‘ইহুদি রাষ্ট্র’ আইনের প্রতিবাদে ইসরায়েলি সাংসদের পদত্যাগ

ডেস্ক রিপোর্টঃ  বিতর্কিত ইহুদি রাষ্ট্র আইন পাসের বিরোধিতা করে ইসরায়েলের সংসদ থেকে পদত্যাগ করেছেন আরব বংশোদ্ভূত এক আইন প্রণেতা। ইসারায়েলি সংসদকে ‘বর্ণবাদী’ ও ‘ধ্বংসাত্মক’ আখ্যা দিয়ে পদত্যাগ করেন ৬৭ বছর বয়সী জাওহির বাহলুল নামের ওই আইন প্রণেতা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তার পদত্যাগের খবর নিশ্চিত করেছে। বিতর্কিত ওই আইনে দেশটির আনুষ্ঠানিক ভাষা হিসেবে আরবিকে বাদ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

গত ১৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) ইসরায়েলের পার্লামেন্টে ইহুদি জাতিরাষ্ট্র সংক্রান্ত ওই আইন পাস হয়। ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে পাস হওয়া ওই আইনে দখলীকৃত ফিলিস্তিনি ভূমিতে প্রতিষ্ঠিত ইসরায়েল রাষ্ট্রকে ঐতিহাসিকভাবেই ইহুদিদের জন্মভূমি আখ্যা দেওয়া হয়। বলা হয়, সঙ্গত কারণেই এখানকার মাটিকে নিজেদের দাবি করার অধিকার রয়েছে তাদের। আইনে অবিভক্ত জেরুজালেমকে নিজেদের রাজধানীর স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পাস হওয়ার পর ওই আইনের নিন্দা জানায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ফিলিস্তিনিসহ আরব নাগরিকেরা এই আইনকে বর্ণবাদী আইন আখ্যা দেয়। পরে এই আইনকে প্রত্যাখান করে মিসরও।

বিতর্কিত এই আইনে ইসরায়েলকে প্রথম ও একমাত্র ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বলা হয় ইসরায়েল শুধু ইহুদি নাগরিকদের রাষ্ট্র। এই আইন তৈরির কারণ হিসেবে বিবিসি বলেছে, কোনও কোনও ইসরায়েলি রাজনীতিবিদ মনে করেন নিজেদের প্রাচীন মাতৃভূমিতে ইহুদি রাষ্ট্র গঠন নীতি হুমকির মুখে পড়তে পারে।

তবে দেশটিতে বসবাস করা ২০ শতাংশ নাগরিক আরব বংশোদ্ভূত। তারা এই আইনকে তাদের জন্য মর্যাদাহানিকর বলে বিবেচনা করছে। এই আইনে তাদের জন্যও সমানাধিকার রাখা হলেও দীর্ঘদিন ধরেই তারা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক বলে বিবেচিত হয়ে আসছেন। তারা বৈষম্যের শিকার ও ইহুদি নাগরিকদের চেয়ে খারাপ আচরণের শিকার হওয়ার কথা বলে আসছেন।

পদত্যাগের কারণ হিসেবে ইসরায়েলের টেলিভিশন নেটওয়ার্ক রেসেতকে জাওহির বাহলুল বলেন, ‘ওই আইন ইসরায়েলে আরব জনগোষ্ঠীর সমানাধিকারকে হরণ করেছে।’

আইন পাসের দিনেই নেসেটের আরব বংশোদ্ভূত সাংসদেরা বিলের কপি ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদে চিৎকার করেন। অনেকেই তাদের কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।

শনিবার নেসেটের বিরোধী দল জাওনিস্ট ইউনিয়নর পার্টির সদস্য জাওহির বাহলুল বলেন, ‘আমি নেসেট থেকে পদত্যাগ করছি। আমি কি বেড়ার ওপর বসবো? আমি কি এই ধ্বংসাত্মক, বর্ণবাদী, উগ্রবাদী পার্লামেন্টকে বৈধতা দেব?’ তিনি বলেন, নেসেটের পদ রেখে তিনি তার নাতিকে মুখ দেখাতে পারছেন না।

১৯ জুলাই ওই আইন পাসের পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রশংসা করে একে দেশের ‘ঐতিহাসিক সময়’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘আধুনিক জাওনবাদী তত্ত্ব হার্জেল প্রতিষ্ঠার ১২২ বছর পর এই আইনের মাধ্যমে তার উদ্দেশ্য পরিষ্কার হয়েছে। এই আইনে আমরা আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার মৌলিক নীতি চিহ্নিত করতে পারবো।’

Sharing is caring!

Loading...
Open