পুলিশের গুলিতে আহত তালহা মামলার প্রধান আসামি…….!

স্টাফ রিপোর্টার::
গত ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। ওইদিন বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যেই সিলেটে শেষ হয় ভোট গ্রহণ। অপ্রীতিকর ঘটনার কারণে দুটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ওইদিন দুপুর সাড়ে ১২টায় নগরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মিজাবাজারস্থ বখতিয়ার বিবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৌকা ও এক কাউন্সিলর প্রার্থীর ঠেলাগাড়ি প্রতীকে কেন্দ্রে দখল ঘিরে জাল ভোট দেওয়া চলছিল। ওই সময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়লে দুইজন গুলিবিদ্ধ হন।
আহত দু’জনের একজন রায়নগরের ফরহাদ খানের ছেলে তালহা খান এবং আব্দুল কবির খালেদের ছেলে আব্দুল মুক্তাদির ফহাদ। আহত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক তাদের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ফাহাদকে ঢাকায় প্রেরু করা হয়। আহত তালহা এখনো ওসমানী আহপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, তালহা ছিলো কাউন্সিলর প্রার্থী দিনার খান হাসুর পুলিং এজেন্ট। আর ফাহাদ অন্য একজন প্রার্থীর পুলিং এজেন্ট ছিলেন। নির্বাচনের দিন দুপুর সাড়ে ১২ টার সময় কেন্দ্র দখলকে কেন্দ্র করে বখতিয়া বিবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় কেন্দ্রের ভেতরেই পুলিশের গুলিতে আহত হন তালহা ও ফাহাদ। পরবর্তী সময়ে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করে পুলিশ। এতে আহত তালহাকে প্রধান আসামি করা হলেও রহস্যজনক কারণে ফাহাদকে মামলার আসামি কিংবা স্বাক্ষি রাখা হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, কেন্দ্র দখল করা কিংবা কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সাথে তালহার হাত নেই। সে কেন্দ্রে তার দায়িত্ব পালন করছিল। সে পুলিশের গুলিতে আহতও হয়েছে। আবার তাকে মামলার আসামিও করা হয়েছে। বিষয়টি রহস্যজনক। কিন্তু অপর আহতকে আসামি কিংবা স্বাক্ষিও রাখা হয়নি।
এ ব্যাপারে সাবেক কাউন্সিলর দিনার খান হাসু বলেন, নৌকা এবং ঠেলাগাড়ির সমর্থকেরা কেন্দ্র দখল করেন। এ সময় পুলিশ গুলি চালায়। আমার এজেন্ট তালহা এবং অন্য প্রার্থীর এজেন্ট গুলিবিদ্ধ হয়। তাদেরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই ঘটনায় আমার নিরপরাধ এজেন্টকে পুলিশ মামলার প্রধান আসামি করেছে। অথচ অপর এজেন্ট ফাহাদকে মামলায় জড়ানো হয়নি। এটি সম্পূর্ণ রহস্যজনক একটি মামলায় আমার এজেন্টকে ফাঁসানো হয়েছে। সে এখনো হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে আমরা আহত তালহার নাম জানতে পেরে তাকে আসামি করেছি। মামলাটি তদন্ত চলছে। অজ্ঞাত নামা আসামিও আছে। তদন্তে ঘটনার সাথে জড়িতদের মামলায় অন্তর্ভূক্ত করা হবে। কেউ জড়িত না থাকলে আইনীভাবে সে হয়রানীর কোনো সুযোগ নেই।

Sharing is caring!

Loading...
Open