আশা রইলো না কামরানের…….!

নিজস্ব প্রতিবেদক :: ফুটবলের কথাই ধরা যাক। নির্ধারিত নব্বই মিনিটে কোনো দল ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে। অতিরিক্ত সময় দেয়া হলো এক মিনিট। পিছিয়ে থাকা দল কিংবা দলের সমর্থকরা এই এক মিনিটেই ‘মিরাকল’র প্রত্যাশায় ব্যাকুল থাকেন; প্রবল আশায় বুক বাঁধেন তারা, এই বুঝি গোল শোধ করে সমতায় ফিরলো দল! কখনো-সখনো এরকম ক্ষেত্রে ‘মিরাকল’ ঘটেও থাকে। পিছিয়ে থাকা দল অতিরিক্ত সময়ে গোল শোধ করে জয়সূচক গোলও করে বসে কদাচিৎ।

সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কেউ কেউ প্রকাশ্যে না বললেও অপ্রকাশ্যে ‘অতিরিক্ত সময়ে গোল শোধ করে জয়সূচক গোল’ দেয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্নও যেন এখন দূরের আকাশ থেকে খসে পড়া নক্ষত্র।

সিসিক নির্বাচন ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হয়। সেদিন সংঘাতের কারণে দুটি কেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত হয়নি মেয়র পদে বিজয়ীর নাম। তবে সিসিকের বাকি ১৩২টি কেন্দ্রে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী ৪৬২৬ ভোটে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের চেয়ে এগিয়ে।

স্থগিত হওয়া কেন্দ্র গাজী বুরহান উদ্দিন গরম দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার ২২২১ জন এবং হবিনন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার ২৫৬৬ জন। অর্থাৎ, এ দুই কেন্দ্র মিলিয়ে মোট ভোটার ৪৭৮৭ জন হওয়ায় ৩০ জুলাইয়ের ভোটে আরিফকে মেয়র পদে বিজয়ী ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন। এ দুই কেন্দ্রে পুনরায় ভোটের দিন ১১ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই পুনঃভোটে কামরানকে জিততেহলে কমপক্ষে ৪৬২৭ জন ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে আনতে হতো। এদের সবার ভোট পড়তে হতো নৌকা প্রতীকে। বড্ড কঠিন হলেও মিরাকলের আশায় ছিলেন আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতাকর্মী।

তবে সেই আশাও এখন মিইয়ে গেছে। বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী স্থগিত হওয়া ওই দুই কেন্দ্রে ভোটের যে হিসাব দেখিয়েছেন, তাতে কামরানের জন্য কোনো আশাই থাকছে না।

গাজী বুরহান উদ্দিন গরম দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এবং হবিনন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটারদের মধ্যে ২৯৮ জনই ভোট দিতে অপরাগ বলে জানিয়েছেন আরিফ।

আরিফের তথ্যানুসারে, গাজী বুরহান উদ্দিন গরম দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের মোট ভোটারদের মধ্যে ৮০ জন মারা গেছেন এবং আরও ৮০ জন বিদেশে আছেন। এই ১৬০ ভোটারকে মোট ভোটার ২২২১ থেকে বাদ দিলে থাকে ২০৬১ জন।

অন্যদিকে, হবিনন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের মোট ভোটারদের মধ্যে মারা গেছেন ৩৮ জন, বিদেশে আছেন ১০০ জন। এই ১৩৮ ভোটারকে মোট ভোটার ২৫৬৬ থেকে বাদ দিলে থাকে ২৪২৮ জন।

অর্থাৎ, দুই কেন্দ্রের ভোটারদের মধ্যে মৃত এবং বিদেশে থাকা ব্যক্তিদের বাদ দিলে মোট ভোটার থাকে ৪৪৮৯ জন।

এই ৪৪৮৯ ভোটার কেন্দ্রে গিয়ে নৌকায় ভোট দিলেও কামরানের পক্ষে জয় অর্জন সম্ভব হচ্ছে না। কেননা, আরিফকে ছুঁতে তখনো কামরানের প্রয়োজন ১৩৭ ভোট।

অবশ্য, আরিফের দেয়া ভোটের হিসাব সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন থেকে কিছু বলা হয়নি। ভোটের হিসাব যদি শতভাগ সঠিকও থাকে, তথাপি কমিশন স্থগিত হওয়া ওই দুই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সেরেই মেয়র পদে বিজয়ী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে।

প্রসঙ্গত, সিসিকের ১৩২ কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকে আরিফ পেয়েছেন ৯০ হাজার ৪৯৬ ভোট এবং নৌকা প্রতীকে কামরান পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৭০ ভোট।

Sharing is caring!

Loading...
Open