সিলেট নগরে শক্তি বাড়াচ্ছে জামায়াত…….!

নিজস্ব প্রতিবেদক::    সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীদের সাথে পাল্লা দিয়ে এক ডজন ওয়ার্ডে প্রার্থী দিয়েছে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ইসলামী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। চতুর্থ সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ১২টি ওয়ার্ডে ১৩ জন কাউন্সিলর প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এদিকে জামায়াতের সিলেট মহানগর শাখার আমির এহসানুল মাহবুব জোবায়ের লড়ছেন মেয়রপদে। ২০ দলীয় জোটের সাথে থাকলেও জামায়াত জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী দিচ্ছে। মেয়রপদের সাথে নগরীর ১২টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে লড়ছেন জামায়াত সমর্থক প্রার্থীরা।

চতুর্থ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থক কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন ৫১ জন। বিএনপি সমর্থক ৪০ জন। জমিয়ত-হেফাজত সমর্থক ১ জন। আর জাতীয় সংসদের বিরোধীদল জাতীয়পার্টির কোন প্রার্থী নেই। তবে মেয়রপদে দলটি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের পক্ষে মাঠে কাজ করবে বলে জানাগেছে। বর্তমান পরিষদে জামায়াতের কাউন্সিলর রয়েছেন নগরীর ২, ১৬, ২৪ ও ২৭ নং ওয়ার্ডে। এরা হচ্ছেন রাজিক মিয়া, আব্দুল মুহিত জাবেদ, সোহেল আহমদ রিপন ও আব্দুল জলিল নজরুল।

নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডে অংশ নিচ্ছেন ৯ জন কাউন্সিলর। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাত্র ১ জন। বাকি ৬ জন বিএনপির। যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ইসলামী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রয়েছেন দুই জন। তবে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও প্রচারণা রয়েছেন। এরা হচ্ছেন নিয়াজ মো. আজিজুল করিম ও মো. মুবিন আহমদ। এই ওয়ার্ডে আগে জামায়াত সমর্থিত কাউন্সিলর ছিলেন। বর্তমানে বিএনপি নেতা সৈয়দ তৌফিকুল হাদি এই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর। ২ নম্বর ওয়ার্ডে ৩ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। কাউন্সিলরপ্রার্থী মো. রাজিক মিয়া জামায়াত পন্থি। তবে তিনি নিজেকে স্বতন্ত্রপ্রার্থী বলে দাবি করে থাকেন। তিনি একাধিকবারের কাউন্সিলর। এবারও তিনি অংশ নিচ্ছেন নির্বাচনে। ৩ নম্বর ওয়ার্ডে লড়ছেন ৬ জন। তারা হলেন- এদের মধ্যে ৩ জন আওয়ামী লীগ ও ৩ জন বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। এই ওয়ার্ডে জামায়াতের কোন প্রার্থী নেই। ওয়ার্ডটিতে আওয়ামী লীগের অবস্থান বেশ শক্ত। বর্তমান কাউন্সিলর পদটি তাদের দখলে। বর্তমান কাউন্সিলর এস এম আবজাদ হোসেন এবারও অংশ নিচ্ছেন।

৪ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ৬ জন। এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী থাকলেও জামায়াতের কোন প্রার্থী নেই। বর্তমান কাউন্সিলর মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। তিনি টানা তিনবারের জনপ্রতিনিধি। ৫ নম্বর ওয়ার্ডেও লড়ছেন ৬ প্রার্থী। এই ওয়ার্ডে কাজী নজমুল আহমদ জামায়াত সমর্থিতপ্রার্থী। এই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর সাংবাদিক রেজওয়ান আহমদ টানা দুইবারের কাউন্সিলর। তিনি হ্যাটট্রিকের দৌড়ে আছেন। এবারও তার অবস্থান বেশ শক্ত। ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের একজন ও বিএনপির তিনজন প্রার্থী থাকলেও জামায়াতের কোন প্রার্থী নেই।

৭ নম্বর ওয়ার্ডে লড়ছেন মাত্র দু’জন প্রার্থী। এদের মধ্যে আফতাব হোসেন খান সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি ও সায়ীদ মো. আব্দুল্লাহ জামায়াত সমর্থক বলে জানাগেছে। ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জন আওয়ামী লীগ সমর্থক প্রার্থীর বিপরীতে একমাত্র জামায়াত সমর্থক প্রার্থী ফয়জুল হক। ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে জামায়াতের কোন প্রার্থী নেই। এই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা মখলিছুর রহমান কামরান।

১০ নম্বর ওয়ার্ডে ৬ জনের মধ্যে বর্তমান কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট সালেহ আহমদ চৌধুরী বিএনপি নেতা। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থক একাধিক প্রার্থীর সাথে লড়ছেন জামায়াত সমর্থক মো. আব্দুল হাকীম। ১১ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে বর্তমান কাউন্সিলর রকিবুল ইসলাম ঝলক আওয়ামী লীগ নেতা। এখানে জামায়াতের কোন প্রার্থী নেই। ১২ নম্বর ওয়ার্ডে ৬ প্রার্থীর মধ্যে বর্তমান কাউন্সিলর সিকন্দর আলী বিএনপি নেতা। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক প্রার্থীর সাথে লড়ছেন জামায়াত নেতা মো. আব্দুল কাদির।

১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে বর্তমান কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা শান্তনু দত্ত সনতু। এই ওয়ার্ডে বিএনপি প্রার্থী থাকলেও জামায়াতের কোন প্রার্থী নেই। ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৬ জনের মধ্যে বিএনপি সমর্থক প্রার্থী নজরুল ইসলাম মুনিম। তিনি বর্তমান কাউন্সিলর। অন্যপ্রার্থীদের সকলেই স্বতন্ত্রপ্রার্থী। ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে বর্তমান কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ সমর্থক মো. ছয়ফুল আমিন বাকের ছাড়া রয়েছেন বিএনপি নেতা সাবেক কাউন্সিলর মো. মুজিবুর রহমান। এই ওয়ার্ডে জামায়াত সমর্থক কোন প্রার্থী নেই।

১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৯ জন প্রার্থীর জমিয়ত-হেফাজত সমর্থিত প্রার্থী মো. একরামুল আজিজ। আব্দুল মুহিত জাবেদ জামায়াত ঘরানার প্রার্থী। জাবেদ বর্তমান কাউন্সিলর। ২৭ টি ওয়ার্ডের মধ্যে একমাত্র ব্যতিক্রম ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে। এখানে কোন রাজনৈতিক দল সমর্থিত প্রার্থী নেই। ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থক প্রার্থী থাকলেও জামায়াতের কোন প্রার্থী নেই। এই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর এবিএম জিল্লুর রহমান।

১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে আফজালুর রহমান জামায়াত ঘরানার স্বতন্ত্র প্রার্থী। ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর দিনার খান হাসু। তিনিও প্রার্থী। ২০ নম্বর ওয়ার্ডে বেসরকারীভাবে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা মো. আজাদুর রহমান আজাদ। ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ প্রার্থীর মধ্যে ২ জন স্বেচ্ছাসেবকলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। অন্য দু’জন বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত।

২২ নম্বর ওয়ার্ডে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থক প্রার্থী থাকলেও নেই কোন জামায়াত সমর্থক প্রার্থী। এই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর পদটিও বিএনপির দখলে রয়েছে। বর্তমান কাউন্সিলর সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন বিএনপি নেতা। ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে দুই জন ও বিএনপি থেকে দুই জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এই ওয়ার্ডে জামায়াতের অবস্থান ততোটা শক্ত নয়। ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৩ প্রার্থীর মধ্যে সোহেল আহমদ রিপন বিগত দিনে সরাসরি জামায়াতের রাজনীতি করতেন। এখন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। তিনি বর্তমান কাউন্সিলর। এর আগে এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদটি ছিল আওয়ামী লীগের দখলে। গত নির্বাচনে সেটি চলে যায় জামায়াতের দখলে।

২৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ প্রার্থীর মধ্যে জামায়াতের প্রার্থী হচ্ছেন কফিল উদ্দিন আলমগীর। বর্তমান কাউন্সিলর তাকবির ইসলাম পিন্টু। তিনি আওয়ামী লীগ ঘরানার কাউন্সিলর। এর আগে ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন যুবলীগ নেতা আশিক আহমদ। এবারও এরা দু’জন প্রার্থী হয়েছেন। ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৫ জনের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থক একমাত্র প্রার্থী হচ্ছেন মোহাম্মদ তৌফিক বক্স লিপন। তিনি বর্তমান কাউন্সিলর। বাকি ৪ জনই বিএনপি সমর্থক। এই ওয়ার্ডে জামায়াত সমর্থক কোন প্রার্থী নেই। এর আগের নির্বাচনে কাউন্সিলর পদটি বিএনপির দখলে ছিল। ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন জামায়াত নেতা আব্দুল জলিল নজরুল। তিনি টানা দুই বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর। এর আগে এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা আজম খান।

Sharing is caring!

Loading...
Open