কমলগঞ্জে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙ্গন, পানিবন্দি ৫শ’ পরিবার

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:: টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে ও পাহাড়ি ঢলে মনু নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সাথে সাথে কমলগঞ্জে ধলাই নদীরও পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে পৌরসভার ৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

ধলাই নদীর ২টি স্থানে বাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করছে লোকালয়ে ও ফসলি জমিতে। কমলগঞ্জ উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধের ৯টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অবস্থার আরও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নিম্নচাপের কারণে গত দু’দিন যাবত অবিরাম বৃষ্টির ফলে মঙ্গলবার (১২ জুন) ভোর থেকে মনু ও ধলাই নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুপুরে শরীফপুর ইউনিয়ন কার্যালয় সংলগ্ন মনু সেতু এলাকায় পানি বিপদ সীমার ২৫ সে. মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঢলের পানির আঘাতে মনু সেতু সংলগ্ন প্রতিরক্ষা বাঁধের উপর স্থাপিত বালির বস্তা ভেসে যেতেও শুরু করে। ঝুঁকিপূর্ণ মনু সেতুর উত্তর দিকের গাছের পাইলিংও ভেঙ্গে যেতে শুরু করেছে।

মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় কমলগঞ্জের ধলই সেতু এলাকায় ধলাই নদের পানি বিপদ সীমার অনেক উপর দিয়ে প্রাবহিত হয়।

কমলগঞ্জে কর্মরত পানি উন্নয়ন বোর্ডের পর্যবেক্ষক আব্দুল আউয়াল জানান, এখানে ধলাই নদীর পানি বিপদ সীমার ২৫ সে:মি: উপর দিয়ে প্রাবাহিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যেভাবে অবিরাম বৃষ্টি হচ্ছে ও তাতে ধলাই নদীতে আরও পানি বেড়ে যাবে।

মঙ্গলবার (১২ জুন) বেলা আড়াইটায় কমলগঞ্জ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের করিমপুর গ্রাম এলাকায় ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করছে লোকালয়ে ও ফসলি জমিতে। দ্রুত গতিতে পানি বেড়েই চলেছে।

কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো: জুয়েল আহমদ এ ভাঙ্গনের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এর ফলে এ গ্রামের আড়াই’শ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

অপরদিকে, মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টায় কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের সুরানন্দপুর গ্রামে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধে প্রায় ১০০ ফুট এলাকার একটি নতুন ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়। এ ভাঙ্গনে ধলাই নদেও পানি দ্রুত গতিতে গ্রামে ও ফসলি জমিতে প্রবেশ করছে। ফলে সুরানন্দপুর গ্রামে নতুন করে আরও ২৫০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সব মিলিয়ে কমলগঞ্জ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের করিমপুর ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নের সুরানন্দপুর গ্রামে ৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এ পানি আবার আরও দুটি ইউনিয়নের কমপক্ষে ১০টি গ্রামকে প্লাবিত করবে। দুটি ভাঙ্গন দিয়ে পানি প্রবেশ করায় কমলগঞ্জ মৌলভীবাজার সড়কের করিমপুর ও সুরানন্দপুর এলাকা ২ ফুট পানিতে নিমজ্জিত হয়।

কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর, ইসলামপুর কমলগঞ্জ সদর ও আদমপুর ইউনিয়নে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধের ৯টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। মাধবপুর ইউনিয়নের হীরামতি এলাকায় ধলাই নদীর পুরানো ভাঙন দিয়ে পানি বের হচ্ছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক ও কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো: জুয়েল আহমদ মঙ্গলবার বিকাল পৌনে ৫টায় সুরানন্দপুর নতুন ভাঙ্গন এলাকা ও করিমপুর এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী ধলাই নদীর বিপদ সীমার ৩৮ সে:মি: ও চাতলাপুর সেতু এলাকায় মনু নদী বিপদ সীমার ৮০ সে:মি: উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান।

তিনি বলেন, কোন বরাদ্ধ না থাকার পরও নিজ দায়িত্বে এই দুটি নদীর ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিরক্ষা বাঁধে ইতিপূর্বে প্রায় ৮ কোটি টাকারও সংস্কার কাজ করেছিলেন। দুটি নদীই পাহাড়ি খরগ্রোতা বলেই এখানে পানির গ্রোতোর আঘাত বেশী হয়। এজন্য প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে যায়।

Sharing is caring!

Loading...
Open