নির্মম নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড……..

দেশের সড়ক-মহাসড়কে প্রতিদিন যে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে, তার সবই দুর্ঘটনা নয়। অনেক ঘটনাকেই নির্মম হত্যাকাণ্ড বলা যেতে পারে। অদক্ষ চালকদের হাতে যানবাহনের চাবি তুলে দেওয়ার পর যে দুর্ঘটনা ঘটে, তা কোনোভাবেই দুর্ঘটনা নয়। আবার ফিটনেসবিহীন যেসব যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়ছে, নিহত হচ্ছে মানুষ; কিন্তু হানিফ পরিবহনের গাড়ির চালক, সুপারভাইজার ও হেলপার মিলে যেভাবে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর পঞ্চম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী সাইদুর রহমান পায়েলকে হত্যা করেছে, তাকে কিভাবে বর্ণনা করা যায়? চট্টগ্রাম থেকে এই পরিবহনের বাসে ঢাকা আসছিলেন পায়েল। পথে যানজটে দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে তিনি নিচে নামেন। এ সময় বাসটি ছেড়ে দিলে পায়েল দৌড়ে বাসে ওঠার চেষ্টা করেছিলেন; কিন্তু গাড়ির দরজায় ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে যান তিনি। অভিযুক্ত গাড়িচালক, সুপারভাইজার ও হেলপার এ মর্মে স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে তারা মনে করেছিল পায়েল মারা গেছেন। তখন পায়েলকে তারা বাসেও তুলে নিয়েছিল। তাঁর নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হয় এবং তিনি ফ্লোরে লুটিয়ে পড়ায় এমন মনে হয়েছে তাদের। পায়েল মরে গেছে ভেবে তারা তাঁকে সেতু থেকে নদীতে ফেলে দেয়। বাসের অন্য যাত্রীরা তখন ঘুমিয়ে ছিল। পায়েলকে নদীতে ফেলে দিয়ে বাসটি ঢাকার দিকে চলে যায়। গত সোমবার সকালে পায়েলের মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। প্যান্টের পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের সূত্র ধরে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ। পরে গ্রেপ্তার করা হয় বাসের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারকে।

সাধারণত যেকোনো মানুষ দুর্ঘটনাকবলিত হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পায়েলের ক্ষেত্রে ঘটেছে তার ঠিক উল্টো। মৃত ভেবে তাঁকে ফেলে দেওয়া হয় নদীতে। আমাদের দেশের যানবাহন চালক, সুপারভাইজার ও হেলপাররা যে কতটা অমানবিক হতে পারে বা হয়ে গেছে, এই একটি ঘটনাই তার উদাহরণ নয়, এমন আরো অনেক ঘটনা আছে। সড়ক দুর্ঘটনায় মিরসরাইয়ের ৫১ শিশুর মৃত্যু, চট্টগ্রামে একটি পুরো কিশোর ক্রিকেট দলের সদস্যদের মৃত্যু, বরেণ্য চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের মৃত্যুর মতো হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে; কিন্তু কোনো প্রতিকার নেই। যানবাহনের মালিক-শ্রমিকদের বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া যায় না।

পায়েলের মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই মৃত্যুর জন্য যে তিনজন দায়ী, তাদের দ্রুত বিচার করতে হবে। দণ্ড দ্রুত কার্যকর করে উদাহরণ সৃষ্টি করতে হবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open