এবারও কারাগারেই কাটছে খালেদা জিয়ার ঈদ

সুরমা টাইমস ডেস্ক ::        বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবারও কারাগারেই ঈদ করছেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে চলতি বছরের ৮ই ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে রয়েছেন তিনি। এই মামলায় জামিন পেলেও অন্য তিন মামলায় জামিন আবেদন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। সব মিলিয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৪টি মামলা চলমান রয়েছে। এতে ঈদুল ফিতরের পর এবার ঈদুল আজহাতেও তাকে কারাগারে থাকতে হচ্ছে।

অবশ্য কারাগারে থাকলেও খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে তার ভাই শামীম ইস্কান্দার কোরবানির ব্যবস্থা করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

প্রতি বছর ঈদের দিন খালেদা জিয়া রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন। কিন্তু তিনি জেলে থাকায় বিএনপির ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান এবারও হচ্ছে না।

দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘খালেদা জিয়া কারাগারে ঈদ করছেন। সেখানে দলের বাকি নেতাকর্মীদের কাছে ঈদের আনন্দ নেই। তাই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানও হচ্ছে না।’

দলীয় সূত্র অনুযায়ী, ঈদের দিন কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাৎ করতে অনুমতি চেয়েছেন। এ ছাড়া দলের জ্যেষ্ঠ নেতারাও সাক্ষাতের অনুমতি পেতে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। সংশ্লিষ্ট নেতারা আশাবাদী, ঈদের দিন তারা প্রাণপ্রিয় নেত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমিত পাবেন।

পাশাপাশি ঈদের দিন দলটির নেতারা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর, জিয়াউর রহমানের ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করবেন।

এর আগে ২০০৭ ও ২০০৮ সালে খালেদা জিয়াকে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুইটি ঈদ কারাগারে কাটাতে হয়েছিল। সংসদ ভবন এলাকায় ঘোষিত সাব-জেলে ওই দুই ঈদে খালেদা জিয়া পাশের আরেকটি সাব-জেলে বন্দী ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। কিন্তু এবার খালেদা জিয়াকে নাজিম উদ্দিন রোড়ের সাবেক পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে একাই ঈদ করতে হচ্ছে। সেখানে তিনি ছাড়া কোনো কারাবন্দী নেই।

যদিও ওই ঈদের দিনগুলোয় খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছেলে তারেক রহমান এবং আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী-সন্তানেরা সাক্ষাৎ করেছিলেন। তারেক রহমানের পরিবার লন্ডনে থাকায় এবার সাক্ষাৎ করা সম্ভব হচ্ছে না। যদিও গত ১৩ই আগস্ট খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমানের স্ত্রী শর্মিলা রহমান ও ছোট মেয়ে জাহিয়া রহমান ঢাকায় এসেছেন এবং ১৮ই আগস্ট, শুক্রবার খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে গিয়ে সাক্ষাৎ করেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, এবার তারা বেশ কিছুদিন দেশে থাকবেন। বরাবরের মতো এবার শর্মিলা রহমান ও তার মেয়ে খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় থাকছেন।

২০০৭ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর ভোরে খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের মইনুল রোডের বাসভবন থেকে গ্রেফতারের পর নেওয়া হয় সিএমএম আদালতে। ওই আদালতে জামিন না মঞ্জুর হলে তাকে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত সাব-জেলে নিয়ে যাওয়া হয়।

সাব-জেলে থাকার সময় ২০০৭ সালের ১৪ই অক্টোবর প্রথম পালিত হয় রোজার ঈদ। এরপর ২০০৭ সালের ২১শে ডিসেম্বর কোরবানির ঈদও ওই সাব-জেলেই পালন করেন তিনি। ওই সময় কারাগারে ৩৭২ দিন কাটানোর পর ২০০৮ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর মুক্তি পান খালেদা জিয়া।

খালেদা জিয়ার কোরবানি:-

খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে কোরবানি দেওয়া হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে তার (খালেদা) গণমাধ্যম শাখার সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘কোরবানি দেওয়া ও না দেওয়া সামর্থ্যের বিষয়। ফলে উনার যেটা প্রাপ্ত, পরিবারের পক্ষ থেকে সেটাই ব্যবস্থা করা হবে।’

এ বিষয়ে গণমাধ্যম শাখার অপর সদস্য শামসুদ্দিন দিদার বলেন, ‘প্রতিবছরই ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) পারিবারিকভাবে কোরবানি দিয়ে আসছেন। এবারও দেওয়া হবে। তবে গরু নাকি খাসি কোরবানি দেওয়া হবে, এই মুহূর্তে কিছুই জানি না।’

বিএনপির কেন্দ্রীয় দফতর সূত্রের ভাষ্য, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রতি ঈদুল আজহায় কোরবানি দিয়ে থাকেন। সেই কোরবানি তার গুলশানের বাসভবনেই দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু এবার যেহেতু মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি কারান্তরীণ, তাই এবার চেয়ারপারসনের পক্ষে তার ভাই শামীম ইস্কান্দার কোরবানির ব্যবস্থা করছেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open