সিলেট সিটি নির্বাচন: নিরাপত্তায় বিশাল আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন নিয়ে যেন কোনো প্রশ্ন না ওঠে, ইসি সেটা নিশ্চিত করতে চায়। এজন্য সিসিক নির্বাচনের নিরাপত্তায় বিশাল আয়োজন করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে থাকছেন র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা। নির্বাচনী সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে নগরীতে র‌্যাবের ২৭টি এবং ১৪ প্লাটুন বিজিবি কাজ করবে। থাকছেন জুডিসিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরাও।

সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৩০ জন সদস্য নিয়ে একটি করে মোবাইল ফোর্স থাকবে। নগরীর প্রতি তিনটি ওয়ার্ড মিলিয়ে থাকবে একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স; এর সদস্য থাকবে ১০ জন। নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে র‌্যাবের ২৭টি টিম দায়িত্ব পালন করবে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, সিসিক নির্বাচনে ২৭টি ওয়ার্ডে ১৩৪টি ভোটকেন্দ্রে ৯২৬টি ভোটকক্ষ রয়েছে। এসব ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ‘সাধারণ’ তালিকায় থাকা কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২২ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যদিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ তালিকায় থাকা কেন্দ্রে থাকবেন ২৪ জন সদস্য। মূলত ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকেই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়। তবে ইসি এখনও সিসিকের গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র কতোটি, তা জানায়নি।

জানা গেছে, সাধারণ কেন্দ্রগুলোর প্রতিটিতে পুলিশের একজন এসআই, একজন এএসআই ও পাঁচজন কনস্টেবলসহ সাতজন সদস্য, একজন ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য, একজন পিসি (প্লাটুন কমান্ডার) আনসার সদস্য, একজন এপিসি আনসার সদস্য, ১২ জন লাঠিসহ আনসার সদস্য থাকবেন।

অন্যদিকে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর প্রতিটিতে পুলিশের একজন এসআই, একজন এএসআই ও পাঁচজন কনস্টেবলসহ সাতজন সদস্য, তিনজন ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য, একজন পিসি (প্লাটুন কমান্ডার) আনসার সদস্য, একজন এপিসি আনসার সদস্য, ১২ জন লাঠিসহ আনসার সদস্য থাকবেন।

ইসি সূত্রে জানা যায়, নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে ২৭টি মোবাইল ফোর্স থাকবে। পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যের সমন্বয়ে এর প্রতিটিতে সদস্য থাকবে ৩০ জন। এছাড়া প্রতি তিনটি ওয়ার্ডে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১০ জন সদস্য নিয়ে থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স। নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে স্ট্রাইকিং ফোর্সের সংখ্যা থাকবে ৯টি। কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সাথে সাথে এই স্ট্রাইকিং ফোর্স অ্যাকশনে যাবে।

এর বাইরে নগরীর প্রতি দুই ওয়ার্ড মিলিয়ে এক প্লাটুন বিজিবি মাঠে থাকবে। ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে এবং ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন, তা দেখবে বিজিবি। এছাড়া নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে টহল দেবে র‌্যাবের একটি করে টিম।

নির্বাচন নির্বিঘ্নে করতে এবং সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সিলেট সিটি নির্বাচনে নয়জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং নয়জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চারদিন দায়িত্ব পালন করবেন। ভোট গ্রহণের আগের দিন (২৯শে জুলাই), ভোটের দিন এবং পরবর্তী দুই দিন এরা মাঠে থাকবেন।

এদিকে, ভোট সুষ্ঠু করতে আগামী শুক্রবার (২৭শে জুলাই) রাত ১২টা থেকে বহিরাগতদের সিটি এলাকা ছাড়তে নির্দেশ দিয়েছে ইসি। এছাড়া ভোটের তিন দিন আগে থেকে ভোটের পরবর্তী তিন দিন পর্যন্ত লাইসেন্সধারী অস্ত্র বহনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এব্যাপারে জানতে চাইলে সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা প্রলয় কুমার সাহা বলেন, ‘একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন করতে চায় নির্বাচন কমিশন। এজন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হচ্ছে। নিরাপত্তা যাতে বজায় থাকে, সে জন্য র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি, আনসার মিলে দায়িত্ব পালন করবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে মাঠে থাকবেন ম্যাজিস্ট্রেটগণও।’

সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান সিসিক নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open