সিলেটে রাজু হত্যা মামলায়, আটক ১


সুরমা টাইমস ডেস্ক :: সিলেটে দলীয় কোন্দলে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ছাত্রদল নেতা ফয়জুল হক রাজুর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে।

সোমবার (১৩ আগস্ট) রাতে নিহত রাজুর চাচা দবির আলী বাদী হয়ে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রকিব চৌধুরীকে প্রধান আসামী করে ২৩ জনের নাম উল্লেখপূর্বক একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। (মামলা নং ২৩)। এছাড়া মামলায় আরো ১০/১২ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে। মামলার পর এজাহারভুক্ত এক আসামীকে আটক করেছে পুলিশ।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাব মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলায় ২৩ জনের নামোল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১২ জনকে আসামী করা হয়েছে। এছাড়া মামলায় আলফু মিয়া নামে এক আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সে ওই মামলার ১৪ নম্বর আসামী।

বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে বলে তিনি জানান।
এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে রোববার (১৩ আগস্ট) সিলেট ছাত্রদলের সাবেক তিন নেতা লিটন, মুন্না ও রাজুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কোতোয়ালী থানায় আনা হয়েছিলো। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের পুলিশের উপর হামলার একটি পুরোনো মামলায় আটক দেখিয়ে সোমবার (১৩ আগস্ট) আদালতে প্রেরণ করে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেন।

এর আগে ময়নাতদন্ত শেষে রবিবার রাজুর মরদেহ নিজ বাড়ি মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার শাহপুর গ্রামে দাফন করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার রাতে সদ্য নির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ফেরার পথে ছাত্রদলের একটি গ্রুপ রাজুসহ তার দুই সহযোগীর ওপরে হামলা করে। হামলার পর প্রায় ১০ মিনিট ধরে রাজুর রক্তাক্ত দেহ রাস্তায় পড়েছিল। পরে তার সতীর্থরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ফরেনসিক বিভাগ থেকে জানা যায়, রাজুর দেহে ধারালো অস্ত্রের প্রায় অর্ধশত আঘাতের চিহ্ন ছিলো। প্রত্যেকটি আঘাতই বেশ গভীর। সবচেয়ে বেশি গুরুতর আঘাত ছিল মাথা এবং বুকে। এই দুটি আঘাতের কারণে শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়।

Sharing is caring!

Loading...
Open