নগরীতে ইয়াবাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী আটক : দেড় লাখ টাকায় রফাদফা

নিজস্ব প্রতিবেদক:: নগরীর কাজলশাহের নবাব রোডে ৭০পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী আটক করে দেড় লাখ টাকায় রফাদফা করে মাদক ব্যবসায়ীদের ছাড়ার অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার রাত সাড়ে ৩টায় এসএমপির লামাবাজার ফাঁড়িতে মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে বিষয়টি রফাদফা করেন ফাঁড়ির এস.আই নূরে আলম সিদ্দিকি,এ.টি.এস.আই মোর্শেদ কামাল ,ও কনস্টেবল জামাল।

সূত্র জানায়, লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির এস.আই নূরে আলম সিদ্দিকি, এ.টি.এস.আই মোর্শেদ কামাল,ও কনস্টেবল জামালসহ তাদের সঙ্গীয় ফোর্স গতকাল সোমবার রাত ২টায় কাজলশাহের নবাব রোডে টহল দেয়ার সময় ৩ জন লোককে একসাথে দেখেন। পুলিশ উপস্থিতি দেখে এসময় তারা পালানোর চেষ্টা করলে তারা তাদের আটক করেন। এসময় তাদের দেহ তল্লাশী করে তাদের কাছ থেকে ৭০পিস ইয়াবাসহ ৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। আটকৃতরা পুলিশের কাছে শিকার করে তারা মাদক ব্যবসায়ী। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তারা ইয়াবা বিক্রি করে। পরে রাত আড়াইটায় তাদের লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায় পুলিশ। ফাঁড়িতে নেয়ার পর তাদের ছবিও তুলেন পুলিশ সদস্যরা।

আটককৃত মাদক ব্যবসায়ীরা হলেন- বিশ্বনাথ থানার কালিগঞ্জ বাজারের মৃত নিহার রঞ্জন চক্রবর্তীর ছেলে রাজ নারায়ন চক্রবর্তী (২৭), বিয়ানীবাজার থানার জলটুপ এলাকার রাণু চক্রবর্তীর ছেলে অর্ক (২৫) ও কানাইঘাট থানার বাজেখেল এলাকার সাইফুল আলীর ছেলে কামরুজ্জামান নোমান (২৫)। ফাঁড়িতে নেয়ার পর শুরু হয় মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে পুলিশের বিষয়টি রফাদফার আলাপ।

মাদক ব্যবসায়ীদের পক্ষে আলাপ করে আটককৃত নোমান ও পুলিশের পক্ষে ফাঁড়ির এস.আই নূরে আলম সিদ্দিকি,এ.টি.এস.আই মোর্শেদ কামাল, ও কনস্টেবল জামাল। চলে দর-কষাকষি। পুলিশের দাবী ৩ জন মাদক ব্যবসায়ীকে থানায় না দিয়ে ফাঁড়ি থেকে ছাড়তে ৩ লাখ টাকা দিতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী নোমান তাতে রাজি না হয়ে ১ লাখ টাকা দেবে জানায়। । এতে রাজী হননি এস.আই নূরে আলম সিদ্দিকি,এ.টি.এস.আই মোর্শেদ কামাল,পরে দীর্ঘ এক ঘন্টা দর-কষাকষির পর দেড় লাখ টাকায় ৩ জন মাদক ব্যবসায়ীকে ফাঁড়ি থেকে ছাড়া হয়।একটি নির্ভর যোগ্য সূত্র জানিয়েছে আটককৃত কামরুজ্জামান নোমান নগরীর বাগবাড়ী,কাজলশাহ,ঘাসিটুলা,কানিশাইল এলাকায় ইয়াবা বিক্রি করে আসছে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি মোশাররফ হোসেন বলেন এধরনের কোন ঘটনা নয়,ফাঁড়ি পুলিশ ৩জন মোটরসাইকেল আরোহীকে মোটরসাইকেলের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় আটক করে,পরবর্তীতে তারা লোক মারফত কাগজ নিয়ে আসলে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়।এ ব্যাপারে লামাবাজার ফাঁড়ির নূরে আলম সিদ্দিকিকে মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।  সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (উওর) সুহেল রেজা বলেন,আটকের বিষয়টি আমার জানানেই।আর টাকার বিনিময়ে মাদক ব্যাবসায়ী ছেড়ে দেয়ার প্রমান পাওয়া গেলে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open