চামড়া পাচার রোধে সিলেটে কঠোর সতর্কতা জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক :: পবিত্র ঈদ-উল-আযহায় সিলেটজুড়ে লক্ষাধিক গরু, ছাগল, ভেড়া প্রভৃতি পশু কোরবানি দেয়া হবে। এসব পশুর চামড়া যাতে সীমান্ত দিয়ে দেশের বাইরে পাচার হতে না পারে, সেজন্য কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল সিলেট ভারত সীমান্তঘেঁষে অবস্থিত। যার ফলে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার লোভে সিলেট থেকে সীমান্ত দিয়ে ভারতে চামড়া পাচার করেন। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয় দেশের অর্থনীতি, ক্ষতিগ্রস্থ হন স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার যাতে চামড়া পাচার না হয়, সে লক্ষ্যে তৎপরতা শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে বিজিবি। ঈদের দিন থেকে পরবর্তী কয়েকদিন এই তৎপরতা বজায় থাকবে।

র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবির তৎপরতার কারণে গেল কয়েক বছরে চামড়া পাচার অনেকটাই কমে এসেছে। এজন্য সিলেটের ট্যানারি ব্যবসায়ীরা অনেকটাই আশ্বস্থ, এবারও চামড়া পাচার রোধ করা যাবে।

তবে শাহজালাল বহুমখী চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শেখ শামীম আহমদ বলছেন, কোরবানির পশু বিক্রি করতে অন্য জেলা থেকে সিলেটে আসা ব্যবসায়ীরা যাওয়ার সময় কাচা চামড়া কিনে নিয়ে যান। সেই চামড়া তারা সিলেটের বাইরে নিয়ে পাচার করে দেন।

চামড়া পাচার রোধের বিষয়ে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুল আলম বলেন, ‘সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকার থানাসহ সকল থানার ওসিদের চামড়া পাচার রোধে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। চামড়াবাহী কোনো যানবাহন সীমান্তের দিকে যেতে দেখলে আটকের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

র‌্যাব-৯ এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল আলী হায়দার আজাদ বলেন, ‘চামড়া যাতে পাচার না হয়, সেজন্য ঈদের দিন ও পরবর্তী দুই দিন সীমান্ত এলাকার উপজেলাগুলোতে টহল জোরদার করবে র‌্যাব।’

বিজিবি, সিলেট সদর দফতরের সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘চামড়া পাচার রোধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করা হবে। চামড়া পাচার রোধে সীমান্ত সিলগালা করা হবে। যে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নেই, সে সীমান্তে সার্বক্ষণিক তৎপরতা থাকবে বিজিবির।’

সিলেটের জেলা প্রশাসক নুমেরী জামান বলেন, ‘সীমান্ত এলাকা দিয়ে চামড়া পাচার হয়ে থাকে। এজন্য বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সকল ইউনিটকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

Sharing is caring!

Loading...
Open