‘শেখ হাসিনা মাদার অব হিউম্যানিটি-সমাজকল্যাণ পদক’ দেবে সরকার

সুরমা টাইমস ডেস্ক :: শেখ হাসিনা মাদার অব হিউম্যানিটি-সমাজকল্যাণ পদক’ প্রবর্তন করছে সরকার। সমাজ উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৯ সাল থেকে চার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই পদক দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে একটি নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট, কার্যক্রম ও মূল্যায়ন) ড. মো. নাসির উদ্দিন বলেন,‘আগামী বছর ২ জানুয়ারি থেকে এ পদক দেওয়া হবে। নীতিমালাটি চূড়ান্ত করার পর জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) নীতিমালা অনুমোদন দিলে মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের জন্য উত্থাপন করা হবে। আশা করি, অল্প দিনের মধ্যেই এ প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী বছর থেকে পদক দেওয়া সম্ভব হবে।’

প্রস্তাবিত নীতিমালায় বলা হয়, সুবিধাবঞ্চিত অগ্রসর জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমন্বিত সম-উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায় বিচার পুনঃএকত্রীকরণ এবং আর্থসামজিক উন্নয়নে সমাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠা এ চারটি ক্ষেত্রে চার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পদক দেওয়া হবে।

তবে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোনও বছর প্রার্থী না পাওয়া গেলে পদক সংখ্যা কমানো বা পুরস্কারের নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত হলে পদক সংখ্যা বাড়ানো যাবে।

ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে যে পদক দেওয়া হবে তাতে একটি পদক তৈরি করা হবে ১৮ ক্যারেট মানের ২৫ গ্রাম সোনা দিয়ে। পুরস্কার পাওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে দুই লাখ টাকা দেওয়া হবে চেকের মাধ্যমে। এছাড়া একটি সম্মাননাও দেওয়া হবে।

পদক দেওয়ার জন্য প্রার্থী বাছাইয়ে প্রতিটি জেলায় একটি করে কমিটি থাকবে। জেলা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক এবং সদস্য সচিব থাকবেন জেলা সমাজসেবা অফিসার। এছাড়া সিভিল সার্জন, পুলিশ সুপার, জেলা শিক্ষা অফিসার, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, যুব উন্নয়নের উপ-পরিচালক ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা কমান্ডার সদস্য থাকবেন।

এই কমিটির বাছাইয়ের পর জাতীয় পর্যায়ের কমিটির কাছে মনোনীতদের তালিকা পাঠাতে হবে। জাতীয় পর্যায়ের কমিটিতে সমাজ কল্যাণমন্ত্রী সভাপতি এবং সদস্য সচিব থাকবেন সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। এছাড়া সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, যুব ও ক্রীড়া, তথ্য এবং সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সদস্য থাকবেন জাতীয় কমিটিতে।

পদক দেওয়ার জন্য প্রতিবছর ৫ জুলাই মনোনয়ন আহ্বান করা হবে। জেলা কমিটি বাছাই করে মনোনীত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পদকের জন্য সুপারিশ করবে ৩১ আগস্টের মধ্যে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ সরকারি প্রতিষ্ঠান মনোনয়ন চূড়ান্ত করবে ২৩ আগস্টের মধ্যে। জাতীয় কমিটি মনোনয়ন চূড়ান্ত করবে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে। জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বিবেচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাতে হবে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে। তবে নির্ধারিত এ তারিখ পরিবর্তন হতে পারে নীতিমালা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত। আর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে পদক দেওয়া হবে প্রতি বছর ২ জানুয়ারি।

প্রস্তাবিত নীতিমালায় এই পদক প্রদান এবং পদক অনুষ্ঠানে প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছে ২২ লাখ ৫১ হাজার ৫০০ টাকা। মরণোত্তর পুরস্কারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে নীতিমালায়।

Sharing is caring!

Loading...
Open