সিলেট আইএইচটি ছাত্রাবাসে হামলার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক ::

নগরীর পূর্ব শাহী ঈদগাহস্থ ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি সিলেট ‘আইএইচটি’তে বহিরাগতদের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার সকালে ক্যাম্পাস এলাকায় শিক্ষার্থীরা এই বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেদ্ধাজ্ঞার পাশাপাশি ছাত্রাবাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বসবাসের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি তুলেন।

আইএইচটির শিক্ষার্থী জুনায়েদুর রহমান জানান, গতকাল বুধবার রাত ৮টার দিকে ছাত্রাবাসের ডায়নিং এর মিল চালু হলে ২০/২৫ জন সন্ত্রাসী ছাত্রাবাসে ঢুকে শিক্ষার্থীদের কাছে চাঁদা দাবি করে। এদের নেতৃত্ব দেয় আমিনুল ইসলাম সুয়েব (২৫), সাঈদ চৌধুরী (২৪), ফারদিন জাকারিয়া (২৫), মঈনুল ইসলাম পাবেল (২৩), ফারুক আহমদ (২৪), মেহদী হাসান মাহি (২০)।

শিক্ষার্থীরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা শিক্ষার্থীদের উপর চড়াও হয়। তখন সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। পরে সন্ত্রাসীরা একত্রিত হয়ে অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে দফায় দফায় ছাত্রাবাসে হামলা করে। এসময় তারা চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। হামলায় আহত হয় প্রায় ১০/১৫ জন সাধারণ শিক্ষার্থী।

জুনায়েদ অভিযোগ করে বলেন, বিগত প্রায় দু’তিন বছর ধরে ছাত্রাবাসে সিট নিয়ে বাণিজ্য এবং শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে চাঁদা আদায় করে আসছিল বহিরাগত এই সকল সন্ত্রাসীরা। কলেজ কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো শিক্ষার্থী ছাত্রাবাসে সিট পেলে বহিরাগতদের চাঁদা না দিলে সে সিটে উঠতে পারত না। এমনকি ছাত্রাবাসের ডায়নিং হতে এদের প্রতিমাসে ১০/১৫ হাজার টাকা চাঁদা না দিলে নানাভাবে শিক্ষার্থীদের হয়রানি এবং মারধর চালাতো।

তিনি বলেন, গত রমজানে যখন ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীরা কমে যায় তখন তারা ছাত্রাবাসে অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ঢুকে ল্যাপটপ, মোবাইল, মোটা অংকের টাকা এবং মূল্যবান আসবাবপত্র লুট করে। পরে এ ব্যাপারে এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়রী (জিডি) করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

অনেকদিন ধরে এসব বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসন এর কোনো সুষ্ঠু সমাধান করতে পারেনি।

এ বিষয়ে পুলিশকে অবহিত করা হলে রাতেই এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের এসআই আকবর হোসেন, এসআই শাহানুর আলম এবং এসআই দেলোয়ার হোসেন এর নেতৃত্বে কয়েকবার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

সার্বিক বিষয়ে ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির প্রিন্সিপাল ডা: আজিজ আহমেদ মালিকের সাথে কথা বললে তিনি জানান, বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত। এ ব্যাপারে পুলিশের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি আইনিভাবে দেখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আবারো ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ফেরদৌসী শাহনাজ বলেন, ক্যাম্পাসের সামনে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের আস্তানা উচ্ছেদ করে দেওয়া হচ্ছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open