নগরীতে পুলিশের এক হাতে ফুল, অন্য হাতে মামলার বই

নিজস্ব প্রতিবেদক :: গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। কখনো কখনো দলবল নিয়ে অভিযানে নামছেন বড় কর্তারা। তাদের সাথে রোভার স্কাউটের সদস্যরা। যানবাহনে চালিত অভিযানে যাদের গাড়ির কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স সবকিছু সঠিক পাওয়া যাচ্ছে, তাদেরকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন পুলিশ ও রোভার স্কাউটের সদস্যরা। কিন্তু যেসব যানবাহনের কাগজপত্র ঠিক নেই এবং যাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই, তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করা হচ্ছে।

এক হাতে ফুল আর আরেক হাতে মামলার বই নিয়ে ট্রাফিক পুলিশদের দায়িত্ব পালনের এই দৃশ্য দেখা মিলছে সিলেটে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর শুরু হওয়া ট্রাফিক সপ্তাহে এই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। ট্রাফিক সপ্তাহ তিন দিন বেড়ে যাওয়ায় কাল রবিবারও একই দৃশ্যপট দেখা গেছে সিলেটের রাজপথে।

জানা যায়, ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। তাদের সাথে প্রায় সময়ই যোগ দিচ্ছেন মহানগর পুলিশের ট্রাফিক শাখার কর্মকর্তারা। এই ট্রাফিক সপ্তাহে সহযোগিতা করছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রোভার স্কাউটের সদস্যরা। যানবাহনে চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। যেসব যানবাহনের কাগজপত্র, ফিটনেস, ইন্সুরেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক পাওয়া যাচ্ছে না, সেসব যানবাহন আটক করা হচ্ছে। দেয়া হচ্ছে মামলা। করা হচ্ছে জরিমানাও।

ট্রাফিক সপ্তাহের বর্ধিত তিন দিনের প্রথম দিনে কাল রবিবার নগরীর কোর্ট পয়েন্ট, জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা, জল্লারপাড় প্রভৃতি এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পরিতোষ ঘোষের নেতৃত্বে অভিযানে ছিলেন উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) তোফায়েল আহমদ, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আব্দুল ওয়াহাব, বিভূতি ভূষণ বন্দোপাধ্যায় প্রমুখ।

সিলেট মহানগর পুলিশের ট্রাফিক শাখার পরিদর্শক হাবিবুর রহমান সুরমা টাইমসকে জানান, রবিবার পুলিশ ১১৫টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। এছাড়া ১৮৩ জন চালকের বিরুদ্ধে মামলা ও ১৮টি যানবাহন আটক করা হয়েছে। একইসাথে বিভিন্ন যানবাহন ও চালকদের দুই লাখ ৮শ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

নগর পুলিশের ট্রাফিক শাখা সূত্রে জানা যায়, ট্রাফিক সপ্তাহের প্রথম সাত দিনে সিলেটে ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও লাইসেন্সবিহীন চালকের বিরুদ্ধে দুই হাজার ১৮৫টি মামলা দেয়া হয়।

এদিকে, অনিয়ম পেলে যেমন ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ, তেমনই যেসব যানবাহনের সকল কাগজপত্র এবং চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স সঠিক পাওয়া যাচ্ছে, তাদেরকে হাসিমুখে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছে। এ বিষয়টি সাধারণ মানুষের মাঝেও সাড়া ফেলেছে। পুলিশের এমন উদ্যোগ সবসময় বজায় রাখা উচিত বলে মনে করছেন নগরবাসী

এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) তোফায়েল আহমদ বলেন, ‘অভিযানে কাউকে ছাড় দেয়া হচ্ছে না। ট্রাফিক সপ্তাহ শেষেও এমন অভিযান চলমান থাকবে।’

Sharing is caring!

Loading...
Open