অচিরেই রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করা হবে

সুরমা টাইমস ডেস্ক::   মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, অচিরেই আল বদর, আল শামস, রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করা হবে।

তিনি বলেন, রাজাকারের পরিবারের সদস্যরা যাতে সরকারি চাকরী না পায়। তারা যেন এদেশে ২য় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে থাকে, সেজন্য যা যা করণীয় এ সরকার সবকিছু করতে বদ্ধপরিকর।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তান নাট্যমঞ্চে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন মঞ্চ আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা প্রতিনিধি সভায় তিনি এসব কথা জানান।

মোজাম্মেল হক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে যারা কথা বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের সফলতাকে অস্বীকার করেন হলোকাষ্ট এ্যাক্ট বা জেনোসাইড ‘ল’ প্রবর্তন করে তারে মুখ চিরদিনের জন্য বন্ধ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলার অধিকার কোনো নাগরিককে থাকতে পারে না।

এসময় তিনি আরও বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের শুধু শাস্তি পেলে হবে না। তাদের সম্পত্তি বায়েজাপ্ত করতে হবে। তাদের সন্তানেরা যাতে সরকারি চাকরী না পায় আমাদের সেই ব্যবস্থাও করতে হবে।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি যদি একদিনের জন্য ক্ষমতায় আসে দেশ রক্তের নদী হয়ে যাবে। এবারের বিএনপি ২০০১ সালের থেকেও ভংয়কর। ক্ষমতায় আসলে আপনাদের আবার বাড়ি ছাড়া করবে। দেশে পকিস্তানি ভাবধারা সৃষ্টি করবে। একদিনেই দেশে সন্ত্রাসের লীলা ভূমিতে পরিনত করে ছাড়বে।

মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্যে কাদের বলেন: আপনাদের কি মনে আছে? বিএনপি ক্ষমতায় এসে গ্রামে গ্রামে ত্রাস সৃষ্টি করেছিলো। সংখ্যালঘুদের গ্রাম ছাড়া করেছিল। বিএনপির লোকেরা মহিলাদের ধর্ষণ করেছিল। পুকুরে বিষ ঢেলে মাছ পুড়িয়ে ফেলছিল। বসত ঘর আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছিল। বাবা মারা গেছে ছেলে গ্রামে গিয়ে বাবার জানাযা পড়েতে পারেনি, তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে। এটাই হচ্ছে বিএনপি। সেই ইতিহাস কি আপনার ভুলে গেছেন?

তিনি বলেন: দেশে আর ২০০১ সালের মত নীল নকশা মার্কা নির্বাচনের স্বপ্ন সফল হবে না। ২০০১ সালের মত যেনো নির্বাচন না হতে পারে। ২০১৩-১৪ সালের মত আগুন সন্ত্রাসের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে না হয়। সেজন্য সকল মুক্তিযোদ্ধাকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তির বিষবৃক্ষ উৎপাটন করতে হলে মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আরও বক্তৃতা করেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন তাজুল ইসলাম তাজ প্রমুখ।

Sharing is caring!

Loading...
Open