হেভিওয়েটে জমজমাট……..

সুরমা টাইমস ডেস্ক:: রাজশাহী সিটি নির্বাচন ঘিরে প্রচারণা এখন তুঙ্গে। এমনকি বৃষ্টিভেজা অবস্থায় চলছে গণসংযোগ। তবে বড় দুই দলের মেয়র পদপ্রার্থীর প্রচারণায় একটি পার্থক্য খুব স্পষ্ট। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর পক্ষে অনেক বড় নেতা মাঠে থাকলেও অনেকটাই নিঃসঙ্গ বিএনপি প্রার্থী। আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের পক্ষে কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে আশপাশের জেলাগুলো থেকেও মেয়র ও দলীয় বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এসে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছে নগরজুড়ে। সন্ধ্যার দিকে চলছে নির্বাচনী মিছিল ও পথসমাবেশ। এ ক্ষেত্রে যেন পিছিয়ে পড়ছেন বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। এবার বুলবুলের পক্ষে প্রচারণা চালাতে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে হাতে গোনা দু-তিনজন ছাড়া কাউকে দেখা যাচ্ছে না।

বিএনপির অনেকেই মনে করছেন, হয়তো গ্রেপ্তার আতঙ্কেই বাইরের নেতারা বুলবুলের জন্য প্রচারণায় অংশ নিতে আসছেন না। তার নেতিবাচক প্রভাবও পড়েছে। প্রচারণা হয়ে পড়েছে অনেকটাই বুলবুলকেন্দ্রিক। তাঁর অনুপস্থিতিতে নগরীর কোথাও মিছিল ও পথসভা হতে সাধারণত দেখা যাচ্ছে না। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারাও আসছেন নির্বাচনী প্রচারণায়। এমনকি ২০ দলের শরিক দলের নেতারাও নামবেন ২৬ জুলাই থেকে।

আ. লীগে প্রাণচাঞ্চল্য : অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থীর পক্ষে অন্তত ডজনখানেক কেন্দ্রীয় নেতা রাজশাহী ঘুরে গেছেন। এখনো অনেকেই আসছেন বা অনেকেই প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি এমপিরাও লিটনের প্রক্ষে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। ওয়ার্ড পর্যায়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।

সূত্র মতে, আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এস এম কামাল হোসেন ও নূরুল ইসলাম ঠাণ্ডু, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুস সাত্তার মাসুদ ও আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ার প্রমুখ। এর বাইরে রাজশাহীসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার এমপি, মেয়রসহ আওয়ামী লীগের জেলা কমিটির নেতারাও লিটনের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্নভাবে। এমনকি রাজশাহী-১ আসনের এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী, রাজশাহী-৩ আসনের এমপি আয়েন উদ্দিন, রাজশাহী-৫ আসনের এমপি কাজী আব্দুল ওয়াদুদ দারা এবং নাটোর সদর আসনের এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুল লিটনের প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন, যদিও আচরণবিধিতে এমপিদের জন্য নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়া বারণ আছে।

সূত্র মতে, লিটনকে নির্বাচিত করতে রাজশাহীতে এসে দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী-২ সাইফুজ্জামান শেখর। এর বাইরে রাজশাহীর অদূরে নগরীর হরিয়ান চিনিকলের রেস্ট হাউসে অবস্থান করে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। কেন্দ্রীয় এসব নেতার পদচারণে রাজশাহী আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ব্যাপক উজ্জীবিত হয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছে রাত দিন। মেয়র পদপ্রার্থী যখন তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নগরীর এ মাথা থেকে ও মাথা যাচ্ছেন, কেন্দ্রীয় নেতারা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মোড়ে মোড়ে ঘুরে লিটনের পক্ষে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে প্রচারণার শুরু থেকেই রাজশাহীতে অবস্থান করছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এস এম কামাল। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রায় প্রতিদিনই কেন্দ্রীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এসে রাজশাহী নগরীতে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন, আমাদের মেয়র পদপ্রার্থী লিটনের পক্ষে ভোট চাইছেন সাধারণ মানুষের কাছে। এতে মানুষের মাঝে একটা জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। এবার আর মানুষ অপপ্রচারে কান দিচ্ছে না। ফলে এবার লিটনের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।’

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নূরুল ইসলাম ঠাণ্ডু বলেন, ‘আমাদের নেতাকর্মীরা নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে ভাগ ভাগ হয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। লিটন মেয়র নির্বাচিত হলে রাজশাহীতে আগামী দিনে কী কী উন্নয়ন করা হবে, সেই বার্তাও সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে। ফলে এবার লিটনের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।’

এদিকে গতকাল রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ অডিটরিয়ামে রাজশাহী আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের বর্ধিত সভায় রাজশাহী মহানগর ও জেলার প্রায় সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অংশ নিতে দেখা যায়।

এদিকে প্রচারণার শেষ দিকে এসে গতকাল রাজশাহীতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক নেতাকে দেখা যায়। কিন্তু এর আগে একজন-দুজনের বেশি কোনো নেতাকে রাজশাহীতে তাঁদের মেয়র পদপ্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের পক্ষে প্রচারণা চালাতে দেখা যায়নি।

গতকাল সকাল থেকে বিএনপি প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেন বিএনপির চেয়ারপারসনের অন্যতম উপদেষ্টা ও সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু। এ ছাড়া বুলবুলের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার সময় দেখা যায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে। এর বাইরে রাজশাহীর আশপাশের জেলার বিএনপি ও দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাদেরও বুলবুলের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা যায়নি।

বিএনপিতে আতঙ্ক : নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একাধিক নেতা কালের কণ্ঠকে জানান, ২০১৩ সালের সিটি নির্বাচনে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের পক্ষে বাইরে থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় নেতারা এসে প্রচারণায় অংশ নিতেন। এমনকি আশপাশের জেলা থেকেও সাবেক এমপিসহ জেলার নেতারা এসে প্রচারণা চালাতেন। কিন্তু এবার সেসব নেতাকে দেখা যাচ্ছে না। প্রতিদিন কেন্দ্রের দু-একজন নেতা ছাড়া রাজশাহীর বাইরের কোনো নেতাদের প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে না।

দলের একটি সূত্র জানায়, গতবার রাজশাহী জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাদের মধ্যে যে স্বতঃস্ফূর্ততা ছিল এবার সেটিও দেখা যাচ্ছে না। এমনকি সাবেক এমপি নাদিম মোস্তফাকে মাঝখানে দু-তিন দিন প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা গেলেও তাঁকে গত দুই দিন থেকে আর দেখা যাচ্ছে না।

দলীয় কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এবার আশপাশের জেলাগুলো থেকে বিএনপির নেতারা আসেননি মূলত গ্রেপ্তার আতঙ্কে। পুরনো মামলা থাকায় এমনিতেই বিএনপির অনেক নেতা এখনো পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। নির্বাচনে প্রচারণা চালাতে এসে নতুন করে গ্রেপ্তার হতে চাইছেন না কেউ কেউ। এরই মধ্যে বুলবুলের পথসভায় ককটেল হামলার ঘটনায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং সহসাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন সওকতসহ আরো একাধিক নেতা।

তবে কেন্দ্রীয় নেতারা বুলবুলের প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন দাবি করে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন বলেন, ‘আমাদের নেতারা আসছে। কিন্তু প্রশাসন যেভাবে হয়রানি করছে তাতে নেতাকর্মীরা কিভাবে ঠিকমতো প্রচারণায় অংশ নেবে। ওয়ার্ড পর্যায়েরও অনেক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার আতঙ্কে প্রচারণায় অংশ নিতে পারছে না। এই অবস্থায় নির্বাচনী প্রচারণা সুষ্ঠুভাবে শেষ করা দায় হয়ে পড়েছে।’

Sharing is caring!

Loading...
Open