বড়লেখা ও বিয়ানীবাজারের ২ তরুণ নিখোঁজ : পরিবারে উৎকণ্ঠা

বড়লেখা প্রতিনিধি:: লিবিয়া হয়ে অবৈধভাবে সাগরপথে বাংলাদেশি নৌকায় তরুণদের ইউরোপ যাত্রা যেন থামছে না। দালালরা বৈধভাবে ইউরোপ পাঠানোর চুক্তিতে স্বপ্নে বিভোর তরুণদের নিকট থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে অবৈধ পথেই তাদেরকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠাচ্ছে। আর এতে বৃহত্তর সিলেটের অনেক টগবগে তরুণ মাঝ সমুদ্রে নিখোঁজ হচ্ছে। এদের অনেকের সলিল সমাধি ঘটলেও দালালরা তা গোপন রাখে। গত সপ্তাহে (মঙ্গলবার) লিবিয়া হয়ে ইউরোপ যাওয়ার পথে সাগরে নৌকাডুবিতে ২১৫ জনের সলিল সমাধি ঘটে।

এসময় বড়লেখা ও বিয়ানীবাজার উপজেলার দুই তরুণ নিখোঁজ হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে তাদেরই পরিবার। এরা হচ্ছে বড়লেখার নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়নের চান্দগ্রামের মাওলানা ইব্রাহিম আলীর ছেলে শিহাব উদ্দিন ফারুক (২৩) ও বিয়ানীবাজার পৌরসভার ফতেহপুর এলাকার ক্বারী আব্দুল খালিকের ছেলে হারুনুর রশীদ ইমন (৩০)। এদের বেঁচে থাকা নিয়ে সংশয় রয়েছে। নৌকাডুবির ঘটনায় বড়লেখা ও বিয়ানীবাজারের একাধিক তরুণ নিখোঁজ রয়েছে বলে সুত্র জানিয়েছে।

সরেজমিনে গেলে দুই পরিবারে শোকের মাতম চলতে দেখা গেছে। সাগরে নিখোঁজ ইমনের ছোটভাই ঝুমন জানান, গত ৩ মাস পূর্বে তার ভাই দালালের মাধ্যমে লিবিয়া পাড়ি জমান। ইউরোপ পাঠানোর উদ্দেশ্যে জনৈক দালাল মোটা অঙ্কের টাকা নেয়। গত সোমবার দালাল অনেকের সাথে তার ভাইকেও সাগর পথে নৌকায় ইউরোপ পাঠায়। পরদিন সাগরে নৌকাডুবিতে ইউরোপ যাত্রী ২১৫ জনের সলিল সমাধির খবর পেয়েছেন। এরপর থেকে ভাইয়ের কোন খোঁজ পাচ্ছেন না। দালালের ফোন বন্ধ। এতে পরিবারের লোকজন তার বেঁচে থাকা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন।

বড়লেখার চান্দগ্রামের নিখোঁজ তরুণ ফারুকের বড়ভাই মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা সালিক আহমদ জানান, নৌকায় ইউরোপ যাত্রার পর থেকে তার ভাইয়ের সাথে আর যোগাযোগ করতে পারেননি। দালালও ফোন বন্ধ করে রেখেছে। ভাইয়ে ভাগ্যে কি ঘটেছে তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। ইউরোপ সাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় বড়লেখা ও বিয়ানীবাজারের একাধিক তরুণ নিখোঁজ রয়েছে বলে সুত্র জানিয়েছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open