রাজু হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের তথ্য পেয়েছে পুলিশ


বিশেষ প্রতিনিধি::সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ প্রচার সম্পাদক ফয়জুল হক রাজু (২৮) হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের তথ্য পেয়েছে পুলিশ।তাদেরকে গ্রেফতার করতে অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানান কোতোয়ালী থানার ওসি মোশারফ হোসেন।

এদিকে রবিবার (১২ আগস্ট) রাজু হত্যার ঘটনায় সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানায় কোন মামলা হয়নি। তবে পুলিশ হত্যার ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য তিন জনকে আটক করেছে রবিবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যায়।

সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ওসি মোশারফ হোসেন জানান, রাজু হত্যার সাথে যাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে তাদের অনেকের তথ্য পুলিশ পেয়েছে। তদন্তে বেশ কিছু অগ্রগতিও হয়েছে। পুলিশ নগরের বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে রবিবার তিনজন ছাত্রদল নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য থানায় নিয়ে এসেছে। পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার পর পরই দ্রুত জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ সূত্র জানায়, ময়না তদন্তের সময় রাজুর ছিন্নিভিন্ন দেহ দেখে হতম্ভব হয়ে যায় সংশ্লিষ্টরা। পরে সংশ্লিষ্ট থানার দায়িত্বরত পুলিশের উপস্থিতি গতকাল দুপুরে শুরু হয় রাজুর ময়নাতদন্ত। এসময় ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক রাজুর দেহে একে একে ৪৩ কোপ সনাক্ত করেন। একেকটি কোপের আঘাত খুবই গভীর ছিলো। তবে সবচেয়ে বেশী গুরুতর আঘাত ছিলো রাজুর মাথা এবং বুকে। এই দুটি আঘাতের কারণে রাজুর দেহ থেকে প্রচুর রক্তকরণ হয়।

মাথার উপরের ২টা আঘাত ছিলো দা কিংবা লম্বা চাপাতি জাতীয় কিছুর। এছাড়াও তাকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত হয় একাধিক ছোরা। রাজুর মাথার পেছনে বাম পাশে ছিলো আরও ৭টি, কপালের ওপর ১টি,ডান হাতের বাহু থেকে কব্জি পর্যন্ত ১২টি, দুই হাতে ২টি, চার আঙ্গুলে ৪টি, বাম হাতের কব্জির উপর ১টি, বুকে ২টি ও পিঠে ২টি,ডান হাতের নীচে ১০টি এবং ডান পায়ে আরও ২টি ধারালো অস্ত্রের আঘাত পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে রাজুর দেহে ৪৩ কোপ পাওয়া যায়।

পুলিশ সূত্র জানায়, রাজুকে এলোপাতাড়ি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপানো হয়। আর তাকে হত্যার পেছনে একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পায় পুলিশ। এছাড়াও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন লিটন ও উজ্জলের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকেই জড়িতরা আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতারের অনেকটা কৌশল অবলম্বন করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদেরকে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে যাচ্ছে। রাজুর পরিবার ও তার সহপাঠীরা পুলিশকে সন্দেহজনক কয়েকজনের নাম, মোবাইল নাম্বার ও ফেসবুক আইডিও দিয়েছেন।

শনিবার (১১ আগস্ট) হামলার ঘটনার পর প্রায় ১০ মিনিট রাজুর রক্তাক্ত দেহ রাস্তায় ফেলা ছিলো। পরে তার সহপাঠীরা খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সময় মোটরসাইকেল ড্রাইভ করছিলেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা লিটন। ওই মোটরসাইকেলের মধ্যখানে বসা ছিলেন নিহত রাজু ও পেছনে ছিলেন আহত উজ্জল।

হামলাকারীরা প্রথমে মোটরসাইকেলের পেছনে রাজু বসা আছে এমন ভেবে গুলি ছুঁড়লে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাঠিতে লুটিয়ে পড়েন উজ্জল। এরপর মোটরসাইকেল পড়ে গেলে হামলাকারীরা রাজুকে এলোপাতাড়ি কোপিয়ে ফেলে রেখে যায়।

Sharing is caring!

Loading...
Open