ট্রাফিক সপ্তাহেও সিলেটে অবৈধ ‘অনটেস্ট’ গাড়ির ছড়াছড়ি

স্টাফ রিপোর্টার : ট্রাফিক সপ্তাহেও সিলেট নগরীতে অবৈধ ‘অনটেস্ট’ গাড়ির ছড়াছড়ি। চলছে অপরিকল্পিত ট্রাফিক সপ্তাহ। নগরীর মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে পুলিশ চেকপোস্ট। সকল ধরণের যানবাহনে চলছে ব্যাপক তল্লাশি। গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স চেকিংসহ চলছে ফিটনেস পরীক্ষা। মোটরসাইকেল আরোহী থেকে শুরু করে কেউ বাদ যাচ্ছেন না পুলিশের নজরদারি থেকে। ট্রাফিক বিভাগের এতো তৎপরতার পর সিলেট নগরীতে চলছে ‘অনটেস্ট’ সিএনজি অটোরিকশা। প্রশাসনকে অনেকটা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দাপুটের সাথে নগরীর বিভিন্ন সড়কে চলছে এসব ‘অনটেস্ট’ সিএনজি অটোরিকশা।
ট্রাফিক সপ্তাহের ৩য় দিন গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে ‘অনটেস্ট’ সিএনজি অটোরিকশা চলতে দেখা গেছে। নগরীর ব্যস্ততম পয়েন্ট আম্বরখানা, শিবগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমার ওভারব্রিজের নিচে অবাধে চলাচল করছে এসব গাড়ি।
পুলিশ বলছে, নগরীতে কোনো অনটেস্ট সিএনজি অটোরিকশা চলছে না। অপরদিকে গাড়ির চালকদের দাবি, তারা প্রসাশনকে টাকা দিয়ে টোকনের মাধ্যমে ‘অনটেস্ট’ গাড়ি নগরীতে চালাচ্ছেন। এই টোকন দেখালে চালকদের লাইসেন্সও প্রয়োজন হয় না। শুধু সমিতির সদস্য হলেই এসব গাড়ি চালানো যায়। ফলে এতো নিরাপত্তার মধ্যেও তারা কোনো ভোগান্তিও পোহাতে হচ্ছে না।
সূত্র জানায়, সিলেট শহরে প্রায় ২ হাজার ৫শ ‘অনটেস্ট’ সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করে। এর মধ্যে সিলেট অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের আওতাধীন রেজি নং-৭০৭-এর আম্বরখানা স্ট্যান্ডে রয়েছে ১ হাজার ৮শ টি অনটেস্ট সিএনজি অটোরিকশা। এসকল গাড়ি নগরীর আম্বরখানা থেকে শুরু করে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-গোয়াইনঘাট-বিছনাকান্দি রোডে চলাচল করে। নগরীর শিবগঞ্জ সুরমা সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে তামাবিল রোডে চলে প্রায় ৩শ অনটেস্ট সিএনজি অটোরিকশা এবং দক্ষিণ সুরমার ওভারব্রিজের নিচ থেকে গোলাপগঞ্জ, চারখাই, বিয়ানীবাজার ও জকিগঞ্জ রোডে চলে প্রায় ৪শ অনটেস্ট সিএনজি অটোরিকশা।
এদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সিলেট অফিস সূত্রে জানা যায়, সিলেটে বৈধ সিএনজি চালিত অটোরিক্সা রয়েছে ২১ হাজার ২৩২ টি। এর মধ্যে প্রায় ৫ বছর আগে দেড় হাজারের উপরে সিএনজি অটোরিকশার নিবন্ধনের জন্য আবেদন জমা পড়ে আছে। এসব আবেদনের কোন সুরাহা এখনও হয়নি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সিলেট জেলা সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের শাখা সভাপতি বা শ্রমিক নেতাদের ছত্রছায়ায় নগরীতে চলাচল করছে এসব অনটেস্ট সিএনজি অটোরিকশা। টোকন মাধ্যমে এসকল গাড়ির বৈধতার বিনিময়ে তারা হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক অনেক চালকরা বলেন, টাকা দিয়ে টোকেন মাধ্যমে এই গাড়ি রোডে চলছে এসব গাড়ি। আর এই টোকেন ‘পুলিশ টোকেন’ হিসাবে পরিচিত।
আর এই ‘পুলিশ টোকেন’ এর মাধ্যমে অনটেস্ট সিএনজি অটোরিকশা পুলিশের সহযোগীতায় নগরীতে চলার বৈধতা দিচ্ছেন সিলেট অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের আওতাধীন রেজি নং-৭০৭-এর আম্বরখানা স্ট্যান্ডের সভাপতি মো. আবুল খান, শিবগঞ্জ সুরমা সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে তামাবিল রোডে নগরীতে চলার বৈধতা দিচ্ছেন জয়নাল, নুরুল ও নাজিম এবং দক্ষিণ সুরমার ওভারব্রিজের নিচ থেকে নগরীতে চলার বৈধতা দিচ্ছেন শামিম আহমদ।
‘পুলিশ টোকেন’ মাধ্যমে অনটেস্ট সিএনজি অটোরিকশা আম্বরখানা স্ট্যান্ডে চলাচল করছে স্বীকার করে সভাপতি মো. আবুল খান বলেন, আমাদের এখানে অনটেস্ট সিএনজি অটোরিকশা রয়েছে। আমাদের গাড়িগুলো আম্বরখানা পয়েন্টে যায় না। নগরীর ভিতরে শুধু গ্যাস নেয়ার জন্য আসে। তবে তাদের কতটি অনটেস্ট সিএনজি অটোরিকশা রয়েছে তা জানাতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি জানান,নগর ট্রাফিক ও

অন্যান্য থানা পুলিশকে বড় অংকের বখরা দিয়ে

বিভিন্ন রাস্তায় এসব সিএনজি চলছে। এদিকে ‘পুলিশ টোকেনের’ মাধ্যমে নগরীতে কোনো অনটেস্ট সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করছে না বলে জানান, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার (ট্রাফিক) তোফায়েল আহমদ। তিনি বলেন, চলছে ট্রাফিক সপ্তাহ। ‘পুলিশ টোকেন’ মাধ্যমে অনটেস্ট সিএনজি অটোরিকশা চলাচলেরতো প্রশ্নই উঠেনা। তবে পুলিশকে লুকিয়ে কেউ অনটেস্ট সিএনজি অটোরিকশা চালাতে পারে। ট্রাফিক বিভাগকে বলা আছে, অনটেস্ট সিএনজি অটোরিকশা দেখলেই আটক করার জন্য।

Sharing is caring!

Loading...
Open