৮ জুলাই নগরীর চকবাজার থানায় একটি এজাহার জমা দেন রুবেল খান। ২০ জুলাই সেটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়।এর মধ্যে র‌্যাব ও ‍ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর যৌথভাবে ম্যাক্স হাসপাতালে অভিযানও চালায়। এর প্রতিবাদে চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে একদিনের ধর্মঘট পালিত হয়। এছাড়া রাইফার মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে একটি কমিটি করে দেয়া হয়। পাশাপাশি চট্টগ্রামের সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটিও এ ঘটনার তদন্ত করে।

সিভিল সার্জনের নেতৃত্বাধীন কমিটি তদন্তে ভুল চিকিৎসার প্রমাণ না পেলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা এবং গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায়। তদন্ত প্রতিবেদনে তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করে এই কমিটি।এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ম্যাক্স হাসপাতালের বিভিন্ন ত্রুটির কথাও তুলে ধরা হয়।

Sharing is caring!

Loading...
Open