সুনামগঞ্জ মহিলা কলেজের সংবাদ প্রকাশের জেরে বিক্ষোভ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: জেলার একটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ কে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন বিভাগে অধ্যয়নরত ছাত্রীরা।

সোমবার দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে প্রতিবেদনটি ‘মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে সম্পাদন করা হয়েছে’ উল্লেখ করে এর প্রতিবাদ জানায় তারা।

এসময় স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় আগুন দেয় কলেজর বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা।

আন্দোলন কর্মসূচিতে অংশ নেয়া ছাত্রীরা জানায়, সরকারি মহিলা কলেজ এর হোস্টেল সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন সোমবার প্রকাশিত হলে এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত কোন কোন তথ্য তাদের কাছে মিথ্যা মনে হয়েছে। পাশাপাশি অর্থ কেলেঙ্কারির বিষয়ে যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে তা ‘উদ্দেশ্য প্রণোদিত’ বলেও উল্লেখ করেন ছাত্রীরা। এসময় কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।

আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে সড়কে বেরিয়ে আসতে চাইলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও শিক্ষকরা তাদের বাধা প্রদান করে।

কলেজটির দ্বাদশ শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী অপি দাশ বলেন‘ প্রতিবেদনে আমাদের যেসব সমস্যা দেখানো হয়েছে আমরা হোস্টেলে সেরকম কোন সমস্যায় ভুগছি না, টাকার বিষয় উল্লেখ করে যে অভিযোগ আনা হয়েছে সেটি আমাদের মতে সঠিক নয়, এতে ইচ্ছে করেই আমাদের প্রতিষ্ঠানের মানহানি করা হয়েছে, আমরা এর প্রতিবাদ জানাই’।

মানবিক বিভাগের ছাত্রী সুপাতা রাণী দাশ বলেন‘ আমাদের স্যারদের সঙ্গে যদি কোন ব্যক্তিগত বিরোধ থাকে তাহলে সেটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কেনো আনা হবে সেটি আমাদের জানাতে হবে। গণমাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উঠে আসবে বলে আমরা আশা করি, এই প্রতিবেদন মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে সম্পাদন করা হয়েছে’।

মানবিক বিভাগের আরেক ছাত্রী মীম দে বলেন‘ সরকারি মহিলা কলেজের বিরুদ্ধে যিনি রিপোর্ট করেছেন তিনি ঘরে বসেই রিপোর্ট করেছেন। হোস্টেলে আমরা থাকি। কিন্তু আমাদের এরকম কোন সমস্যা নেই। এটা ইচ্ছাকৃতভাবে আমাদের প্রতিষ্ঠানের সম্মানহানি করা হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই’।

আন্দোলনের ব্যাপারে কলেজটির হোস্টেল সুপার ও সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক শামী-মুল হাসান বলেন‘ আগের চেয়ে এই প্রতিষ্ঠানে হোস্টেলের অবস্থা অনেক উন্নত, একটা সময়ে এই হোস্টেলে করুন অবস্থা ছিলো সেটা আমরাও স্বীকার করি, কিন্তু বর্তমানে আমাদের ছাত্রীদের কাছেই জিজ্ঞেস করে দেখুন কতোটা সুবিধা ভোগ করছে তারা। তারা নিজেরাই এখন এই হোস্টেল পরিচালনা করে। গণমাধ্যমে যে খবর এসেছে সেটার প্রতিবাদ জানিয়ে ছাত্রীরা নিজে থেকেই আন্দোলনে নেমে পড়েছে। আমরা তাদের বাইরে যেতে দেইনি। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা আইন শৃঙ্খলা বাহীনির সহায়তা নিয়েছি। কিন্তু ছাত্রীরা আন্দোলন কর্মসূচিতে নেমেছে। এর জন্য এই প্রতিষ্ঠানের মানহানির জন্য ঐ গণমাধ্যমকেই আমি দায়ী করবো’।

শিক্ষক রামানুজ আচার্য বলেন‘ গণমাধ্যমে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা ভিত্তিহীন, আমরা এর প্রতিবাদ জানাই এবং এর জন্য আমরা আইনের আশ্রয় নেবো’।

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক মাসুদ জামান লিটন বলেন, ছাত্রীরা কারও উস্কানিতে আন্দোলনে নামেনি, সরেজমিনে হোস্টেলের অবস্থা না দেখে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় ছাত্রীরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। আমরাও এই সংবাদের প্রতিবাদ জানাই, কারণ এতে আমাদের প্রতিষ্ঠানের মানহানি হয়েছে’।

এ বিষয়ে স্থানীয় ঐ গণমাধ্যমটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি মহিলা কলেজের হোস্টেলের বিষয়ে একটি অভিযোগ জেলা প্রশাসন বরাবরে শিক্ষার্থীরাই করেছে।

জেলার প্রকাশিত এ গণমাধ্যমটির বার্তা প্রধান বিন্দু তালুকদার বলেন- ‘কলেজটির শিক্ষার্থীরাই হোস্টেলের অনিয়ম বিষয়ে জেলা প্রশাসন বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছে এবং এর তদন্ত করার জন্য প্রশাসন থেকেই প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন‘ এরকম একটি স্বাক্ষরবিহীন অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে গত ৩০ তারিখে। অভিযোগকারীরও কোন নাম নেই। এ ধরণের আবেদন বা অভিযোগ অনৈতিক, তবুও আমরা একজন সহকারী কমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছি।

Sharing is caring!

Loading...
Open