সুনামগঞ্জে প্রেমিকের সাথে আপত্তিকর ঘটনা জানাজানি হওয়ায় প্রেমিকার আত্মহত্যা…….!

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জে প্রেমিকের সাথে আপত্তিকর ঘটনা জানাজানি হওয়ার অপমাণ সইতে না পেরে শামীমা আক্তার নামের এক তরুণী আত্মহত্যা করলেন। সে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নের আক্তাপাড়া গ্রামের আক্তাপাড়া গ্রামের মৃত আল ইসলামের মেয়ে।

বুধবার (০১ জুলাই) দুপুরে ওই তরুণী পরিবারের লোকজনের অগোচরে নিজ শয়নকক্ষের তীরের সাথে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করে।

বিকেলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে ময়না তদন্তের জন্য লাশ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

পুলিশ, নিহতের পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় এলাকাবাসীর সুত্রে জানা যায়, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের আক্তাপাড়া গ্রামের আছন্দর আলীর ছেলে শাহিম আলমের সাথে একই গ্রামের আল ইসলামের তরুণী কন্যা শামীমা আক্তারের দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে উঠে। মঙ্গলবার গভীর রাতে শাহিম আলম শামীমার শয়নকক্ষে প্রবেশ করে রাত্রিযাপন করে। পরদিন বুধবার ভোররাতে শামীমা আক্তারের মা জাহানারা বেগম শয়ন কক্ষ্যে মেয়ের সাথে প্রেমিক শাহিম আলমকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় শাহিম আলমকে হাত পা বেধেঁ বাড়িতে আটকে রাখেন।

এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে একই গ্রামের প্রভাবশালী তছির আলীর ছেলে হাছন আলী ও তার লোকজন শামীমার বাড়িতে এসে জোর পুর্বক প্রভাবখাঁটিয়ে শাহিমকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান।

অপরদিকে, গ্রামবাসী ও আশেপাশের এলাকার লোকজন প্রেমিক-প্রেমিকার একই কক্ষে রাত্রী যাপন ও আপক্তির ঘটনার বিষয়টি জেনে ফেলায় নানা মুখরোচক সমালোচনা শুরু হলে অপমাণ সইতে না পেরে বুধবার দুপুরের পর কোন এক সময় পরিবারের লোকজনের অগোচরে নিজ শয়ন কক্ষের তীরের সাথে গলায় ওড়না পেচিয়ে শামীমা আত্মহত্যা করেন।

নিহত শামীমার মা জাহানারা বেগম জানান, আমি শয়ন কক্ষে শামীমার সাথে শাহিমকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে প্রতিবেশীদের সহায়তায় আটকে রেখে তার অভিভাবক ও সালিসের অপেক্ষায় থাকি কিন্তু গ্রামের প্রভাবশালী হাছন আলী তার লোকজন নিয়ে এসে বিষয়টি নিষ্পক্তি না করেই জোরপূর্বক শাহিমকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেলে এলাকায় নানা সমালোচনার অপমাণ সইতে না পেরেই আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। তিনি দাবি করেন আমার মেয়েকে আত্মহত্যার প্ররোচনায় বাধ্য করেছে শাহিম ও হাছন আলী।

উপজেলার আক্তারপাড়ার প্রেমিক শাহিম আলমের বড়ভাই সাবেক ইউপি সদস্য ছালেহ আহমদ’র নিকট এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি শামীমার সাথে তার ভাইয়ের প্রেমের সর্ম্পকের কথা স্বীকার করলেও কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনাটি লোকমুখে শুনেছেন বলে বুধবার রাতে জানান।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে উপজেলার আক্তারপাড়ার হাছান আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত ওনার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় কোন রকম বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার (ওসি) মো. ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বুধবার রাতে জানান, নিহতের পরিবারের লোকজন শামীমার আত্মহত্যার পেছনে প্রেমিক শাহিম ও হাছান আলীকে দায়ী করলেও এখনো কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। তিনি আরো বলেন, অভিযোগ পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open