সুনামগঞ্জে সিএনজি চালক হত্যাকারী ৫ খুনী গ্রেফতার

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:: সিলেটের সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জে সিএনজি চালক সাকিব হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত ৫ ঘাতককে ১৬ ঘন্টার ব্যবদানে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এ সময় ওই সিএনজিও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার (১৪ই জুলাই) ভোররাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলার জগজীবপুর গ্রামের মাওলানা বোরহান উদ্দিনের ছেলে আবু হানিফ সোহেলকে (৩৫) গ্রেফতার করে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা পুলিশ।

গ্রেফতারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আবু হানিফ সোহেল পুলিশকে তথ্য দেয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা পুলিশ জেলা ডিবি পুলিশ যৌথভাবে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ইকবালনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪ ঘাতককে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত ঘাতকরা হলেন- ইকবাল নগর গ্রামের আব্দুল হাসিমের ছেলে বাপ্পারাজ (২৮), একই গ্রামের মৃত তাজিদ আলীর ছেলে জালাল উদ্দিন (৩০), মল্লিকপুর এলাকার বাসিন্দা মো. কামাল উদ্দিনের ছেলে হুমায়ূন আহমদ (৩২।

এদিকে একই সময়ে সিলেট জালাবাদ এসএমপি এলাকার বাদে আলী গ্রামের মৃত সফাত উল্লার ছেলে শেখ মো. আনা মিয়াকে (৩৫) পূর্বদশা গ্যারেজ থেকে সিএনজিসহ গ্রেফতার করে পুলিশ।

ওই হত্যাকান্ডে গ্রেফতারকৃতরা পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। তারা হত্যাকান্ডের লোমহর্ষক তথ্য দিয়েছে।

জবানবন্দিতে তারা জানায়, গত বুধবার (১১ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টায় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের টুকেরগাও গ্রামের সিকন্দর আলীর ছেলে নিহত সাকিব উদ্দিনকে পৌর শহর এলাকা থেকে সিএনজিটি ভাড়া করে আবু হানিফ সোহেল গংরা।

এ সময় সোহেল তার অস্থায়ী বাসা সদর উপজেলার মাইজবাড়ি গ্রামে তার বাসায় চালকসহ সিএনজিটি নিয়ে যায়। পরে তারা প্রায় ৩০ মিনিট সময় ব্যয় করে অন্যান্য ঘাতকদের নিয়ে সিলেটের দিকে যাত্রা শুরু করে। সিলেট যাওয়ার পথে দিরাই রাস্তার পাশে রাত সাড়ে ১১টায় একটি চা দোকানে তারা চা পান করে। চা খেয়ে তারা আনুমানিক রাত ১২টার দিকে সিলেটের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন।

এক সময় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা এলাকা অতিক্রম করে থানা থেকে ১ কি.মি. দূরে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহা সড়কের সদরপুর (কামরূপদনং) এলাকায় সিএনজিটি থামাতে চালক সাকিব উদ্দিনকে বলেন আবু হানিফ সোহেল।

সোহেলের কথামত চালক সিএনজিটি থামালে গাড়িতে থাকা ঘাতকরা চালক সাকিব উদ্দিনকে ধরে মারপিট করে গুরুতর আহত করে। পরবর্তীতে তারা চালকের দু’হাত ও পা বেঁধে ফেলে। হাত বাঁধা অবস্থায় আবারও মারপিট করে ঘাতকরা।

মার খেতে খেতে এক সময় চালক সাকিব উদ্দিন নিস্তেজ হয়ে পড়লে ঘাতকদের মধ্যে একজন গাড়িটি দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা ও উপজেলার অতিক্রম করে থানা থেকে ১ কি.মি. দূরে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহা সড়কের জয়কলস-উজানীগাও ব্রীজের উপর থেকে হাত বাঁধা অবস্থায় আহত চালক সাকিব উদ্দিনকে ঘাতকরা সুরমা নদীতে ফেলে দেয়।

ঘাতকরা আরও জানায়, পরে তারা আবার গাড়িটি নিয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে সিলেট জালালাবাদ থানা এলাকার বাদে আলী গ্রামের গ্যারেজ মালিক শেখ মো. আনা মিয়ার গ্যারেজে সিএনজিটি ১ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে ঘাতকরা।

এ ঘটনায় নিহত সাকিবের বড় ভাই বাদী হয়ে শনিবার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানায় ঘাতকদের বিরোদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। মামলা নং-০৮, তাং ১৪.০৭.২০১৮ইং।

মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেকার উদ্দিন চৌধুরী।

Sharing is caring!

Loading...
Open