দক্ষিন সুনামগঞ্জে ইভটিজিং এর শিকার বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ও ছাত্রীরা…….!

দ.সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের দক্ষিন সুনামগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নের আব্দুর রশীদ উচ্চ বিদ্যালয়ে বখাটেদের ইভটিজিং এর কারণে ব্যাহত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ব্যবস্থা। বখাটেরা প্রতিনিয়ত বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার পথে শিক্ষিকা থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে আকার ইঙ্গিতে খারাপ খারাপ বাক্য প্রয়োগ করে তাদের উত্যেক্ত করার কারনে মান সম্মানের ভয়ে স্কুল ছেড়ে দিয়েছেন অনেক শিক্ষার্থীরা। এমনকি প্রতিষ্ঠানের বিবাহিতা একজন শিক্ষিকা ও বখাটেদে ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর প্রতিকার চেয়ে অভিভাবকরা দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন অবহিত করার পরও ইভটিজিং বন্ধ হওয়া তো দূরের কথা এর মাত্রা আরো বেড়ে যায়।

সোমবার সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় বিদ্যালয়ের প্রতিটি রুমের দরজায় তালা ঝুুলিয়ে রাখা হয়েছে। এ সময় কিছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা স্কুলের সামনে জড়ো হয়ে বখাটেদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান। এ নিয়ে উল্লেখিত দুই শিক্ষক ও বখাটেদের বখাটেপনায় অতিষ্ঠ কিছু শিক্ষক ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান ,ঐ সমস্ত বখাটেরা স্কুলে আসা যাওয়ার পথে রাস্তা আটকিয়ে তাদের অশালীন ভাষা প্রয়োগ করার কারণেই আমাদের অভিভাবকরা আমাদের স্কুলে যেতে বারণ করেছেন।

এ ব্যাপারে ইভটিজিংয়ের শিকার প্রতিষ্ঠানে গণিতের শিক্ষিকা লাকী ভদ্র জানান, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোঃ শিহাব ও উল্œেখিত দুজন শিক্ষক এবং বখাটেরা প্রতিনিয়ত তার ক্লাস চলাকালীন সময়ে বিরক্ত করেন আজে বাজে মন্থব্য করতে ও তারা দ্বিধাবোধ করেন না। তিনি ঐ সমস্ত বখাটেদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের নিকট দাবী জানান।

এ ব্যাপারে দরগপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও অভিভাবক মোঃ ছুফি মিয়া বলেন, প্রতিষ্ঠানের দুজন সহকারী শিক্ষক সুলতান মাহমুদ ও সাইফুল ইসলাম তালুকদার তাদের ইন্দনদাতা ছাতক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রুহেল মিয়ার মাধ্যমে নোয়াগাও এর ফয়সল মিয়ার ছেলে বহিরাগত বখাটে ফাহাত,সুজাত মিয়ার ছেলে সজীব মিয়া,দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদ রগাপাশ গ্রামের শাহাবাজ মিয়ার ছেলে রাব্বুরাজ একই গ্রামের আনাছ আলীর ছেলে রুহান মিয়াসহ আরো কয়েকজন বখাটেরা এই প্রতিষ্ঠানের দেয়ালে এবং মেয়েদের ক্লাসরুমে মেধাবী ছাত্রীদের নাম উল্লেখ করে খারাপ ভাষায় লিখে রাখা হয়েছে। এজন্য তিনি তার ছেলে এবং মেয়েকে ক্লাসে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি বিষয়টি মৌখিকভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করেছেন। তিনি এই সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং বখাটেদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শান্তি প্রদানের দাবী জানান।

এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শফি উল্ল্যার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাকে অবহিত করেছেন। তিনি তাৎক্ষনিক জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েছেন এবং মঙ্গলবার তিনি সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং বখাটেপনা রোধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ নুরুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open