সুনামগঞ্জে ডিসি ও ইউএনও’র নাম্বার ক্লোন করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ ও জগন্নাথপুর উপজেলায় সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মুঠোফোন নাম্বার ক্লোন করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা ও বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে দুষ্কৃতিকারীরা।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) দুপুরের দিকে সরকারি এক কর্মকর্তার ফোন কল পেয়ে বিষয়টি টের পান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ।

উনার সরকারি মোবাইল ফোন নাম্বার (০১৭১৩৩০১১৭৮) থেকে ফোন করে এক সরকারি কর্মকর্তার নাম্বারে কল দিয়ে বিকাশের মাধ্যমে ১৪ হাজার টাকা জরুরী ভিত্তিতে পাঠানোর জন্য বলে প্রতারক চক্র। কিন্তু এ সময় ডিসি আব্দুল আহাদ মিটিং এ ছিলেন। তিনি কাউকে ফোন করেন নি।

এ ব্যাপারে কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য ডিসি অফিস সুনামগঞ্জ অফিসিয়াল পেইজ থেকে একটি পোস্টের মাধ্যমে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে যাতে কেউ আর্থিক লেনদেন না করেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, ‘আমি দুপুরের দিকে বুঝতে পারি যে আমার সরকারি নাম্বার ক্লোন করে টাকা দাবি করা হচ্ছে। ঐ সময় বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে মিটিং এ ছিলাম। এ জন্য আমি আমার অফিসের কর্মকর্তাকে বলেছি বিষয়টি পুলিশকে জানানোর জন্য। গ্রামীণ ফোন কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানানোর জন্য বলেছি।’

এদিকে জগন্নাথপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুল আলম মাসুমের ব্যবহৃত গ্রামীণ ফোনের এ নাম্বারটি (০১৭৯৪৪৪৮৭২৮) ১৯ আগস্ট রাতে ক্লোন করে হ্যাকাররা। পরে সকালে তিনি বুঝতে পারেন যে তার নাম্বারটি ক্লোন করে চাঁদাবাজির চেষ্টা করা হচ্ছে।

ইউএনওর ওই মোবাইল ফোনের নম্বর ব্যবহার করে তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী দিনেশ চন্দ্র দাশসহ কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদ সচিব ও কর্মচারীর কাছে ফোন করে টাকা দেয়ার জন্য বলা হয়। মুঠোফোনের কথাবার্তায় অসঙ্গতি মনে হলে দীনেশ চন্দ্র দাশ ইউএনও এর ব্যক্তিগত মুঠোফোন নাম্বারে (০১৮১৯৮৫১৯১৯) ফোন করে নিশ্চিত হন নাম্বারটি ক্লোন করা হয়েছে।

পরে জগন্নাথপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুল আলম মাসুম। এছাড়াও ইউএনও জগন্নাথপুর নামে ফেসবুক পেজ থেকে কোন তথ্য প্রকাশ করা হলে এতে বিভ্রান্ত না হতে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়।

নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী দীনেশ চন্দ্র দাশ জানান- ‘ইউএনও স্যারের গ্রামীণ সরকারি নাম্বার থেকে ফোন করে টাকা পাঠানোর জন্য বলে। কিন্তু কথাবার্তায় অসঙ্গতি লাগলে বিষয়টি আমি নিশ্চিত হতে স্যারের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে ফোন দিয়ে বুঝতে পারি যে ঐ নাম্বারটি দুষ্কৃতিকারিরা ক্লোন করেছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুল আলম মাসুম বলেন, ‘আমার ব্যবহৃত সরকারি নাম্বারটি ক্লোন করে বিভিন্নজনের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জগন্নাথপুর থানায় সাধারণ ডায়রি করা হয়েছে।’

Sharing is caring!

Loading...
Open