নগরীতে কিশোরকে নির্যাতন করে প্রশ্রাব খাওয়ালো ভাই-বোন

স্টাফ রিপোর্টার::
নগরীর সুবিদবাজারের বনকলাপাড়ায় এক কিশোরের হাত পা বেঁধে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। ওই কিশোরের মুখে কসটেপ লাগিয়ে মারপিট করা হয়। পানি চাইলে কসটেপ খুলে তা প্রস্রাব খাওয়ানো হয়েছে। এমন নির্মম নির্যাতনের শিকার মো. রবিন আহমদ (১৬)। তার উপর নির্যাতনের অভিযোগে তার মা জাহেরা বেগম বাদি হয়ে এয়ারপোর্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় বনকলা পাড়ার দিলশাদ বাবুর্চির ছেলে রুহেল ও মেয়ে জাহানারাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, রবিন গত ১৮ আগস্ট সকালে ঘর থেকে কাজের জন্য বের হলে রুহেল তাকে ডেকে বাসার ছাদে নিয়ে যায়। এসময় রবিনের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ এনে তাকে হাত-পা ও মুখ বেধে কাঠের রুল দিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করতে থাকে। এসময় জাহানারা ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে হত্যা জন্য কিশোর রবিনের মাথায় গুরুতর জখম করে। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা অভিযুক্তরা রবিনকে রড ও লোহার পাইপ দিয়ে আঘাত করে মাটিতে ফেলে মারধর করে। এমনকি রবিনকে পঙ্গু করার জন্য তার পা ভেঙে দেয় তারা। বার বার আঘাতের ফলে রবিন যখন নিস্তেজ হয়ে পড়ে তখন রুহেল এবং জাহানারা তার মুখে প্রশ্রাব ঢেলে জোরপূর্বক খাইয়ে দেয়। এরপর তার গলা চেপে ধরে। অজ্ঞাত নামা আসামিরা রবিনকে হত্যা করে গুম করার পরিকল্পনা করে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরে বিকেল ৩টায় রবিনের মা জাহেরা বেগম স্থানীরদের সহযোগীতায়ে রবিনকে ছাড়িয়ে আনেন। এসময় অভিযুক্তরা মামলা মোকদ্দমা না করতে হুমকি দেয়। যদি মামলা দায়ে করে তাহলে রবিনের মা জাহেরা বেগমকে হত্যা করবে বলে হুমকি দেয় তারা। রবিন এখন সিলেট এমএজি ওসমানি হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করছে। তার অবস্থা শঙ্কা মুক্ত নয়।

এ ব্যাপারে মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌছুল হোসেন জানান, ‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Sharing is caring!

Loading...
Open