মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানার আবাসিক এলাকা

ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিনিধি:: মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানার আবাসিক এলাকার বেশ কয়েকটি স্থান। নবনির্মিত শাহজালাল সারখানার আবাসন ব্যবস্থার কাজ চলার সুযোগে মাদকসেবীদের নিরাপদ স্থান হয়েছে শাহজালাল সারখানার আবাসিক এলাকা।

গত কয়েকদিনে আবাসিক এলাকার কয়েকটি জায়গা ঘুরে দেখা যায় রাত বাড়ার সাথে সাথেই মাদকসেবীদের আড্ডা বাড়ে। বাংলা মদ, গাঁজা, কফের সিরাপ ডেক্সপোটেন নেশায় মগ্ন থাকেন কিছু মাদকসেবী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন জায়গায় গাঁজা তৈরির ফয়েল পেপার, কফ সিরাপ ডেক্সপোটেনসহ নানা নানা জাতের কফসিরাপের বোতল পড়ে আছে। ফেঞ্চুগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন স্থানের চেয়ে এই এলাকা নিরিবিলি থাকার কারণে মাদকসেবীরা নিরাপদ জায়গা হিসেবে বেছে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, সার কারখানার হাসপাতালের উপর, মাঠের পাশ, এমনকি নিরিবিলি ঈদগাহের পাশে সন্ধ্যা বেলা বসে গাঁজার আসর। এলাকার বাহিরের লোকজনের আনাগোনা বেশি বলে জানান তারা।

তারা জানান, শুধু আবাসিক এলাকার ভেতরে নয়, শাহজালাল সার কারখানার নতুন নির্মিত ট্রাক স্ট্যান্ডের পিছনের পাহাড়ি ছড়ার পারেও রাতে মাদক সেবীদের আনাগোনা বাড়ে। এখানে ভারতীয় মদ থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের মাদকের আসর বসে।

এলাকাবাসী থেকে পাওয়া গোপন সূত্রে জানা যায়, চড়া দামে অফকফ বা ডেক্সপোটেন সিরাপ দিয়ে উঠতি বয়সী ছেলেরা নেশাগ্রস্ত। বিভিন্ন ফার্মেসি থেকে এসব কাশির সিরাপ কেনে মাদকসেবীরা নেশা করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদকসেবী জানান, সিলেট শহর থেকে তিনি গাঁজা ক্রয় করেন। আবার কিছু এজেন্ট মাদক পৌছে দিয়ে যায়। এই আবাসিক এলাকা নিরিবিলি বলে মাঠের পাশে বসে তিনি একাই গাঁজা সেবন করেন।

দিনদিন মাদকসেবীদের এসব আগ্রাসন বাড়ার কারণে প্রবীণ ব্যক্তিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, এসবের বিরুদ্ধে প্রশাসন যদি ব্যবস্থা না নেয় তবে মাদকের ভয়ংকর রাজ্যে পরিণত হবে এই এলাকা।

এ ব্যাপারে ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ওসি নাজমুল হক জানান, মাদকের ব্যাপারে আমাদের জিরো টলারেন্স রয়েছে। আমরা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে আমরা বেশ কিছু চোলাই মদ ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছি। আরো যারা এসব কাজ করছে তাদেরকে দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা হবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open