কাঙ্গালী ভোজের খাবার সিভিল সার্জন দ্বারা পরীক্ষা করতে হবে

সুরমা টাইমস ডেস্কঃঃ আগামী ১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট, ব্লক রেইডসহ সর্বোচ্চ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। শোক দিবসে যে সকল সামাজিক অনুষ্ঠান ও কাঙ্গালী ভোজের আয়োজন করা হয় সে সকল অনুষ্ঠান যেন নির্বিঘ্ন ও সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয় সেই জন্য জেলা পুলিশ সুপারদের আরো নজরদারী বাড়াতে হবে। কাঙ্গালী ভোজের খাবার সিভিল সার্জন দ্বারা পরীক্ষা করে নিতে হবে।

শনিবার সকালে পুলিশ সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উদযাপন এবং ঈদুল আযহা উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভায় পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশনা দেয়া হয়। সভায় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর সভাপতিত্ব করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন- পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন্) মোখলেসুর রহমান, অতিরিক্ত আইজিপি (এফএন্ডডি) মইনুর রহমান চৌধুরী, র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আবুল কাশেম, এপিবিএন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি সিদ্দিকুর রহমান, এটিইউ এর অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, শিল্পাঞ্চল পুলিশের ডিজি আবদুস সালাম, সকল পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ, হাইওয়ে, রেলওয়ে, নৌ ও ট্যুরিস্ট পুলিশসহ অন্যান্য ইউনিটের ডিআইজি, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

সভায় আইজিপি জাবেদ পাটোযারী বলেন, ঈদুল আজহা উত্সবমুখর পরিবেশে উদ্যাপনের লক্ষ্যে পুলিশ কর্মকর্তাদের নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যাতে কোনো ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে সেজন্য সকলকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ ছাড়া মহাসড়কে কোরবানির পশুবাহী ট্রাক থামানো যাবে না। তিনি সড়ক, রেল, নৌপথ, পশুরহাট এবং ঈদ জামাতস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

নির্ধারিত ঘাট ব্যতীত কোরবানীর পশু উঠানামা রোধ, পশুরহাটে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন, পশুর হাট ইজারাদার কর্তৃক হাসিল হার প্রদর্শন, নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত হাসিল আদায় না করা, কোরবানির পশু ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন স্থাপন এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা ইত্যাদি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কোরবানীর পশু পরিবহণে ব্যবহূত নৌপথ ও সড়কপথে চাঁদাবাজি রোধে পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে। পরিবহনের গায়ে উত্সস্থল ও গন্তব্যস্থলের নাম সম্বলিত ব্যানার সংযুক্ত করতে হবে।

কোরবানীর পশুর কৃত্রিম সংকটকারী, অতিরিক্ত হাসিল আদায়কারীসহ কোরবানীর পশুর হাটের আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়। চামড়া যাতে সীমান্তমুখী না হয় সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়।

জনগণের সার্বিক সহায়তা ও সচেতনতা কামনা করে আইজিপি বলেন, অপরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে পানীয় এবং খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন। বড় ধরণের আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে পুলিশের সহায়তা নেবেন। অজ্ঞান ও মলম পার্টির অপতত্পরতা থেকে সর্তক থাকবেন। প্রয়োজনে লিফলেট ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের ব্যবস্থা করবে। ঈদে নৌ পথে ঘরমুখে যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণের লক্ষ্যে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য নৌ পুলিশ নিয়োজিত থাকবে। নৌ পথে যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং চাঁদাবাজি রোধে নৌ পুলিশ ইউনিট অন্যান্য পুলিশ ইউনিটের সহায়তায় চেকপোস্ট স্থাপনসহ টহলের ব্যবস্থা করবে।

জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ দেশের প্রধান প্রধান ঈদ জামাতস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেয়া হবে। এছাড়া, জেলা এবং থানা পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ঈদ জামাতস্থলের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিরোধপূর্ণ স্থানে ঈদ জামাত না করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। বাস টার্মিনাল এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে টহল জোরদার, টিকেট কালোবাজারী ও মহাসড়কে ডাকাতি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সভায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে মনিটরিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ঈদ জামাতস্থল, লঞ্চ, ট্রেন, বাস এবং মসজিদে জঙ্গি গোষ্ঠীর নাশকতা রোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। প্রতিটি ইউনিটকে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং ইউনিট গঠন এবং সাইবার পেট্রল বাড়ানোর জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়। ১৫ আগস্ট এর আগে ও পরে নিজ নিজ অধিক্ষেত্রের পুলিশ সুপাররা সকল হোটেল ও বোডিং তল্লাশি করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করবে। ট্যুরিস্ট অঞ্চল/স্থান গুলোতে নিরাপত্তা জোরদার ও হোটেল এবং বোডিং গুলোতে চেকিং করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্ব স্ব ইউনিটের ট্যুরিস্ট পুলিশকে নির্দেশ প্রদান করা হয়।

সভায় এআইজি (অপারেশনস্) সাঈদ তারিকুল হাসান ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উদযাপন এবং ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশু পরিবহন ও কোরবানীর পশুর হাটের নিরাপত্তা, মহাসড়ক, নৌপথ, রেলপথের নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ঈদ জামাতস্থলের নিরাপত্তা, বিনোদন কেন্দ্রের নিরাপত্তাসহ সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। প্রতিটি ইউনিট নিরপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করবে এবং পুলিশ সদর দপ্তরকে জানাবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open