‘রক্তাক্ত সিলেট’: ১৪বছর পরেও যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন আ.লীগ নেতৃবৃন্দ

মারুফ খান মুন্না :: সিলেট নগরীর তালতলাস্থ গুলশান সেন্টারে মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভা শেষে নেতারা যখন গল্প করছিলেন, ঠিক তখনই ভয়ঙ্কর শব্দে কেঁপে ওঠলো পুরো তালতলা এলাকা। নেতাকর্মী কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন নগর আওয়ামী লীগের তৎকালীন প্রচার সম্পাদক ইব্রাহিম আলী। স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত হন অন্তত ২০জন নেতাকর্মী। ঘটনাটি আজ থেকে ১৪ বছর আগে ২০০৪ সালের ৭ আগষ্টের।

ঘটনার ১৪বছর পেরিয়ে গেলেও আহতদের যন্ত্রণা লাঘব হয়নি, অনেকেই এখনো ফিরতে পারেননি স্বাভাবিক জীবনে। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় স্প্লিন্টার নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আহতদের অনেকেই, অসহ্য যন্ত্রণা ভোগ করে চলেছেন তারা। তবে গ্রেণেড বিস্ফোরণের এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মুফতি আবদুল হান্নান ও শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুলের সিলেটে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত আনোয়ার চৌধুরীর উপর গ্রেনেড হামলা মামলায় ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় ‘কিছুটা’ আনন্দিত আহত আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।

সেদিনের ওই গ্রেনেড হামলায় আহত হন গ্রেণেড হামলার পর ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার যে ঘৃণ্য চেষ্টা চালিয়েছিলো তৎকালীন সরকার তা ভাবতেই গা শিউরে উঠে আহত আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের। তারা মনে করেন, সিলেটে ৭ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিলে ২১ আগষ্টের মতো হামলার ঘটনা ঘটতো না।

সিলেটভিউর সাথে আলাপকালে সিলেট মহানগর যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক এবং বর্তমান মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তপন মিত্র জানান, ঘটনাটি আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দের ফল বলে চালিয়ে দিতে চেয়েছিলো ক্ষমতাসীন জামাত-বিএনপি সরকার। এমনকিও তারা প্রচার করেছিল, গ্রেনেড বিস্ফোরণ আমরা নিজেরাই ঘটিয়েছে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য।

তিনি জানান, ওই ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে জামাত-বিএনপি জোট সরকার আওয়ামী লীগ নেতা নুনু মিয়া, সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের তৎকালীন আহবায়ক হাবিবুর রহমান, যুগ্ম আহবায়ক ইলিয়াসুর রহমান, তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা বিধান কুমার সাহা, রণজিৎ সরকারসহ কয়েকজনকে আটক করে।

সিলেটভিউর সাথে আলাপকালে ৭ আগস্টের গ্রেনেড হামলার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে হামলায় আহত হওয়া তৎকালীন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, বর্তমানে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, ’ সিলেটে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করতেই ওই হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় আমি মারাত্মকভাবে আহত হই। এছাড়াও আওয়ামী লীগের আরো প্রায় ১৯জন নেতাকর্মী আহত হন এবং একজন মারা যান।’

তিনি জানান, ‘৭ আগস্ট ওই ঘটনার ৮-১০ দিন আগে জঙ্গিগোষ্ঠী থেকে সিলেটের আমিসহ প্রায় ১৫জন নেতাকর্মীকে হুমকি দিয়েছিল। আমি নিরাপত্তা চেয়ে কোতয়ালী থানায় সাধারণ ডায়েরীও করেছিলাম।কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।’

৭ আগস্টের ঘটনা আর ২১ আগস্টের ঘটনা এক এবং অভিন্ন দাবী করে তিনি জানান, এই ঘটনায় তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ১২ আগস্ট সিলেটে আহত নেতাকর্মীদের দেখতে সিলেট এসেছিলেন। তিনি সিলেটেই জানিয়েছিলেন ২১ আগস্ট জঙ্গি হামলার প্রতিবাদে সভা করবেন। ৭ আগস্টের হামলাকারীরা যদি তাৎক্ষণিকভাবে ধরা পড়তো, যদি ওই হামলার ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা করা না হতো, তবে ঢাকায় ২১ আগস্টে হামলা হতো না।

গ্রেনেড হামলার মামলা পরিচালনাকারী আওয়ামী লীগ নেতা ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ সিলেটভিউকে জানান, বর্তমানে এই মামলা বিচারাধীন। মামলায় মূল অভিযুক্তদের অন্য একটি মামলায় ফাঁসি হলেও সকল আসামীকে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে মামলার কার্যক্রম চলছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open