এখনও দেশে অভুক্ত থাকে দুই কোটি মানুষ……..

সুরমা টাইমস ডেস্ক::   দেশে দারিদ্র্যের হার কমার কথা উল্লেখ করে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ‘দেশে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর হার ২০০৫ সালের ৪০ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে নেমে ২৪ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশে এসেছে। হতদরিদ্রের হার নেমেছে ১২ দশমিক ৯ শতাংশে। তারপরও বাংলাদেশে ৪ কোটি মানুষ দরিদ্র। ২ কোটি লোক অভুক্ত থাকে। পুষ্টি ঠিকভাবে পায় না। তার চেয়ে বড় কথা, দেশে আয়-বৈষম্য বেড়েছে বিপুলভাবে।’

সোমবার জাতীয় সংসদে আসন্ন অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করার প্রস্তাব

বেকারদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে তাদের বয়স ৩৫ বছর ও অবসরের বয়স ৬২ বছর করার প্রস্তাব করছি।’ এ বিষয়ে সংসদ ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কষণ করেন তিনি।

মাদকের গডফাদারদের বিচারের আওতায় এনে তাদের মৃত্যুদণ্ডের দাবি করে তিনি বলেন, ‘জঙ্গিবাদের পর মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। বন্ধুকযুদ্ধ এর সমাধান নয়। প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধের।’

‘নির্মূল করতে হবে দুর্নীতি। চুনোপুটিতে থামলে চলবে না, জালে আটকাতে হবে রাঘব রোয়ালদের। তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে,’- বলেন মেনন।

চাকরি বাণিজ্য, ঘুষ দুর্নীতিতে মানুষক তিক্ত-বিরক্ত

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে আসবে। গর্জন করবে, বর্ষাতে পারবে না। এতিমের টাকা কেবল নয়, আর অন্য সব অপরাধের কারণেও বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলন দূরে থাক, বিএনপির আহ্বানে কোনো আন্দোলনেই জনগণ মাঠে নামবে না। তাই বলে আমাদের নিজের অন্যায়গুলোর বিষয়ে আমরা যেন চোখ বুজে না থাকি। বাড়ি-জমি-প্রতিষ্ঠান দখল, মানুষের সঙ্গে অন্যায় আচরণ, টেন্ডারবাজি, চাকরি বাণিজ্য, ঘুষ দুর্নীতি মানুষকে তিক্তবিরক্ত করে ফেলেছে। অসৎ ব্যবসায়ী, অসৎ আমলা, অসৎ রাজনীতিবিদের চক্র সব জায়গায় তৎপর। সুবচন ক্রমাগত নির্বাসনে। উন্নয়ন যেমন জনগণকে আস্থাশীল করে, তেমনি এ ধরনের আচরণ মানুষকে দূরে সরিয়ে দেয়। আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধানমন্ত্রী সবাইকে হুঁশিয়ারি করেছে এ ব্যাপারে।’

তিনি বলেন, ‘২০০৯-১০ সালের বাজেট বক্তৃতায় আমি সেই বাজেটকে ‘প্রো-পুত্তর’ প্রো পিপল বলেছিলাম। কিন্তু তারপর প্রতিবছরই বাজেট বড়লোকদের দিকে হেলে পড়েছে। এবার আরও বেশি। তাদের জন্য বড় বড় ছাড় দেয়া হয়েছে। গরিব-মধ্যবিত্তের সঞ্চয়কে টান দেয়ার চেষ্টা হয়েছে।’

অথচ ব্যাংক সেক্টরে চলছে অবাধ লুটপাট

কর্পোরেট ট্যাক্স কমানোয় সেসরকারি ব্যাংকগুলোর মালিকরা সবচেয়ে সুবিধা পেয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অথচ এই ব্যাংক সেক্টরে চলছে অবাধ লুটপাট। ঋণখেলাপ ও অর্থপাচারের মহোৎসব। আর এই লুটপাটের খেসারত দিতে হচ্ছে দেশের মানুষের। করের টাকা থেকে ব্যাংক ঘাটতি মূলধন পূরণ করা হচ্ছে।’

সরকারের বিভিন্ন উন্নয়মমূলক কাজের বর্ণনা দিয়ে মেনন বলেন, ‘কিন্তু সবকিছু থেকে যাবে, উল্টে যাবে, যদি বিএনপি-জামায়াত জঙ্গিরা একবার ক্ষমতার চাবিকাঠি হাতে পায়। রক্তগঙ্গা বহাবে তারা, তাদের ষড়যন্ত্র থেকে নেই। থেমে নাই ওহাবীবাদ-মওদুদীবাদীদের ষড়যন্ত্র।’

তিনি দাবি করেন, ‘যা কিছু বাঙালির, তার বিরুদ্ধেই তাদের জেহাদ।’

Sharing is caring!

Loading...
Open