ফখরুলের দেশ ‘স্বাধীন’ করার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন নজরুল

সুরমা টাইমস ডেস্ক :: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ‘দেশকে স্বাধীন করুন’ বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, ‘এই স্বাধীনতার মানে হলো আপনার রাজনীতি করার স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের স্বাধীনতা, সুন্দর, সুস্থ ও নিরাপদে বেঁচে থাকার স্বাধীনতা।’

শনিবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় নজরুল ইসলাম খান এসব কথা বলেন।

ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে গতকাল শুক্রবার দুপুরে এক সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেন, ‘দেশের জনগণকে আহ্বান জানাবো যে শুধু এই নিরাপদ সড়ক নয়, নিরাপদ বাংলাদেশের জন্য আপনারা এগিয়ে আসুন, আপনারা জেগে উঠুন। আপনারা দেশকে স্বাধীন করুন।’

তার এই মন্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এটা রাষ্ট্রদ্রোহিতা।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আপনাকে রাজনীতির ভাষা বুঝতে হবে। এই স্বাধীনতার মানে হলো আপনার রাজনীতি করার স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের স্বাধীনতা, সুন্দর, সুস্থ ও নিরাপদে বেঁচে থাকার স্বাধীনতা। আমাদের মহাসচিব তার এক বক্তব্যে স্বাধীনতার কথা বলেছেন যে ফিরিয়ে আনতে হবে। এই কথার অর্থ এই না যে, আবার ’৭১ সালের মতো লড়াই করে ওই রকম স্বাধীনতা আমাদের আনতে হবে।’

ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনা করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘উনি সেই সময়ে বলেছিলেন, বঙ্গভবনের অক্সিজেন বন্ধ করে দেবেন। অক্সিজেন বন্ধ হলে মানুষ বাঁচে? বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছিলেন, সামরিক-বেসামরিক সদস্যরা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ছিলেন। এখন কি আমরা বলবো যে, উনি তাদের হত্যা করার জন্য চেষ্টা করেছিলেন?’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের অর্থ আপনাকে বুঝতে হবে। আমি যা বলবো, তার অর্থ বুঝতে চাইবেন না, এটাকে বাঁকায়ে-তেঁড়ায়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আকারে নিয়ে আসার চেষ্টা করবেন, তা হবে না।’
বিএনপির সংলাপের আহ্বান আওয়ামী লীগ বরাবরই প্রত্যাখান করে আসছে অভিযোগ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিএনপির সংলাপের আহ্বান বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনও আর সংলাপ করবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসি সচিব। সংলাপ না হওয়ায় কোনও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে এর দায়-দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। একই খেলা বার বার হয় না। কাজেই সরকারকে বলতে চাই, সম্মানজনক নিষ্ক্রমনের পথ, সন্মানজনকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পথ একটাই অবশিষ্ট আছে, তা হলো সংলাপ।’

আলোচনাসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেইন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুল করিম প্রমুখ।

Sharing is caring!

Loading...
Open