ওসমানীনগরে ১২ বছরের কিশোরীর সাথে চল্লিশোর্ধ্বের বিয়ের চেষ্টা

ওসমানীনগর প্রতিনিধি :: ১২ বছরের কিশোরী মিলি (ছদ্মনাম)। ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। তার সাথে ৪৫ বছরের সুরুজ আলীর বিয়ের দিন ছিল আজ শুক্রবার। ওসমানীনগরের সাদীপুর ইউনিয়নের আবদুল্লাহপুর গ্রামের কিশোরী কনের পিত্রালয়ে শুরু হয় বিয়ের আয়োজন। বর ছিলেন একই গ্রামের সিকন্দর আলীর ছেলে সুরুজ আলী (৪৫)। উভয় পক্ষের অভিভাকদের সম্মতিতে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল থেকেই জাঁকজমকপূর্ণভাবে চলছিল বিয়ের সব আয়োজন। কিন্তু মানবাধিকার কমিশনের মাধ্যমে বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় কনের বাড়িতে উপস্থিত হন ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনিছুর রহমান। তিনি পন্ড করেন বিয়ের সব আয়োজন।

বরের চাচা (বর্তমান অভিভাবক) মাহমদ আলী ও কনের পিতা জানান, কম বয়সে বিয়ে দেয়ার কুফল আর আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়ে তাদের জানা ছিলনা। প্রশাসনের লোকজন আসার পর বিষয়টি জানতে পেরে তারা উভয়পক্ষের পক্ষ থেকে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দিয়েছেন। ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মানবাধিকার কমিশনের নেতৃবৃন্দের কাছে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন যে, কখনও আর কোন বাল্যবিয়ের আয়োজন করবেন না।

রহমতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিখিল দাশ বলেন, বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীর বিয়ের আয়োজনের খবর শুনে আমরাও মর্মাহত হয়েছি। অবশেষে ইউএনও বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেয়ার বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও আনন্দিত।

মানবাধিকার কমিশন ওসমানীনগর উপজেলা শাখার সভাপতি এস এম সুহেল বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কমিশনের উমরপুর ইউনিয়ন শাখার সভাপতির মাধ্যমে আমি খবর পাই। পরবর্তীতে সাদীপুর ইউনিয়ন শাখার নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে বর কনের তথ্য সংগ্রহ করে ইউএনও মহোদয়কে জানাই। পরবর্তীতে রাতেই কনের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে বিয়ের আয়োজন পন্ড করি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, এ উপজেলায় কোন অবস্থাতেই বাল্য বিয়ের আয়োজন করা যাবে না। এ সময় বরসহ উভয়পক্ষের অভিভাবক তাদের ভুল স্বীকার করেছেন। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কখন আর কোনো বাল্যবিয়ের আয়োজন করবেন না।

Sharing is caring!

Loading...
Open