সিলেটে এবারও চামড়া ‘গায়েব’ হওয়ার আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক::
সিলেট থেকে কোরবানি দেওয়া পশুর চামড়া এবারো ‘গায়েব’ হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে হিসেবের চামড়া কোথায় যায় এর কিছুই জানা নেই তাদের। শুধুমাত্র সিলেটে ২০১৬ সালে ৬০ হাজার এবং গেল বছরে ১ লাখ চামড়া সংগ্রহ করার টার্গেট ছিলো সিলেট সবচেয়ে বড় চামড়া ব্যবসায়ী সংগঠন শাহজালাল চামড়া ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির। কিন্তু ২০১৬ সালে টার্গেটের চেয়ে ২০ হাজার পিস কম এবং গত বছরে ৩০ হাজার পিস চামড়া কম সংগ্রহ হয়েছে। তাদের মতে, এই বিশাল পরিমাণের চামড়া কোথায় ‘গায়েব’ হয়েছে-এর কোনো হদিস নেই।

সিলেট শাহজালাল চামড়া ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি সূত্র জানায়, প্রতিবছর শুধু সিলেট জেলা থেকে লক্ষাধিক চামড়া সংগ্রহের টার্গেট নিয়ে মাঠে নামে তারা। এ বছরও একইভাবে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করছেন তারা। শুধু সিলেট জেলা থেকে ১ লাখ পিসের অধিক চামড়া সংগ্রহ করতে চায় সংগঠনটি। তবে সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় প্রতিবছরই প্রচুর সংখ্যক চামড়া ভারতে পাচার হয়ে যায় বলে ধারণা তাদের।

ব্যবসায়ীদের মতে, পাচারকারীরা দালালদের মাধ্যমে গ্রামগঞ্জ থেকে চামড়া সংগ্রহ করে। এছাড়া মসজিদ-মাদরাসার নামে উত্তোলিত চামড়াগুলোও তারা কৌশলে সংগ্রহ করে পাচার করে দেয়। এতে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হতে হয়।

সিলেট জেলার অতিরিক্ত প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর সিলেটে প্রায় ৮৫ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে। এ বছর আমাদের ধারণা মতে লক্ষাধিক পশু শুধু সিলেট জেলায় কোরবানি হবে।’

সিলেট শাহজালাল চামড়া ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি শেখ শামিম আহমদ বলেন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ছাড়া কোরবানির চামড়া অন্যত্র নেয়া হলে তা ‘গায়েব’ হওয়ার শঙ্কা থাকে। লবণজাতকরণের পর ঢাকাসহ দেশের অন্যত্র চামড়া নিলে ‘গায়েব’ হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। তিনি বলেন, এ বছর চামড়া ‘গায়েব’ না হলে এক লাখেরও বেশি চামড়া আমরা সংগ্রহ করার টার্গেট নিয়েছি। টাকার পরিমাণে ৪০ কোটি টাকার উপরে আমরা চামড়া সংগ্রহ করতে চাই।’

শামিম আহমদ বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে বিপুল পরিমাণ চামড়া আমাদের হাতছাড়া হয়েছে। এরফলে সারা বছর ধরে লাখ লাখ টাকা পুঁজি খাটিয়ে ঈদের সময় এসে আমরা চামড়া সংগ্রহ করতে পারছি না। ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।’

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পরিতোষ ঘোষ বলেন, ‘চামড়া পাচার রোধে আমরা প্রতি বছরের মতো এবারো কঠোর। প্রথমতো সিলেটের পার্শ্ববর্তী যেসকল বর্ডার আছে সেই সকল বর্ডার দিয়ে কোনো চামড়াবাহী গাড়ি যেতে চাইলে-তা আটকানো হবে। চামড়াবাহী গাড়ি শুধু রাজধানীর ট্যানারির উদ্দেশ্যে যেতে পারবে। তিনি বলেন, সিলেট থেকে চামড়া পচারের কোনো সুযোগ নেই।’

এদিকে, সিলেট বিভাগের চার জেলায় আসন্ন কোরবানির ঈদের জন্য চার লক্ষাধিক পশু প্রস্তুত রয়েছে। গত বছর কোরবানিতে সিলেট বিভাগে পশু কোরবানির সংখ্যা ছিল চার লাখের বেশি। এবছরও সমান সংখ্যক পশু কোরবানি হবে বলে সিলেট বিভাগীয় প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর ধারণা করছে।

সিলেট বিভাগীয় প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের ধারণা অনুযায়ী সিলেট বিভাগে এবার চার লক্ষাধিক পশু কোরবানি হবে।

এবার বিভাগের ৩৯টি উপজেলার খামারীদের খামারে কোরবানির উপযোগ্য পশু রয়েছে সর্বমোট ৪ লাখ ১ হাজার ৫১০টি। গত ৩১ মে পর্যন্ত খামারীদের দেওয়া হিসেব অনুযায়ী ষাঁড় রয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার ৩৭০টি। বলদ ৫১ হাজার ৪৭৭টি, গাভী ৩১ হাজার ৬৬৯ টি, মহিষ ১৪ হাজার ৮৫৪টি, ছাগল ৮৪ হাজার ১০৫টি, ভেড়া ৩৭ হাজার ৯৭৯টি ও অন্যান্য ৬০টি পশু রয়েছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open