রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি ব্যাংক পেল ১৮৫০ কোটি টাকা

সুরমা টাইমস ডেস্ক:: বিদায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট থেকে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মূলধন সংকট মোকাবেলায় এক হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ছাড় করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্র মালিকানাধীন ৯টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এ অর্থ পেয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে সোনালী ও জনতা ব্যাংক পেয়েছে ৪০০ কোটি টাকা করে, রূপালী ব্যাংক পেয়েছে ৩০০ কোটি টাকা।

অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে সংকটে পড়া ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি মেটাতে অর্থ মন্ত্রণালয় বাজেট থেকে প্রতিবছরই টাকা দিয়ে থাকে। ব্যাংকগুলো রক্ষায় মূলধন জোগান দেওয়া জরুরি বিবেচনা করে বাজেটে এ জন্য অর্থ বরাদ্দও রাখা হয়। তবে অনিয়ম করে মূলধন সংকটে পড়া ব্যাংকগুলোকে এভাবে টাকা দেওয়ার সমালোচনা করেন ব্যাংক খাত বিশ্লেষকরা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, চলতি অর্থবছর শেষ হওয়ার তিন দিন আগে গত বুধবার রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে এক হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। এর বাইরে ১৫০ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনকে (বিএইচবিএফসি)। ৩ শতাংশ সুদে পাওয়া এই ১৫০ কোটি টাকা বিএইচবিএফসি শুধু গৃহ নির্মাণ ঋণ বিতরণে ব্যবহার করবে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্র মালিকানাধীন তিন বাণিজ্যিক ব্যাংককে মূলধন ঘাটতি মেটাতে দেওয়া হয়েছে এক হাজার ১০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংক ৪০০ কোটি, জনতা ব্যাংক ৪০০ কোটি আর রূপালী ব্যাংক পেয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংককে মূলধন ঘাটতি মেটাতে ৪০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। আর রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংককে মূলধন ঘাটতি পূরণ ও সুদ ভর্তুকি বাবদ দেওয়া হয়েছে ১৯৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এদিকে কর্মসংস্থান ব্যাংককে ৫০ কোটি, পলী সঞ্চয় ব্যাংককে ৯০ কোটি আর আনসার ভিডিপি ব্যাংককে ১০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে পরিশোধিত মূলধন বাবদ। এ ছাড়া পরিশোধিত মূলধনে সরকারি অংশ বাবদ ২১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে গ্রামীণ ব্যাংককে।

এভাবে জনগণের করের টাকায় মূলধন জোগান দেওয়া নিয়ে অর্থনীতিবিদদের সমালোচনা থাকলেও আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটেও মূলধন পুনর্গঠন ও বিনিয়োগ খাতে সরকার দেড় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে বলে জানা গেছে। রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণে গত ছয় বছরে সরকার ১৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) বিভিন্ন সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছে, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহির অভাব ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে ব্যাংকগুলোতে অনিয়ম, দুর্নীতি হচ্ছে। এভাবে মূলধন সরবরাহ করে ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করছে সরকার। সংস্থাটি অনেকবারই ব্যাংক খাতের জন্য একটি কমিশন গঠনের সুপারিশ করেছে। অর্থমন্ত্রীও বিভিন্ন সময় কমিশন গঠনের কথা বললেও বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলে দেন, বর্তমান সরকারের আমলে কোনো কমিশন হচ্ছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ শেষে রাষ্ট্র মালিকানাধীন সাত ব্যাংকে মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়, মূলধন ঘাটতি পূরণের সবচেয়ে উত্তম উপায় হচ্ছে নিট মুনাফা অর্জন করে তা বণ্টনের পরিবর্তে বোনাস শেয়ার ছাড়া। কিন্তু ব্যাংকগুলো তা পারছে না। বিভাগটির মতে, আরেকটি ভালো উপায় হচ্ছে খেলাপি ঋণ কমিয়ে ঘাটতি কমানো। এ ব্যাপারেও ব্যাংকগুলোর তেমন সাফল্য নেই।

Sharing is caring!

Loading...
Open