শেষ রাতে লাভের আশায় এখন মাথায় হাত…….!

নিজস্ব প্রতিবেদক ::     গতবছর কোরবানী ঈদ অর্থাৎ ঈদুল আজহার আগের রাতে সিলেটে ছিল গরুর জন্য হাহাকার। নগরীর ভেতরের এবং শহরতলীর বাজারগুলোতে শেষরাতে প্রচুর ক্রেতা থাকলেও ছিলনা কোরবানীর পশু। কেউ কেউ পশু না পেয়ে ফিরে যান খালি হাতে। আর কেউবা বাধ্য হয়ে ঈদের পরদিন কিংবা তার পরের দিন কোরবানী দিয়েছেন। চাহিদার তুলনায় গতবার পশু কম থাকার কারণ হিসেবে মুলত ধরা হয়েছিল ভারত থেকে গরু কম আসা।

এবারের কোরবানীর বাজারের শুরুটাও এমনই ছিল। ভারত থেকে গরু না আসায়, দেশী গরুই এবার রাজত্ব করেছে সিলেটের বাজারগুলোতে। তাই এবারো বিক্রেতারা আশা করেছিলেন শেষ রাতে হয়ত গরুর সংকট দেখা দিলে চড়া মুল্যে বিক্রি করবেন। আর ‘ভারত থেকে গরু আসছে না, গরুর দাম বাড়বে’- এমন প্রচারও ছিল বিভিন্ন বাজারে।

কিন্তু, শেষ পর্যন্ত গতবারের ঠিক বিপরীতই হয়েছে এবার। সিলেটের বৈধ এবং অবৈধ হাটগুলোতে প্রচুর গরু থাকলেও নেই ক্রেতা। ফলে আগের দুইদিনের তুলনায় কম দামেই পশু বিক্রি করে দিচ্ছেন বিক্রতারা।

আর গতবারের মত গরুর সংকট দেখা দিতে পারে এমন চিন্তায় আগেভাগেই এবার গরু কিনে রেখেছেন অনেকে।

এতে বিপাকে পড়েছেন আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা এবং দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সিলেটে গরু নিয়ে আসা পাইকাররা। শেষ রাতে তাদের এখন মাথায় হাত দেয়ার অবস্থা।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে নগরীর শাহী ঈদগাহ, রিকাবীবাজার, টিলাগড়, আম্বরখানা থেকে মদীনা মার্কেট এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাজারগুলোতে প্রচুর গরু আছে। সেই তুলনায় ক্রেতা নেই বললেই চলে। সেকারনে বিকাল থেকেই বাজারগুলোতে পশুর দাম কমতে শুরু করেছে।

বাজার ঘুরে জানা গেছে- যেসব পাইকার শুক্র ও শনিবারে ছুটির দিনে গরু বিক্রি করে দিয়েছেন তারাই লাভে বিক্রি করেছেন। এবার সিলেটে শুক্র এবং শনিবারই সবচেয়ে বেশী গরু বিক্রি হয়েছে।

আর যারা গত বছরের মতো শেষ রাতে লাভ করার আশায় গরু রেখেছিলেন তাদেরই এখন মাথায় হাত।

Sharing is caring!

Loading...
Open