গোলাপগঞ্জে পশুর হাট নিয়ে সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ ৩জন আহত

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি :: গোলাপগঞ্জে সরকারী এমসি একাডেমী স্কুল ও কলেজ মাঠে গোলাপগঞ্জ বাজার পশুর হাট নিয়ে ইজারাদার ও অপর একটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (১৮ আগস্ট) বিকেল ৪ টায় সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের সরকারি এমসি একাডেমী স্কুল ও কলেজের সামনে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এক সাংবাদিক সহ ৩ জন আহত হন। আহতরা হলেন উপজেলার পৌর এলাকার নিজগ্রামের গৌছ উদ্দিন চৌধুরীর পুত্র গোলাপগঞ্জ সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মাহবুবুর রহমান চৌধুরী (৩৩), স্বরসতি গ্রামের সাহেদ আহমদ (২৭), আমুড়া ইউনিয়নের চাঁন্দের দোকান এলাকার রাহি আহমদ (২৮)।

এ ঘটনার পর উপজেলা জুড়ে ক্রেতা বিক্রেতাদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। এসময় সিলেট-জকিগঞ্জ সড়ক প্রায় দেড় ঘন্টা বন্ধ থেকে। এতে সড়কের উভয় দিকের কয়েক শতাধিক গাড়ি আটকে পরে। তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল থেকে একটি পক্ষ সরকারি এমসি একাডেমী স্কুল ও কলেজ মাঠের গোলাপগঞ্জ বাজার কোরবানির পশুর হাটে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পশু ফিরিয়ে দেয়। এ খবর ইজারাদার কর্তৃপক্ষ জানতে পারলে অপর পক্ষের সাথে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। হাটে বাধা দেওয়া পক্ষ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র নিয়ে ইজারদার পক্ষের লোকদের উপর চড়াও হলে স্থানীয় লোক ও ইজারাদার কর্তৃপক্ষের প্রতিরোধের মুখে তারা পালিয়ে যায়। এসময় কয়েক রাউন্ড গুলির ছুড়ার ঘটনাও ঘটেছে বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

এসময় অস্ত্রধারীদের ছবি তুলতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হাতে আহত হন গোলাপগঞ্জ সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মাহবুবুর রহমান চৌধুরী। তার হাতে থাকা মোবাইল ফোনটিও কেড়ে ভেঙ্গে দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ বাজার পশুর হাটের ইজারাদার হাজ্বী আব্দুল কাদির জানান, ইজারাদার কর্তৃপক্ষের কাছে গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক আকবর আলী ফখর ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করলে আমরা তা দিতে অস্বীকার করি। এর জন্য সে তার লোকদের নিয়ে বাজারে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পশু বাজারে আসতে দিচ্ছে না। এছাড়াও বাজারে তার পক্ষের লোকজন পশুর হাটে বাধা সৃষ্টি করলে স্থানীয় এলাকাবাসী ও আমার পক্ষের লোকজন বাধা দেয়। এসময় আকবর আলী ফখরের লোকজন আমাদের উপর হামলা চালায়। আমরা এই বিষয়ে ইজারাদার কর্তৃপক্ষ রাতে বসে আইনের স্বরণাপন্ন হব।

এ দিকে উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক আকবর আলী ফখর চাঁদা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এ ঘটনার সাথে আমার কোন লোক জড়িত নয়। আমার বিরুদ্ধে একটি চক্র ষড়যন্ত্র করছে।

এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ওসি (অপারেশন) দেলওয়ার আহমদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open