ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল : ৯২-এ বিধান থেকে শুরু ১৮-এ রাজু……..

নিজস্ব প্রতিবেদক::
ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে একের পর এক ঝরছে তরুণ নেতৃত্ব। খালি হচ্ছে একের পর এক মা-বাবার কোল। দেশ হারাচ্ছে ভবিষ্যত নেতৃত্ব। আর এই হত্যায় নেই চোখে পড়ার মত আইনী পদক্ষেপ। বিএনপির সহযোগি সংগঠন হিসেবে পরিচিত এবং অনেকে বিএনপির ভ্যানগার্ড বলে ডাকেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সিলেটে অভ্যন্তরীন কোন্দলে ও গ্রুপ, উপগ্রুপে বিভক্ত ছাত্রদল। চলছে একের পর এক রক্ত খেলা। নেতাদের আধিপত্য ও শক্তির খেলায় বলি হতে হচ্ছে কর্মীকে। হত্যার পর নেতারা পরিবারে গিয়ে শান্তনার পর শেষ হয়ে যায়। অনেক সময় মামলা হলেও পরিবারের পাশে থাকে না কেউ। আশ্বাসে ফাইলে বন্দি থাকে নেতাদের কথা। আর হত্যার বিচার পড়ে থাকে অন্তরালে। হতাশায় পড়েন যারা হারিয়েছেন তারা। স্বপ্নে বোনা ছেলেকে হারিয়ে শোকে কাতর মা-বাবার স্বপ্ন দুঃস্বপ্ন হয়ে রয়। নেতারা আধিপত্য ও শক্তির খেলায় আর কত কর্মীদের রক্তে স্নান করবেন এখন অনেকর প্রশ্ন।

সিলেটে ছাত্রদলের আধিপত্য ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল শুরু ৯২’ সালে। ওই বছর সিলেটের বিশ্বনাথ কলেজে ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিজ দলের কর্মী বিধান। এর পর বিধান থেকে ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে হত্যার যাত্র শুরু। ৯৩’ সালের ২৩ মে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রাবাসের গেটে নিহত হন ছাত্রদল নেতা দুলাল। ৯৪’ সালে ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে খুন হন এনামুল হক মুন্না। ৯৫’ সালে ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে হত্যা করা হয় মুরাদ চৌধুরী সিপার। একই বছরের ২১ নভেম্বর সিলেট এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে প্রাণ হারান ছাত্রদল নেতা মুহিন খান। ৯৯’ সালে আগস্টে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিহত হন ছাত্রদল কর্মী বকুল ধর। একই বছরের নভেম্বরে নিজ সংগঠনের কর্মীদের হাতে খুন হন ছাত্রদল কর্মী ঝুটন মজুমদার। ২০০১ সালের ৩ মে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ছাত্রদল কর্মী আবদুল হালিম ও ১০ অক্টোবর ফখরুল ইসলাম খুন হন। ২০০৩ সালে কলবাখানি এলাকায় ছাত্রদলের দুই গ্রুপে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন সাহাদ আহমদ। ২০০৫ সালের ১৪ জুলাই ছাত্রদলের কোন্দলে হত্যা করা হয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র লিটনকে। ২০১২ সালে নিজ দলের ক্যডারদের হাতে শিবগঞ্জে খুন হন ছাত্রদল নেতা মেহরাব সিদ্দিকী সজিব। একই বছরের ২২ মার্চ ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে খুন হন ছাত্রদল নেতা মাহমুদ হোসেন শওকত। ২০১৪ সালের ২৭ জুলাই নগরীর পাঠানটুলায় গোবিন্দগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও মহানগর ছাত্রদল নেতা জিল্লুল হক জিলু আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নিজ দলের কর্মীদের হামলায় নিহত হন। ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারী সিলেটে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রায় ব্যানারের সামনে অবস্থান করাকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিহত হন মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবু হাসনাত সিমু এবং একই বছর ১১ আগস্ট সর্বশেষ নগরীর কুমারপাড়ায় অভ্যন্তরীন কোন্দলে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে ফয়জুর রহমান রাজু নামে এক ছাত্রদল নেতা নিহত হন।

Sharing is caring!

Loading...
Open