আরিফের কৌশলে পরাজিত সেলিম……..

স্টাফ রির্পোটার ::
আসন্ন সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দল এবং জোটের প্রার্থীর কারণে বেশ বেকায়দায় ছিলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। তাই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম এবং জামায়াতের প্রার্থী সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির এহসানুল মাহবুল জুবায়েরকে থামাতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন তিনি। গতকাল সেই কৌশলের ‘বলি’ হয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বদরুজ্জামান সেলিম। তিনি আরিফুল হক চৌধুরীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এরপরও আরিফের পথের কাটা পরিষ্কার হয়নি। কারণ জামায়াতের প্রার্থী এখনো আরিফকে সমর্থন দেননি। আর জামায়াত যদি সিসিক নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়ায় তাহলে আরিফের জয় নয়; পরাজয়ের কারণ হতে পারে। তাই এবার জামায়াতের প্রার্থীকে নিজের অনুকূলে নিতে হয়তো ভুল করবেন না আরিফ।
যদি জামায়াত প্রার্থী এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন না। তিনি দলীয় সিদ্ধান্তেই প্রার্থী হয়েছেন।
এদিকে, সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ঘিরে সবচেয়ে বেশি যে ব্যক্তি আলোচিত-সমালোচিত ছিলেন তিনি হলেন বদরুজ্জামান সেলিম। বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে মেয়র পদে তিনি ছিলেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী। মনোনয়ন জমা দেয়া থেকে শুরু করে প্রতীক বরাদ্দ এবং গণসংযোগ সবকিছুতেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন সেলিম। গণমাধ্যমকে এই বিদ্রোহী প্রার্থী বারবারই বলেছিলেন যত বাধাই আসুক না কেন প্রার্থীতা প্রত্যাহার করবেন না তিনি। কিন্তু তার এই প্রতিশ্রুতি রীতিমতো তীরে এসে তরী ডুবার মতো। নির্বাচনের ঠিক ১১ দিন আগে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীকে সমর্থন দেন সেলিম। অবশ্য বিভিন্ন বক্তব্যে আলোচনায় থাকলেও সেলিমের নির্বাচনী মাঠ ভালো ছিলো না শুরু থেকেই। হয়তবা তাই তিনি আরিফুল হক চৌধুরীকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। অবশ্য এমন ঘোষণার পর সেলিমকে সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ ফিরিয়ে দিয়েছে বিএনপি। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে আরিফুল হকের বাসায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার কথা বলেন সেলিম। তিনি বলেন, বিএনপি আমার রক্তে, আমার শিরায় শিরায়। কালকে যখন বিএনপি নেতারা আমাকে বাসায় এসে অনুরোধ করেছেন সেটি আমি ফেলতে পারিনি। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের প্রতি সম্মান জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। এই সময় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান বলেন, বদরুজ্জামান সেলিমকে আবারও সিলেট মহানগর বিএনপির স্বপদে পুনর্বহাল করা হল। সংবাদ সম্মেলনে বদরুজ্জামান সেলিম তার মা ও স্ত্রীকে নিয়ে উপস্থিত হন। এছাড়াও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, কেন্দ্রীয় নেতা নাজিম উদ্দিন আলম, কলিম উদ্দিন মিলন, মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, ডা. শাহরিয়ার হোসেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত সাদেক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে বদরুজ্জামান সেলিম বলেন, আল্লাহর হুকুমে প্রার্থী হয়েছিলাম আল্লার হুকুমে আবার আরিফকে সমর্থন জানালাম। এর আগে বদরুজ্জামান সেলিম আরিফের ব্যাপারে বিভিন্নরকম অভিযোগ তুলেন। আরিফুল হক চৌধুরীকে দলের জন্য ক্ষতিকারক, দলের সুবিধাভোগী হিসেবেও উল্লেখ করেন। আরিফকে দেয়া দলের মনোনয়ন মেনে নিতে পারেননি বদরুজ্জামান সেলিম। নাগরিক কমিটির ব্যানারে মেয়রপদে প্রার্থী হন তিনি।
মনোনয়ন জমা দেয়ার আগে বদরুজ্জামান সেলিম বলেন, দলের অধিকাংশের দাবি ছিল আমাকে মনোনয়ন দেওয়ার। কিন্তু দলীয় হাইকমান্ড দলীয় নেতাকর্মীদের মতামতের বাইরে গিয়ে আরিফুল হক চৌধুরীকে মনোনয়ন দিয়েছে। আমি এর প্রতিবাদ সাথে সাথেই জানিয়েছি। আশা করি আগামী ৩০ জুলাই নির্বাচনের দিন ভোটের মাধ্যমেই জনগণ ও দলীয় নেতাকর্মীরা তাদের জবাব দেবে। তিনি বলেছিলেন, তিনি নির্বাচিত হয়ে সিলেটে নারায়ানঞ্জের নির্বাচনের রেকর্ড গড়বেন।
সেলিম বলেছিলেন, তার সাথে সিলেট বিএনপি পরিবারের বেশির ভাগ নেতাকর্মী রয়েছেন। তবে তারা প্রকাশ্যে আসবেন না। গোপনে ব্যালটের মাধ্যমে আমার পক্ষে কাজ করবেন। তৃণমূল থেকে আমার প্রার্থিতার ব্যাপারে জোর দাবি জানানো হয়েছিল। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবো। নির্বাচনের দিনই প্রমাণিত হবে বিএনপি ও সিলেট নগরবাসী মেয়র হিসেবে কাকে চায়।
সিসিক নির্বাচনে নাগরিক কমিটির প্রার্থী থাকা সেলিম সবসময়ই বলেছেন তিনি নির্বাচিত হলে সিলেট নগরীর সৌন্দর্য বর্ধন করে পরিকল্পিত তিলোত্তমা নগরী গড়ে তুলতে কাজ করবেন। নির্বাচিত হলে তিনি কেমন ‘তিলোত্তমা’ নগরী গড়ে তুলবেন এ বিষয়েও সেলিম বলেছিলেন, দল থেকে মনোনয়ন না দেওয়ায় আমি এবার নাগরিক কমিটি থেকে প্রার্থী হয়েছি। ৩৯ বছরের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ৩৬০ আউলিয়ার পুণ্যভূমি সিলেটকে একটি তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়তে চাই। এজন্য আমি সিলেটবাসীর দোয়া, ভালোবাসা, সমর্থন ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি। তিনি বলেছিলেন, সিলেট সিটিতে যা উন্নয়ন হয়েছে তা অপরিকল্পিতভাবে হয়েছে। আমি নির্বাচিত হলে পরিকল্পিতভাবে সিলেট নগরী গড়ে তুলবো।
তিনি দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর বলেছিলেন, ৩৯ বছর যে দলের জন্য রাজনীতি করলাম আজ সেই দলই আমাকে কুল্লে খালাস করে দিলো। অবশ্য এবার নির্বাচনে দলের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নিজের পদটি তিনি ফিরে পেয়েছেন।
তবে হঠাৎ করে অনড় সেলিম নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় তার কোনো প্রতিশ্রুতিই আপাতত আলোরমুখ দেখছে না-তা পুরোপুরিই নিশ্চিত।

Sharing is caring!

Loading...
Open